kalerkantho

ঋণ করে পথ কুকুরদের মাংস-ভাত খাওয়ান তিনি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ আগস্ট, ২০১৯ ১৭:১৪ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ঋণ করে পথ কুকুরদের মাংস-ভাত খাওয়ান তিনি

রাস্তার প্রায় চারশ কুকুরকে প্রতিদিন দুপুরে মাংস-ভাত খাওয়ান তিনি। এজন্য প্রতি মাসে তার ব্যয় হয় প্রায় ৪০ হাজার টাকা। কয়েক বছর ধরে প্রতিদিন কুকুরদের এভাবে খাইয়ে চলেছেন তিনি। 

এ ধরনের কাজে তার পরিবার ও প্রতিবেশীরা বিরোধিতা করেছেন। তার পরেও হাল ছেড়ে দেননি। অন্যদিকে, রয়েছে প্রচুর অর্থব্যয়। সে কারণে তিনি ব্যাংক থেকে তিন লাখ ৩০ হাজার টাকা ঋণ নেন। 

এছাড়া নিজের প্রায় দুই লাখ টাকার সোনার গয়না বিক্রি করে কুকুরদের খাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। রাস্তার কুকুরদের চিকিৎসার জন্যও তিনি প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন। এতসব করেও তিনি পথকুকুরদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কল্যাণী বি ব্লকের স্নাতকোত্তর সম্পন্ন গৃহবধূ নীলাঞ্জনা বিশ্বাস বড় হয়েছেন খড়গপুরে। তার বাবা খড়গপুর আইআইটির সাবেক অধ্যাপক। পশু-পাখির প্রতি তার ভালোবাসা ছোট থেকেই। নিজের ব্যক্তিগত সঞ্চয় তিনি ব্যয় করে চলেছেন পথকুকুরদের জন্য। 

নীলাঞ্জনা বিশ্বাস জানান, পথ কুকুরদের প্রতিদিন দুপুরে মুরগির মাংস আর ভাত খাওয়ানো হয়। এজন্য তিনজন কর্মী রয়েছে। তাদের সম্মানি বাবদ ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। কর্মী সঞ্জীব দাস টোটো চালিয়ে কল্যাণী শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে কুকুরের খাবার নিয়ে যান।

পাশাপাশি, নীলাঞ্জনাদেবী নিজের স্কুটারে করেও একইভাবে কিছু স্থানে গিয়ে খাবার দেন। কখনো কখনো মায়ের সঙ্গে যায় ছেলে আশুতোষ‌ও।

জানা গেছে, বাড়িতে কুকুরের রান্নার জন্য আলাদা ঘর রয়েছে। রয়েছে মাংস রাখার জন্য ফ্রিজ। অন্যদিকে, কুকুরদের চিকিৎসার দিকটি নিজেই দেখেন নীলাঞ্জনা। শুধু পশু নয়, দুঃস্থ মানুষকেও সাহায্য করেন তিনি। 

এক বৃদ্ধা ভিক্ষুককে কিছুদিন আগে পোশাক দিয়ে বৃদ্ধাশ্রমে ভর্তি করে দেন। অন্য ঘটনায় মাথায় ঘা হওয়া এক পাগলকে দু’দিন চিকিৎসাও করান তিনি। যদিও পরে ওই পাগল ব্যক্তি হারিয়ে যায়। দীপাবলিতে দুঃস্থ পরিবারদের আতসবাজি, মোমবাতি, খাবার এবং পোশাক বিতরণও করেন তিনি। 

তিনি বলেন, ঋণ করেও রাস্তার কুকুরদের খাইয়ে চলেছি। কিন্তু আমি মধুমেহ ও হার্টের রোগী। ভবিষ্যতে এদের কী হবে তা নিয়ে আমি চিন্তিত। কল্যাণী পুরসভার কাছে কুকুরগুলোর পুনর্বাসনের আবেদন করে সাড়া পাইনি। যদি পুরসভা এদের জন্য কিছু করে তবে শান্তি পাব।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা