kalerkantho

শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে বেতনের বেশিরভাগ খরচ করেন এই তরুণী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ আগস্ট, ২০১৯ ১৬:৩৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে বেতনের বেশিরভাগ খরচ করেন এই তরুণী

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের তরুণী ইঞ্জিনিয়ার নিজের বেতনের ৭০ শতাংশ ব্যয় করেন দু’টি শহর পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে। জানা গেছে, শহর দু’টি পোস্টার মুক্ত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। 

২৫ বছর বয়সী তেজস্বী পোদাপতি জানান, রাস্তা ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করার কাজকে সমাজ কী চোখে দেখবে তা নিয়ে আমার মা উদ্বিগ্ন থাকলেও বাবার দ্বিধাহীন পূর্ণ সমর্থন পেয়েছি আমি।

পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে এসেছে বাধা। কিন্তু তার পরেও নিজের বিশ্বাসে আর কাজে অটল থেকেছেন তিনি। সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে তিনি পড়েন, অন্ধ্রপ্রদেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া শহর প্রকাশম জেলার অঙ্গোল। আর তার জন্মভূমি সেই স্থান। এই খবরে স্বাভাবিকভাবেই ব্যথিত ও বিচলিত হন তার মতো সংবেদনশীল এক তরুণী।

তিনি বলেন, শুধু সরকারের ওপর সব দোষ না চাপিয়ে আমি নিজেও কিছু করার সিদ্ধান্ত নিলাম আমার শহরের উন্নয়নের জন্য। গবেষণা চলাকালীন আমি বেশ বুঝতে পারলাম, অপরিচ্ছন্নতা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ আমার শহরের পিছিয়ে পড়ার একটি বড় কারণ। 

তিনি আরো বলেন, বেঙ্গালুরুর দ্য আগলি ইন্ডিয়ান ইনিশিয়েটিভের ব্যাপারে আমি আগেই শুনেছি। এটি একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, যারা রাস্তাঘাট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার কাজ করে। এ রকম আমার অঙ্গোলেও যদি ভাবা যেত! কিন্তু এ কাজের জন্য তো বিস্তর লোকবল চাই। কোথা থেকে পাব এত স্বেচ্ছাসেবক?

মন ভেবে ভেবে যখন সারা হচ্ছিলেন এই পরিবেশ-বান্ধব তরুণী, তখন তার বাবা তাকে সমর্থন করলেন, দিলেন আশ্বাস। বন্ধুদের কাছে প্রস্তাব নিয়ে যেতে ৮০ শতাংশ গররাজি হলো। বাবা বললেন, কেউ কেউ তো রাজি হয়েছে, এই-ই অনেক।

২০১৫ সালের ১৫ অক্টোবর ড. এ পি জে আবদুল কালামের জন্মদিনে ১০ জন সঙ্গী নিয়ে অঙ্গোলের একটি উদ্যান পরিষ্কার করার কাজে নেমে পড়েন তেজস্বী পোদাপতি। যাত্রা শুরু করল ‘ভূমি ফাউন্ডেশন’। 

প্রথমে লোকজন তাকে আর তার এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ে হাসি ঠাট্টা, ব্যঙ্গ বিদ্রূপ করত। কিন্তু তিনি তো ‘তেজস্বী’। কাজেই উত্তর দিলেন। কাজ চালিয়ে যেতে লাগলেন এক গভীর বিশ্বাসে! শহরের দেয়ালে দেয়ালে, গাছে গাছে টাঙানো সমস্ত পোস্টার, ব্যানার খুলে নেওয়া হলো, জঞ্জালের স্তূপ সরানো হলো, রাস্তাঘাটের চেহারা বদলে গেল কিছু মানুষের পরিশ্রমে আর উদ্যমে। সবটাই তেজস্বীর নেতৃত্বে। শুরু হলো ‘ওয়ান গোল, ক্লিন অঙ্গোল’ প্রকল্প ।

তেজস্বী বলেন, প্রথমে ১০ জন স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে শুরু করি, এখন আমাদের সঙ্গে প্রায় ৩৫০০ জন। কিন্তু সহজ ছিল না এই যাত্রা। এক বার কোনো জায়গা পরিষ্কার করে এলে সেখানে আবারও জমে আবর্জনার স্তূপ। কিন্তু বারবার তারা পরিষ্কার করে আসে একই জায়গা, যতক্ষণ না মানুষ নোংরা করা থামে। 

প্রথম দিকে এই কাজে তার বাবা অর্থ সাহায্য করতেন তাকে। তেজস্বী বলেন, চাকরি পাওয়ার পর থেকে আমি নিজেই নিজের বেতন থেকে টাকা দিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনি। আমার আয়ের ৭০ শতাংশ অর্থ এই কাজেই ব্যয় করি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা