kalerkantho

স্ত্রী বহুগামী বিরল মানসিক রোগে; পাশে থেকে স্বামীর নজির স্থাপন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ আগস্ট, ২০১৯ ১৩:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্ত্রী  বহুগামী বিরল মানসিক রোগে; পাশে থেকে স্বামীর নজির স্থাপন

প্রতীকী ছবি

মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়েছেন স্ত্রী। বিরল মানসিক সমস্যার ঘোরে অন্য পুরুষের সঙ্গে নিজের অজান্তেই শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে স্বামীর। ভুল বুঝে স্ত্রী নিজেই স্বামীর থেকে 'তালাক' চেয়েছিলেন। কিন্তু স্ত্রী-অন্তপ্রাণ যুবক শুধু বলেছিলেন, 'ভালবাসি, ভালবাসি'। আর স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য সর্বত্র ছুটেছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত এসএসকেএমের 'ইনস্টিটিউট অব সাইকায়াট্রি'-তে এসে কয়েক মাসের চিকিৎসার পরে আপাতত সুস্থ সেই তরুণী। হাসি ফুটেছে স্বামীর মুখেও। এমনটাই ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশে। 

ইনস্টিটিউট অব সাইকায়াট্রি-র কর্মকর্তা প্রদীপ সাহা জানান, ওই তরুণী আক্রান্ত হয়েছিলেন নিম্ফোম্যানিয়াক ডিজ়িজ উইথ সাইকোটিক ডাইমেনশনে। ওই রোগে শরীরে অস্বাভাবিক যৌন চাহিদা তৈরি হয়। তরুণীর ক্ষেত্রে দ্বৈত সত্তা কাজ করত। মনস্তত্ত্বের এই পর্যায়কে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না। 

তিনি বলেন,আমার দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় এ ধরনের মাত্র দুটি ঘটনা পেয়েছি।

ওই যুবক জানান, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে তাঁদের পরিচয়। এরপরে বিয়ের সিদ্ধান্ত। 

তিনি বলেন, বিয়ের সাত মাস সব ঠিক ছিল। একদিন হঠাৎ সে খুব হিংস্র হয়ে যায়। দেখে মনে হবে, কেউ যেন ভর করেছে

তাঁর দাবি, কারণ অনুসন্ধানে নেমে জানতে পারেন, আট বছর বয়সে তাঁর স্ত্রী চোখের সামনে এক বালককে লরির চাকায় পিষ্ট হতে দেখেছিলেন। তার পর থেকে যাবতীয় অদ্ভুত আচরণের সূত্রপাত। 

তিনি বলেন, ছায়া নামে এক বান্ধবীর গল্প স্ত্রী প্রায় বাড়ির লোকদের বলতেন। পরে খোঁজ নিয়ে জেনেছি, ছায়া নামে কেউ ছিল না। সবটাই কল্পনা। কয়েক মাস অন্তর হঠাৎ করে উগ্র হয়ে যেত। সেই সময়ে আত্মহত্যার চেষ্টাও করত।

স্ত্রীর অতীত জানার পরে তাঁকে মনোরোগ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান যুবক। তবে লাভ হয়নি। স্ত্রীর অসুস্থতা প্রভাব ফেলেছিল দাম্পত্য জীবনে। 
যুবকটি জানান, তিনি দুবাইয়ে থাকতেন। স্ত্রী থাকতেন দেশে। দুজনের মধ্যে ব্যবধান কমলে যদি সমস্যার সমাধান হয়, সেই আশায় স্ত্রীকে নিয়ে তিনি দুবাইয়ে চলেও যান। কিন্তু সমস্যা মেটেনি। তিনি জানতে পারেন তাঁর অনুপস্থিতিতে একাধিক পুরুষের সঙ্গে স্ত্রীর শারীরিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। 

তিনি বলেন, স্ত্রী বলেছিল কেউ যেন তাঁকে ডাকত। ঘরের মধ্যে অন্য কেউ রয়েছে বলে চিৎকার করত। আবার ঘোর কেটে গেলে নিজেই কেঁদে বলত সে আমার জীবন নষ্ট করে দিয়েছে। তাকে যেন আমি ছেড়ে দিই।

প্রদীপ সাহা জানান, অসুস্থ মানুষটি ঘোরের মধ্যে কী করছেন, কার সঙ্গে যাচ্ছেন, তা বোঝার মতো অবস্থায় থাকেন না। তিনি যে বিপদে পড়তে পারেন সেই ভাবনাও আসত না। একে বলে অডিটরি হ্যালুসিনেশন। মেয়েটি মনে করত কেউ তাকে ডাকছে। অবচেতন মনে অবাঞ্ছিত দৃশ্য তার চোখের সামনে ভেসে উঠত।

যুবকটি জানান, স্ত্রীকে সুস্থ করতে দেশের বড় বড় হাসপাতালে ছুটেও কোনও উপকার পাননি। এসএসকেএমের 'ইনস্টিটিউট অব সাইকায়াট্রি' তে গত মে মাস চিকিৎসার পরে তরুণী এখন সুস্থ। 

তিনি বলেন, অন্যজনের সঙ্গে সম্পর্কের কথা জেনে প্রথমে ১৩ দিন কথা বলিনি। যখন বুঝলাম ও অসুস্থ, তখন অভিমান দূরে রেখে ভালবেসেই বুকে জড়িয়ে ধরেছি। 

প্রদীপ সাহা যুবকের এ ধরনের আচরণের প্রশংসা করে বলেন, রোগী যা করছেন, সেটা শুধুই অসুখের বশে তা বুঝতে হবে পরিজনদের। এক্ষেত্রে ওই যুবক যেভাবে স্ত্রীর পাশে থেকেছেন তা সত্যিই দৃষ্টান্তের।

সূত্র : আনন্দবাজার 

 

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা