kalerkantho

মঙ্গলবার। ২০ আগস্ট ২০১৯। ৫ ভাদ্র ১৪২৬। ১৮ জিলহজ ১৪৪০

২৫ টি গাড়ি ছিল, নিঃস্ব অবস্থায় শেষ জীবন কাটে বিলাসী এই রাজার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ আগস্ট, ২০১৯ ১৩:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২৫ টি গাড়ি ছিল, নিঃস্ব অবস্থায় শেষ জীবন কাটে বিলাসী এই রাজার

তিন পাহাড় বা গিরির কারণে জায়গার নাম ‘তিগিরিয়া’। আজকের উড়িষ্যার কটকের একটি ব্লক। ব্রিটিশ ভারতের তিগিরিয়া রাজন্য এস্টেট। জঙ্গলে ঘেরা এই ছোট্ট জনপদে ঘনবসতির কারণ নাকি ছিল রাজার সুশাসন। 

অথচ সেই এস্টেটের শেষ রাজা ব্রজরাজ ক্ষত্রিয় বীরবর চমুপতি সিংহ মহাপাত্র ৯৪ বছর বয়সে মারা যান কপর্দকহীন হয়ে। তার পরিণতি ছিল নিঃস্ব, করুণ ও রিক্ত।

ব্রজরাজের জন্ম ১৯২১ সালের ১৫ অক্টোবর। তার বাবা সুদর্শন ক্ষত্রিয় বীরবর চমুপতি সিংহ ছিলেন তিগিরিয়ার রাজা। ১৯৪০ সালে রায়পুরের রাজকুমার কলেজ থেকে পাস করার পরে ব্রজরাজ বিয়ে করেন। তার স্ত্রী রানি রসমঞ্জরী দেবী ছিলেন বিহারের সোনপুরের রাজকুমারি।

১৯৪৩ সালে সিংহাসনে অভিষেক হয় ব্রজরাজের। অতি-বিলাসী জীবন কাটাতে অভ্যস্ত ছিলেন তিনি। সংবাদমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তরুণ বয়সে কার্যত আসক্ত ছিলেন সুরা ও ধূমপানে। শৌখিন ছিলেন গাড়ি নিয়ে। বাজারে নিত্যনতুন গাড়ি এলেই কেনার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকতেন।

অতীতের এই রাজা জানিয়েছিলেন, এক কালে গাড়ি ও জিপ মিলিয়ে তার বাহন ছিল মোট ২৫টি। পরিচারকের সংখ্যা ৩০ জন। ছিল শিকারের নেশাও। তার দাবি, তিনি রাজা থাকাকালীন ১৩টি বাঘ, ২৮টি লেপার্ড এবং একটি পুরুষ হাতি মেরেছিলেন। গ্রামবাসীদের ফসল নষ্ট করছিল বলেই নাকি হাতিটি মারতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।

১৯৪৭ সালে তিগিরিয়া স্বাধীন ভারতের অংশে‌ পরিণত হয়। লোপ পায় দেশীয় এস্টেট পরিচয়। রাজা ব্রজরাজ হয়ে যান সাধারণ ভারতীয় নাগরিক। ১৯৬০ সালে ৭৫ হাজার টাকার বিনিময়ে রাজ্য সরকারকে বিক্রি করে দেন তার প্রাসাদ। তার অনুরোধ ছিল, যেন সেখানে বিদ্যালয় তৈরি করা হয়।

ক্ষমতা, পদ ও প্রাসাদহীন ব্রজরাজের কাছ থেকে এরপর চলে যান তার স্ত্রীও। ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় ব্রজরাজ ও রসমঞ্জরীর। দারিদ্রের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছিলেন না রসমঞ্জরী। ব্রজরাজের সঙ্গে সেভাবে যোগাযোগ রাখতেন না সন্তানরাও।

বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো জীবনে ব্রজরাজের সম্বল বলতে কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া সামান্য ভাতা। পরে ১৯৭৫ সালে সেই ভাতাও বন্ধ করে দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। এরপর এক সময়ের প্রজাদের দয়া দাক্ষিণ্যই ছিল ব্রজরাজের বেঁচে থাকার ভরসা।

কিছু দিন থাকতে গিয়েছিলেন বড় ভাইয়ের কাছে। তিনিও ছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের সাবেক দেশীয় রাজা। কিন্তু সেখানেও মন বসল না ব্রজরাজের। ফিরে এলেন তিগিরিয়ায়। 

২০১৩ সালে ব্রজরাজের কাছে যাওয়া সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিনিধি জানিয়েছিলেন ভগ্নপ্রায় ঘরে থাকতেন সাবেক রাজা। আসবাব বলতে কয়েকটি প্লাস্টিকের চেয়ার। ছাদ গলে পড়ছে পানি। বিছানার আব্রু ত্রিপল।

এই অবস্থায় জীবনের শেষ দিনগুলো কেটেছিল ব্রজরাজের। তার ঘরে ইতস্তত পড়েছিল কিছু বই আর অনেকটা গোবর। কিন্তু মনে কোনো খেদ ছিল না। জানিয়েছিলেন, রাজা থেকে প্রজা হয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই।

ব্রজরাজের ছয়জন সন্তানের এক জন মারা যান তার জীবদ্দশাতেই। বাকি তিন ছেলে এবং দুই মেয়েও যোগাযোগ রাখতেন না। নিঃসঙ্গ অবস্থায় মারা যান মুকুটহীন রাজা; ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা