kalerkantho

মঙ্গলবার। ২০ আগস্ট ২০১৯। ৫ ভাদ্র ১৪২৬। ১৮ জিলহজ ১৪৪০

ডাক্তার পলাশের মৃত্যুর প্রত্যক্ষদর্শী

'চিৎকার শুনলাম, আগাইয়েন না, কারেন্ট! কারেন্ট! পানিতে পা ঝিম মেরে উঠলো'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ আগস্ট, ২০১৯ ১২:৫০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'চিৎকার শুনলাম, আগাইয়েন না, কারেন্ট! কারেন্ট! পানিতে পা ঝিম মেরে উঠলো'

বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে আছেন ড. পলাশ। দেখলেও যেন কিছুই করার নেই...আশপাশে শুকনো বাঁশ বা কাঠ বা কিছু একটা পেতে হবে...নইলে তাকে যিনি স্পর্শ করবেন তারও একই হাল হবে

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর গ্রিন রোডে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পলাশ দে (২৪) নামের এক তরুণ চিকিৎসক নিহত হন। তিনি গ্রিন লাইফ হাসপাতালেই কর্মরত ছিলেন। গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালের গলিতে বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুতের খুঁটির তার ছিঁড়ে পড়ে। এতে খুঁটিও বিদ্যুতায়িত হয়। পলাশ ব্যাংকে যাওয়ার সময় সেখানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সে ঘটনা নিজের চোখেই দেখেছেন তানভীর আহমেদ ভুইয়া নামের এক ব্যক্তি। তার কপালেও হয়তো একই ঘটনা ঘটতে যাচ্ছিল। তবে কোনমতে রক্ষা পেয়েছেন তিনি। ঘটনাটি নিজের ফেসবুক পোস্টে প্রকাশ করেছেন।  

"অনেক বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেলাম। 

গ্রীনরোড দিয়ে সাইন্সল্যাব যাচ্ছিলাম। বৃষ্টির কারণে রাস্তায় অনেক পানি। তাই রিকশা পাচ্ছিলাম না। রাস্তার পানিও প্রায় হাঁটু সমান, গাড়ি আসা-যাওয়া করলে ঢেউয়ের কারণে তার উপরে উঠে যায়।

গ্রীন লাইফ হসপিটাল পাড় হয়ে এবং গ্যাস্ট্রো লিভার হসপিটাল এর গলিতে পানিটা পার হবো কিন্তু, ওই সময় একটা প্রাইভেট কার আসছিল। গাড়ির ঢেউটা শেষ হলে আমি গলিটা পার হবো তার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। পিছন থেকে এই ভাই বলছিল 'ভাই আগান না...'। 

লম্বা লম্বা করে দ্বিতীয় কদমটা ফেলতেই পানিতে কারেন্ট সেন্স করলাম। ঝিমঝিম করছে পুরো শরীর। আর গলির ভিতরে থেকে ৪-৫ জন লোক জোরে জোরে চিৎকার করে বলছে ভাই সামনে যাবেন না কারেন্ট... কারেন্ট...। 

ড. পলাশ 

বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুতের তার তরুণ চিকিৎসকের মৃত্যু

আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি কোনরকমে লাফ দিয়ে গলির ভিতরে ঢুকে যাই, কিন্তু আমার পিছনের এই লোক তার হাঁটার গতি কন্ট্রোল করতে পারেনি । অথবা এখানেই তার মৃত্যু লেখা ছিল। আমি এই স্পট থেকে সর্বোচ্চ ১ মিটার দূরে ছিলাম যেখান থেকে আমি ফিরে এসেছি। কিন্তু এই ভাই তারপরের কদমটা ফেলেছে এবং এই আর্থিং ধরেছে। দুই থেকে তিন মিনিট ধরে থাকার পর এই লোকটি পানিতে পড়ে গেল। কেইবা যাবে তাকে বাঁচাতে? রাস্তায় পানি সব ভেজা এবং আশেপাশে শুকনো বাঁশ কাঠ কিছুই নেই। তারপরও এক লোক কোথা থেকে যেন একটা কাঠের টুকরা এনে কোন রকমে তাকে টেনে পাশের একটা দোকানের ভিতর রাখলো।

সেখানে তার জামা-কাপড় ছাড়িয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করলাম এবং পাশেই গ্যাস্ট্রো লিভার হসপিটাল এ নিয়ে গেলাম। সেখানে ডিউটি ডাক্তার কিছুক্ষণ চেষ্টা করলেন এবং ঘোষণা দিলেন সে মৃত। 

ঢাকা এখন মৃত্যুপুরীর অপর নাম। কিছু মানুষের অবহেলার কারণে তাজা তাজা প্রাণ গুলো অকালে ঝরে যাচ্ছে। দায়ভার কার?"

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা