kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

নদী ভাঙনের বর্ণনা

আমার জীবনের ভয়াবহ ট্রাজেডি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ জুলাই, ২০১৯ ২১:৪৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আমার জীবনের ভয়াবহ ট্রাজেডি

গত ১৮ জুলাই 'ভয়েস অফ রাইটস' নামক ফেসবুক গ্রুপে তুজ জোহরা হিমু নামের ফেসবুক আইডি থেকে 'আমার জীবনের ভয়াবহ ট্রাজেডি' শিরোনামে একটি লেখা শেয়ার করা হয়েছে। সেখানে চোখের সামনে নদীতে বাড়ি ভেঙে যাওয়ার বর্ণনা করা হয়েছে।

লেখাটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

ভোর অনুমানিক সাড়ে ৪টা।
হঠাৎ করেই ঘুম ভেঙে গেলো আব্বু আম্মুর কথা শুনে। দৌড়ে বাইরে গেলাম। যা দেখলাম তা দেখার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। 

দেখি প্রচণ্ড শব্দে শো শো করে তীব্র স্রোতে পানি আসতেছে। ভয়ে আমার কলিজা শুকিয়ে গেলো।

ভয় পাওয়ার কারণ হলো, আমাদের বাসার সাথেই পুল আর সেই পুল দিয়েই পানি আসছিল আর পুরো সেই স্রোত গিয়ে লাগছিল আমাদের বাড়িতে।

সবাই বলছিল বাড়ির নিচে মাটি চলে যাচ্ছে এখানে থাকিয়েন নাহ। বাড়ি দেবে যেতে পারে। এটা ছিল আমাদের করা নতুন বাড়ি।

সব কিছু মনে হয় মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। দেখতে দেখতে সকাল হতে লাগলো।

মানুষ দেখতে আসছে আর ফোনে ছবি তোলা নিয়ে ব্যস্ত। (এখন বুঝতে পারি ভুক্ত ভোগিদের জন্য এটা কতো কষ্টের।)

কেউ কেউ মাছ ধরা নিয়ে হুল্লোড় করছে। সব দেখছি বারান্দায় দাঁড়িয়ে। তখনো ভাবিনি যে এই বারান্দায় আর দাঁড়াতে পারবো না। ☹️

দেখতে দেখতে পুলের এক মাথা ভেঙে গেলো, তার কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের বাসার পাশের রাস্তাটাও ভাঙতে লাগলো। আমরা পুরো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলাম সব কিছু থেকে। 

আস্তে আস্তে ঘরের সব জিনিস বের করে ঘর গুলো ফাঁকা করে ফেলা হলো। না হলে হয়তো জিনিসগুলো ও আর রক্ষা করতে পারবো না।

আব্বু পাগলের মতো হয়ে গেছিল, কারণ সেই জানে এই মাথার উপর ছাদটা করতে তার কত রক্ত গেছে।

দেখতে দেখতে ১০ মিনিটের মধ্যে অন্য আগের ঘরগুলোতে পানি জমতে জমতে এক হাঁটু হয়ে গেলো। বাইরে তীব্র স্রোতে কিছু দিন আগে করা নতুন রাস্তাটা ভেঙে সব শেষ হয়ে গেল।

আমাদের ওই পাড়াটাতে ১০ ঘর যাদের প্রায় এক অবস্থা সবার। আমাদের দু পাশের রাস্তা ভেঙে গেলো আর কোথাও যাওয়ার বুদ্ধি রইলো না একমাত্র ভরসা নৌকা। যেটা ও নাই বললেই চলে।

কারেন্ট নেই, শোবার জায়গা নেই। বেঞ্চ/ছোট জল চকিতে থাকে আব্বু আম্মু। কোথাও গিয়ে আশ্রয় নিবো তার ও বুদ্ধি নেই, চারদিকে সাপ/পোকার চাপা ভয়, ডাকাতের ভয়।

রাতে স্রোতের শব্দে ঘুম আসে না। শুধু মনে হয় সকালে উঠে কি দেখবো বাড়িটা আছে তো!

আমার ২৪ বছর জীবনের প্রথম ট্রাজেডি (বন্যা ট্রাজেডি)। কোনো দিন ভাবিনি আল্লাহ এমন দিন দেখবেন।

আজকে ৪ দিন চলছে এই ট্রাজেডির এখনো খারাপ কিছু হয়নি আল্লাহ এখনো রক্ষা করেই চলছেন। পানির অবস্থা খুব একটা পরিবর্তন হয়নি কিন্তু মেনে নিতে শিখে গেছি।

আবার শুনতেছি পানি নাকি বাড়বে, কেউ বলছে আরো বড় বন্যা হবে, অনেক কিছু কি হয় হোক আল্লাহ ভরসা, উনিই রক্ষা করবেন।

দোয়া করবেন সবাই।
জানি না আগামী দিন গুলোতে কি অপেক্ষা করছে।

#গাইবান্ধা_বোনারপাড়া

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা