kalerkantho

রবিবার। ১৮ আগস্ট ২০১৯। ৩ ভাদ্র ১৪২৬। ১৬ জিলহজ ১৪৪০

ভবিষ্যতের যুদ্ধ জয়ে লেখক নিয়োগ দিচ্ছে ফ্রান্সের সেনাবাহিনী!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ জুলাই, ২০১৯ ২০:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভবিষ্যতের যুদ্ধ জয়ে লেখক নিয়োগ দিচ্ছে ফ্রান্সের সেনাবাহিনী!

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর লেখকদের নিয়ে ‘রেড টিম’ নামের একটি বাহিনী তৈরি করতে যাচ্ছে ফরাসি সেনাবাহিনী, যাদের কাজ হবে ভবিষ্যতে হুমকি হতে পারে, এমন নানা বিষয় কল্পনা করে বের করা।

ডিফেন্স ইনোভেশন এজেন্সির (ডিআইএ) নতুন একটি প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এই লেখকরা ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ঝুঁকি কল্পনা করে বের করবে। আর সেই অনুযায়ী ফ্রান্সের সামরিক কৌশল ঠিক করা হবে। যা হয়তো এখনো কেউ চিন্তা করেনি।

এই দলের কর্মকাণ্ড হবে অত্যন্ত গোপনীয়। তারা নানা ধরণের বিষয় বিবেচনায় রেখে কাজ করবেন বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষায় ফরাসিদের নতুন ধরণের কলাকৌশল উদ্ভাবনের অংশ হিসাবে এসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

উদ্ভাবনী দলের একজন সদস্য বাস্তিল দিবসের সামরিক অনুষ্ঠানের সময় জনতার সামনে একটি জেট চালিত উড়ন্ত বোর্ডের প্রদর্শনী দেখান।

এরপর প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো ওই অনুষ্ঠানের একটি ভিডিওতে মন্তব্য করেন, ‘আমাদের সেনাবাহিনী নিয়ে গর্বিত, যারা আধুনিক এবং উদ্ভাবক।’

এই ‘রেড টিমের’ সদস্য কারা?
এই টিমের মধ্যে রয়েছেন চার থেকে পাঁচজন বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখক। এই লেখকদের কাজ হবে প্রচলিত সেনাবাহিনীর চিন্তাভাবনার বাইরে গিয়ে ব্যতিক্রমী চিন্তাভাবনা করা।

এসব কৌশলের মধ্যে তাদের ভেবে বের করতে হবে যে, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো এবং বিদেশী রাষ্ট্রগুলো কীভাবে নতুন ধরণের আধুনিক অস্ত্র বা প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে। সেসব মোকাবেলার পরিকল্পনাও তাদের তৈরি করতে হবে।

ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফ্লোরেন্স পার্লি বলেছেন, সামরিক উদ্ভাবনের সম্ভাব্য প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে ‘সবরকম উপায়’ হাতে রাখতে চায়।

বাস্তিল উৎসবের ওই অনুষ্ঠানে আরো প্রদর্শন করা হয়েছিল নেওরোড এফফাইভ মাইক্রোওয়েভ জ্যামার, ড্রোন ধ্বংসে সক্ষম রাইফেলের মতো একটি অস্ত্র যা ওই ড্রোনটিকে পাইলটের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে।

এখন পরিকল্পনা করা হচ্ছে যে, মালিতে থাকা ফরাসি বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য রোবট সেনা পাঠানো হবে। এই পরিকল্পনাটি এখন বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

বর্তমানে ব্যবহৃত অনেক সামরিক সরঞ্জাম আবিষ্কারের বহু বহু আগে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর লেখকরা বর্ণনা করে গিয়েছিলেন। তার অনেক পরে সেসবের আবিষ্কার হয়েছে।

যেমন পারমাণবিক বোমা। এইচ জি ওয়েলস ১৯১৪ সালে লেখা উপন্যাস ‘দি ওয়ার্ল্ড সেট ফ্রি’ আণবিক বোমার বর্ণনা করেছিলেন, যা প্রায় ত্রিশ বছর পরে আবিষ্কৃত হয়েছে। জুলভার্নের উপন্যাসে সাবমেরিনসহ এমন অনেক কল্পিত যানবাহনের বর্ণনা রয়েছে, যা সেই সময়ে ছিল না। কিন্তু পরবর্তীতে আবিষ্কৃত হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা