kalerkantho

শনিবার । ২৪ আগস্ট ২০১৯। ৯ ভাদ্র ১৪২৬। ২২ জিলহজ ১৪৪০

গাড়ি দেয়নি হাসপাতাল, কাপড়ে ঝুলিয়ে রোগীর মরদেহ গ্রামে নিয়ে গেল পরিবার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ জুলাই, ২০১৯ ২১:২৮ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গাড়ি দেয়নি হাসপাতাল, কাপড়ে ঝুলিয়ে রোগীর মরদেহ গ্রামে নিয়ে গেল পরিবার

প্রচণ্ড জ্বরের কারণে বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন পুলু মাঝি। তবে হাসপাতালে ভর্তির কয়েক ঘণ্টা পর তার বাবা মারা যান। মরদেহ বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য হাসপাতাল থেকে লাশবাহী গাড়ি চান পুলু। 

বারবার বলা সত্ত্বেও গাড়ি না পেয়ে বাধ্য হয়ে পরিবারের অন্যদের সাহায্যে কাপড়ে বাবার মরদেহ পাঁচ কিলোমিটার হেঁটে গ্রামে ফিরেছেন তিনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির ঘটনাটি সামনে আসতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।

ঘটনা ঘটেছে ভারতের উড়িষ্যার কালাহান্ডি জেলার মেলঘর গ্রামে। গত সোমবার ৫৫ বছর বয়সী নিগাদি মাঝিকে হাসপাতালে ভর্তি করে পরিবারের লোকজন। কিন্তু তার মৃত্যুর পর বারবার লাশবাহী গাড়ি চেয়েও পাননি তার স্বজনরা। সে কারনে তার দেহ কাপড়ে বেঁধে ঘাড়ে করে নিয়ে যান তার পরিবারের লোকজন।

নিগাদির ছেলে পুলু মাঝি বলেন, বেসরকারি গাড়ি ভাড়া করার মতো টাকা আমার নেই। যখন বারবার বলা সত্ত্বেও গাড়ির কথা তাদের কানে গেল না তখন আমার আত্মীয়রা বাবার দেহ কাপড়ে বেঁধে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে।

দিন মজুরির কাজ করা পুলুর কাছে এর বাইরে কোনো উপায় ছিল না। বাবার মরদেহ বেঁধে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলুর এক আত্মীয় পুরো ঘটনার ভিডিও করেন। সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোডের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে।

তবে উড়িষ্যার সরকারের শবদেহ বহনের জন্য রয়েছে ‘মহাপ্রয়াণ’ প্রকল্প। বাবার মরদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য সেই প্রকল্পের সুবিধা পাননি পুলু। ঘটনা নিয়ে ওই হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার অবিনাশ বলেন, ওই রোগীকে সকাল ৯টায় নিয়ে আসা হলে দুপুর পৌনে ২টা নাগাদ মৃত্যু হয়। আমাদের হাসপাতালে জুনাগড়, কালামপুর ও থুয়ামুল রামপুর যাওয়ার জন্য শবগাড়ি আছে।

বিষয়টি নিয়ে কালাহান্ডির জেলার প্রধান মেডিক্যাল অফিসার বনলতা দেবী বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে তবেই বিযয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানানো সম্ভব।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা