kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

রাস্তার আলোয় পড়াশুনা! আলোর দিশারী এই গলি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ জুলাই, ২০১৯ ১২:৩৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাস্তার আলোয় পড়াশুনা! আলোর দিশারী এই গলি

মুম্বাইয়ের 'অভ্যাস গলি'তে পড়াশুনা চলছে

সন্ধ্যা হলেই রাস্তায় জ্বলে ওঠে হ্যালোজেনের আলো। সেই আলোর নীচে পড়তে আসে ছাত্রছাত্রীরা। প্রতি সন্ধ্যায় এমনটাই দেখা যায় ভারতের মুম্বাইয়ের 'অভ্যাস গলি'তে। আর এটা চলছে অনেক বছর ধরেই। বড় যৌথ পরিবারে কোলাহলে পড়াশোনার ব্যাঘাত ঘটলে নিভৃতে পড়বে বলে ছাত্রছাত্রীরা বই-খাতা-কলম নিয়ে হাজির হয় এখানে। এখানে কেউ তাদের পড়াশোনায় বিরক্ত করে না। 

দীর্ঘরাত ধরে নির্বিঘ্নে লেখাপড়া করতে অনেকেই আসে 'অভ্যাস গলি'তে। বেশ নির্জন, শান্ত এই স্থানটি। রাস্তার একধারে যতদূর চোখ যায় সবুজ গাছের সারি। কেউ কেউ নাম দিয়েছে 'পড়াই গলি'। ব্যস্ত ওরলি নাকা থেকে কিছু দূরে পোদ্দার হাসপাতালের পেছনে এই গলি দুই প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদের জন্য হয়ে উঠেছে স্বর্গ।

রাস্তার আলোও বেশ উজ্জ্বল। পথের ধারে ধারে পরিচ্ছন্ন বেঞ্চও পাতা আছে কিছু। বেঞ্চে জায়গা না জুটলে রাস্তার ওপরেই খবরের কাগজ, মাদুর, আসন পেতে বিছিয়ে পড়তে বসে ছাত্ররা। ছাত্রদের জন্যই রাস্তাটিকে মূলত আবার নতুন করে সংস্কার করা হয়েছে। আকর্ষণীয় পথ শিল্প আর প্রেরণাদায়ক বাণী দিয়ে সাজানোও হয়েছে রাস্তাটি। এতে এক অদ্ভুত পরিবেশ তৈরি হয়েছে যাতে এখানে এলেই পড়ায় মন বসে খুব সহজে। বহু ছাত্রছাত্রীর শিক্ষাজীবনে অবদান রেখেছে এই রাস্তা। রাস্তাটি সুদাম কালি আহিরে মার্গ -এর একটি অংশ। অনেকদিন যাবত পড়ুয়াদের আনাগোনা দেখে অঞ্চলের অধিবাসীরা পৌরসভার কাছে প্রস্তাব করে সরকারিভাবে এই রাস্তার নাম পালটে 'অভ্যাস গলি' রাখা হোক।

বৃহনমুম্বাই ইলেকট্রিক সাপ্লাই এন্ড ট্রান্সপোর্ট-এর পক্ষ থেকে ছাত্রছাত্রীদের জন্য উজ্জ্বল আলোর বাতিগুলোও লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিজে পড়ার জন্যই কেবল নয়, এই রাস্তাটি বিখ্যাত গ্রুপ স্টাডির জন্যও। একসঙ্গে জোট বেঁধে পড়াশোনা করে অনেকেরই বেশ উন্নতি হয়েছে। এই গলিতে পড়াশোনা করা সাবেক ছাত্রছাত্রীরাও নানা সময়ে এসে ছোটদের পড়াশোনায় সাহায্য করে। দেড়শ'-দুশ' স্কোয়্যার ফিটের ছোট্ট পায়রার খোপে যারা থাকে, তারা জানিয়েছে কীভাবে এই গলি তাদের পড়াশোনায় সহযোগিতা করেছে। বাড়ির পরিবেশে হয়তো তাদের পড়াশোনাটাই হতো না। লাইব্রেরিগুলোও তাড়াতাড়ি বন্ধ হয়ে যায়। তাই এই গলির খোলামেলা পরিবেশে পড়াশোনা করা বাড়ি বা লাইব্রেরির থেকে হাজার গুণে ভালো। 

বিবিডি চওলের ছোট্ট ছোট্ট আকারের বাড়ির ছাত্রছাত্রীদের কাছে এই রাস্তাই তাদের পঠনপাঠনের আদর্শ স্থান। সন্ধ্যা সাতটা থেকে ছাত্রছাত্রীরা জড়ো হতে শুরু করে, কেউ-কেউ তো সারারাত পড়ে। তবে সবচেয়ে বেশি ছাত্রছাত্রী দেখা যায় সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত। 'অভ্যাস গলি' না থাকলে পড়াশোনা সেভাবে হতো না অনেক ছাত্রছাত্রীরই। তাদের ভবিষ্যৎ গড়ে দিয়েছে এই রাস্তা। অনেক ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, অধ্যাপকসহ নানা সম্মানজনক পেশায় প্রতিষ্ঠিত মানুষের অপরিশোধ্য ঋণ রয়ে গেছে এই বিশেষ পথটির কাছে।

সূত্র : বাংলালাইভ 

 

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা