kalerkantho

রবিবার। ১৮ আগস্ট ২০১৯। ৩ ভাদ্র ১৪২৬। ১৬ জিলহজ ১৪৪০

নিজের লাগানো গাছ কাটতে চায় প্রশাসন, মন ভালো নেই ‘‌গাছদাদু’‌র

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ জুলাই, ২০১৯ ১৮:৫৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নিজের লাগানো গাছ কাটতে চায় প্রশাসন, মন ভালো নেই ‘‌গাছদাদু’‌র

'গাছদাদু'র‌ ভীষণ মন খারাপ। তার প্রিয় গাছগুলো কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যে কোনো দিন কেটেও ফেলা হবে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার আরামবাগের মায়াপুর থেকে খানাকুলের গড়েরঘাট যাওয়ার রাস্তার দু’‌দিকে দাঁড়িয়ে আছে বেশ কিছু গাছ। 

তার মধ্যে বড় বড় প্রায় শ’‌খানেক গাছ এই গাছদাদুর নিজের হাতে লাগানো। খুব শিগগিরই রাস্তাটি সম্প্রসারণের কাজ শুরু হবে। সে কারণে প্রশাসন ওই রাস্তার দুই পাশের বড় বড় প্রায় ৫০টি গাছ কেটে ফেলার জন্য চিহ্নিত করেছে। দাদুর মন ভালো নেই সে কারণেই। 

এই গাছদাদু হলেন খানাকুলের বীরলোক গ্রামের আনন্দ খাঁ। সময় সুযোগ পেলেই বিভিন্ন জায়গা থেকে বট, অশ্বত্থ, পাকুড় গাছের চারা সংগ্রহ করে পাকা রাস্তার দুই পাশে লাগিয়ে দেন। তবে এটুকুতে তার কর্তব্য শেষ নয়। ওই গাছ বড় হয়ে নিরাপদ উচ্চতায় না পৌঁছানো পর্যন্ত তিনি তাদের পানি, সার, ওষুধ দিয়ে পালন করে থাকেন। 

এই গাছের পরিচর্যার জন্য দু'টি বেসরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। চাষাবাদের পাশাপাশি বাড়িতে বই বাঁধাইয়ের কাজ করেন। স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে, ভাইয়ের বউ ও দুই ভাতিজাকে নিয়ে তার সংসার। 

বাইরে বের হলেই তার সঙ্গে থাকে একটি খালি প্যাকেট। কোথাও বট, অশ্বত্থ, পাকুড়ের চারা দেখলেই বাড়িতে নিয়ে আসেন। তার পর রাস্তার পাশে নিরাপদ ফাঁকা জায়গা দেখে লাগিয়ে দেন। কিন্তু এখন রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য একসঙ্গে এত বেশি সংখ্যক গাছ কাটার সিদ্ধান্তে তিনি একেবারেই ভেঙে পড়েছেন। 

আনন্দবাবু বলেন, আমি নিজে ঘুরে ঘুরে দেখেছি, যে সমস্ত গাছ কাটার সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাদের অনেকগুলোই না কাটলেও চলে। কিছু গাছের ডালপালা ছেঁটে রাস্তা সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। আমি চাই প্রশাসন তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করুক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা