kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

মুমূর্ষু শিশুকে কাঁধে নিয়ে ‘ভিক্ষা কারবারে’ নকল বাবা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ জুলাই, ২০১৯ ০৮:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুমূর্ষু শিশুকে কাঁধে নিয়ে ‘ভিক্ষা কারবারে’ নকল বাবা

প্রতীকী ছবি

নিউমোনিয়াসহ নানা অসুখে আক্রান্ত মুমূর্ষু এক শিশুকে নিয়ে ভিক্ষা করছিল এক ভিক্ষুক। কাঁধে সন্তানকে নিয়ে রাজধানীর যানজটে আটকে থাকা গাড়ির যাত্রীদের কাছে অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসার জন্য সাহায্য চাইছিল লোকটি। বাচ্চাটিকে দেখে অনেকেই সাহায্যের হাত বাড়াচ্ছিল, কিন্তু পুলিশের চোখ বলে কথা। পুলিশের তীক্ষ অনুসন্ধিতৎসু চোখে বিষয়টি ধরা পড়ে যায়। আসল বাবা নয়, এক প্রতারক বাচ্চাটিকে নিয়ে নেমেছে ‘ভিক্ষা কারবারে’।  

গতকাল বিকেলে রাজধানীর শিক্ষা ভবনসংলগ্ন এলাকায় অসুস্থ বাচ্চা দেখিয়ে ভিক্ষা করছিল এক লোক। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে কর্মরত সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) সুলতানা ইশরাত জাহান এ সময় ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। সন্দেহ হলে তিনি ওই লোকের নাম জানতে চান। ভিক্ষুক লোকটি নিজের পরিচয় জহিরুল বললেও বাচ্চার নাম বলতে ইতস্তত করছিল। জেরার মুখে বাচ্চা নিয়ে দৌড়ে

পালানোর চেষ্টা করে জহিরুল। অবশেষে গতকাল বিকেলে ধরা পড়েছে সেই প্রতারক। সঙ্গে শিশুটির কথিত মাকেও আটক করা হয়েছে। জহিরুলকে আটক করার পর জানা যায়, সে শিশুটির কিছুই হয় না। পরে জহিরুলকে শাহবাগ থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি শিশু ও কথিত মা জোসনাকে নিয়ে ঢাকা মেডিক্যালে ছুটে যান। সেখানেই শিশুটির চিকিত্সা চলছে এখন। 

শাহবাগ থানার এসআই শফিউল আলম বলেন, শিশুটির কথিত বাবাকে আটক করে থানায় রাখা হয়েছে। হাসপাতালে শিশুটির কথিত মা আছে সঙ্গে। তিনি বলেন, শিশুটির মা জোসনা বলেছে, তারা হাইকোর্ট এলাকায় ফুটপাতে থাকে। ভিক্ষাবৃত্তিই তাদের পেশা। পুলিশের জেরার মুখে জোসনা বলে, সাত মাস আগে এক নারী তার কাছে শিশুটিকে রেখে পালিয়ে যায়। সেই থেকে শিশুটি তাদের কাছেই আছে। তার নাম রাখা হয়েছে, সানজিদা।

গত রাতে এসি ইশরাত জাহান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শিশুটিকে নিয়ে যখন ওই লোককে ভিক্ষা করতে দেখলাম তখনই সন্দেহ হলো। প্রথমত প্রচণ্ড অসুস্থ একটা বাচ্চাকে নিয়ে কোনো বাবা এমনভাবে ভিক্ষা করতে পারে না। আগে জীবন, পরে ভিক্ষা। যখন জিজ্ঞেস করলাম বাচ্চাটি তার কী হয়। সে জানায়, সে বাচ্চার বাবা। বাচ্চার নাম জানতে চাইলে সে নাম না বলে ইতস্তত করতে থাকে। তখন সন্দেহ আরো জোরালো হয়। পরে তাকে আটক করার পর স্বীকার করে যে সে তার বাবা নয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘মানবিক দিক বিবেচনায় শিশুটিকে বাঁচানোর জন্য আমার যতটুকু চেষ্টা করা দরকার আমি তা-ই করেছি। শিশুটি সুস্থ হওয়া থেকে একটা নিরাপদ ব্যবস্থা করা পর্যন্ত আমি চেষ্টা করব।’ 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা