kalerkantho

রবিবার। ১৮ আগস্ট ২০১৯। ৩ ভাদ্র ১৪২৬। ১৬ জিলহজ ১৪৪০

৯৮ তে এসেও স্বপ্ন দেখছেন আরো দুই বছর মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেবেন!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ জুলাই, ২০১৯ ১৯:৩৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৯৮ তে এসেও স্বপ্ন দেখছেন আরো দুই বছর মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেবেন!

লি হিউনিং।

চীনে ৯৮ বছর বয়সী এক নারী মেডিক্যাল বিশেষজ্ঞ একশ বছর পর্যন্ত মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিতে চান বলে নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। ওই বৃদ্ধা নারীর নাম লি হিউনিং। তিনি বিশ্ববিখ্যাত একজন কুষ্ঠরোগ বিশেষজ্ঞ।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, হিউনিং বেইজিং ট্রপিক্যাল মেডিসিন রিসার্চ ইন্সটিটিউটে কাজ করতেন। পরে ২০১৪ সালের দিকে কাজ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। কিন্তু আবসরের পরেই বসে থাকেননি হিউনিং। তিনি প্রতিদিন নিয়ম করে কর্মস্থলে কাজ করতে যান।

হিউনিং ১৯২১ সালে বেইজিংয়ে জন্মগ্রহণ করেন। চীনের টংজি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করেন তিনি। পরে যৌনব্যাধি-সংক্রান্ত রোগের বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ শুরু করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় (ডব্লুএইচও)। ১৯৫৮ সালের দিকে তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চাকরি ছেড়ে চীনে ফিরে যান। এ সময় তিনি জানান, তিনি নিজে যা শিখেছেন তা নিজ দেশের জন্য কাজে লাগাতে চান।

হিউনিং ১৯৭৮ সালের দিকে বেইজিং ট্রপিক্যাল মেডিসিন রিসার্চ ইন্সটিটিউট অফ বেইজিং ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে যোগদান করেন। সেখানে তিনি কুষ্ঠরোগীদের নিয়ে কাজ করতেন। কুষ্ঠরোগের চিকিৎসা দিতেন। 

হিউনিং এর সময়কালে কুষ্ঠরোগ ছিল অনেক ভয়ঙ্কর। হাজার-হাজার মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছিল। যদি কোনো ব্যক্তি এই রোগে আক্রান্ত হতো তাহলে খুব কমই ভালো হতো। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই পুড়িয়ে মেরে ফেলা হতো আবার অনেক ব্যক্তিকেই জীবন্ত কবর দেওয়া হতো।

হিউনিং জানান, একজন চিকিৎসক হিসেবে আমাদের কাজ ছিল রোগীদের সেবা করা। আমার কোনো ভয় ছিল না। তাই আমার কোনো সমস্যা ছিল না রোগীদের চিকিৎসা দিতে।

হিউনিং ও তার দলের প্রচেষ্টার কারণে চীনের ইউনান প্রদেশে দুই বছরের মধ্যেই কুষ্ঠরোগীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়। তার এ কাজকে সম্মান জানাতে ভুল করেনি চীনের সরকার। ২০১৬ সালের দিকে তাকে একটি পুরষ্কারে ভূষিত করা হয়।

এদিকে হিউনিংয়ের কাজের প্রতি আগ্রহ ছাড়াও হাসপাতালের বাইরে একটি আরামদায়ক জীবনযাপন করেন। তিনি বলেন, আমার জীবনে খুব বেশি চাহিদা নেই। আমি আমার জীবনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারি। আমি একটা সমযে কুষ্ঠরোগীদের সঙ্গে কাজ করেছি। এটা ছিল অনেক ভয়ঙ্কর সময়। তবে এনিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। কারণ এ কাজ আমি নিজেই পছন্দ করেছিলাম।

বর্তমানে সমগ্র চীনে তিন হাজারের নিচে মানুষ কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত। তাদের সবাইকে এখন হিউনিং নিজেই চিকিৎসা করেন। তিনি বলেন, আমি আমার জীবন নিয়ে মূল্যহীন হয়ে বেঁচে থাকতে চাই না। তাই আমি কাজ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

হিউনিং বলেন, আমি যদি কোনো কাজ না করে বাসায় থাকতাম তাহলে বই পড়ে বা টিভি দেখে সময় নষ্ট করতাম। এরকম করে সময় নষ্ট করা থেকে কোনো কাজ করে যাওয়া ভালো।

সূত্র: পিপল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা