kalerkantho

রবিবার। ১৮ আগস্ট ২০১৯। ৩ ভাদ্র ১৪২৬। ১৬ জিলহজ ১৪৪০

'আজ্ঞে মহারাজ, মারার ওষুধকে স্প্রে হিসেবে গ্রহণ করছে মশারা'

আধুনিক গোপাল ভাঁড়ের রাজ্য। না, মানে রাজ্যের নাম কৃষ্ণনগরই রয়েছে, তবে সেটা এই যুগের হিসেবে আমরা মনে করতেই পারি। সেই রাজ্যে মশা বেড়েছে। শোনা যাচ্ছে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়া ছড়িয়ে পড়েছে সবখানে। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র জরুরি সভা ডেকেছেন। সেই সভায় গোপাল ভাঁড়, মন্ত্রীসহ সবাই উপস্থিত

মাহতাব হোসেন   

১৬ জুলাই, ২০১৯ ১৫:০২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



'আজ্ঞে মহারাজ, মারার ওষুধকে স্প্রে হিসেবে গ্রহণ করছে মশারা'

মহারাজ : শুনলাম, আমার রাজ্যে মশা বেড়েছে?

মন্ত্রী : জি, মহারাজ।

মহারাজ : আমার রাজ্যে নাকি খুবই বেড়েছে?

মন্ত্রী : তা বৈকি, মহারাজ।

মহারাজ : বলো কী! এ হতে পারে না। ওদের তাড়াও।

মন্ত্রী : হ্যাঁ মহারাজ; কিন্তু টাকা-পয়সা?

মহারাজ : টাকা-পয়সা দিয়ে কী করবে?

মন্ত্রী : ও মা, বিদেশ থেকে দামি ওষুধ আনতে হবে না? তা ছাড়া ওষুধ আনতে যাবে বটা ও ঘটা, তাদেরও খরচ আছে। ওষুধ এনে এমনভাবে মারব না, যাতে আমাদের রাজ্যের কানায় কানায় লুকিয়ে থাকা মশাও কুপোকাত হয়ে যায়।

মহারাজ : হুম, তা বটে। এক্ষুনি রাজকোষাগার থেকে টাকা নিয়ে যাও। বেশি করে ওষুধ নিয়ে আসো। ছিটিয়ে দাও সবখানে, মশা মরে ছারখার হয়ে যাক। আমার রাজ্যে একটি মশাও থাকা চলবে না। এত বড় সাহস ওদের, আমার রাজ্যে রোগ-বালাই ছড়ায়!

গোপাল ভাঁড় : তা মন্ত্রী মশাই বুঝি মশার বিষয়ে খুব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন?

মন্ত্রী : এই দেখুন মহারাজ, একটা ভালো কাজ দ্রুত করতে যাচ্ছি আর গোপালটা বাগড়া দিতে শুরু করে দিল।

গোপাল ভাঁড় : আমি আর কোথায় বাগড়া দিচ্ছি, রাজকোষ খালি করার ভালো সুযোগ পেলেন বৈকি, তা মুখ ফুটে দুটি কথা বললাম আর কি!

মন্ত্রী : এই গোপাল, ভালো হচ্ছে না কিন্তু; কাজকর্ম নেই, বসে বসে ভুঁড়ি বাড়াচ্ছ তাতে সমস্যা নেই, আর ভালো কাজে বাগড়া দিতে আসো, নাহ!

মন্ত্রী তাঁর সব কর্ম সমাধার শাগরেদ বটা আর ঘটাকে দিয়ে কোথা থেকে ওষুধ নিয়ে আসে, তারপর সেটা রাজ্যজুড়ে ছিটিয়ে দেয়। মহারাজকে সে আনন্দের খবর জানায়। মহারাজও আনন্দিত হয়। কিন্তু কয়দিন পর কৃষ্ণনগর রাজ্যে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ার খবর রাজসভায় আসতেই থাকে। মহারাজ মন্ত্রীকে ডেকে আনেন।

মহারাজ : কী ব্যাপার মন্ত্রী, এত টাকা খরচ করা হলো, বিদেশ থেকে ওষুধ-গ্যাস আনা হলো; কিন্তু মশা তো মরল না। ওরা তো এখনো বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই যে রাজ্যসভায়ও তো মশা ঢুকে পড়েছে।

...বলতে বলতেই দুই হাত চাপড়ে একটা মশাও মেরে ফেললেন মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র।

মন্ত্রীর আর কিছু বলার রইল না। শুধু গোপাল ভাঁড় নিজ আসনে বসে বলে উঠল, ‘আজ্ঞে মন্ত্রীর আনা গ্যাসকে মশারা বডি স্প্রে হিসেবে গ্রহণ করেছে মহারাজ।’

রাজসভায় হাসির রোল উঠল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা