kalerkantho

রবিবার। ১৮ আগস্ট ২০১৯। ৩ ভাদ্র ১৪২৬। ১৬ জিলহজ ১৪৪০

যেভাবে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ হয় দক্ষিণ কোরিয়ায়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ জুলাই, ২০১৯ ১৫:৪৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যেভাবে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ হয় দক্ষিণ কোরিয়ায়

ফাইল ছবি।

বাংলাদেশ থেকে অনেক কর্মিই সরকারিভাবে কাজ করতে যান দক্ষিণ কোরিয়ায়। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যস্থতায় এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়, যার খরচও হয় অত্যন্ত কম। এক লাখ টাকার মধ্যেই হয়ে যায়। অথচ সেখানে চাকরির বেতন হয় আশি হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত। আর এর ফলেই এই চাকরির প্রতি আগ্রহ রয়েছে বাংলাদেশের অনেক তরুণের।

বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী লি নাক-ইয়োন বাংলাদেশ সফর করছেন। বাংলাদেশে সরকারের সঙ্গে নিরাপত্তা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সংস্কৃতি নিয়ে কয়েকটি চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে।

তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক যেভাবে দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী নিয়োগ হয়। একসময় বাংলাদেশের চারটি কোম্পানির মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী নিয়োগ হলেও, ২০০০ সালে সেটি বন্ধ হয়ে যায়।

পরবর্তীতে ২০০৭ সাল থেকে বাংলাদেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি প্রতিষ্ঠান হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট (এইচআরডি) মাধ্যমে কোরিয়ার নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়।

এখন এই নিয়োগটি হয় রিক্রুটমেন্ট পয়েন্ট সিস্টেমের ভিত্তিতে। অর্থাৎ আবেদনকারী কোরিয়ান ভাষা, কর্মদক্ষতা, শারীরিক যোগ্যতা বৃত্তিমূলক কাজের যোগ্যতা, প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ ও চাকরির অভিজ্ঞতা- ইত্যাদি বিষয় মূল্যায়নের ভিত্তিতে পয়েন্ট পান। সেসব পয়েন্টের ভিত্তিতে প্রথম দফা প্রার্থী বাছাই করা হয়।

এরপর কোরিয়ার কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে ইন্টারনেট ভিত্তিক দক্ষতা পরীক্ষার মাধ্যমে দ্বিতীয় দফার কর্মী বাছাই হয়। দুই রাউন্ড মিলিয়ে সর্বাধিক নম্বর পাওয়া ব্যক্তিদের চূড়ান্ত করা হয়।

কোরিয়ার নিয়োগ দাতাদের এসব তথ্য সরবরাহ করে উপযুক্ত কর্মী খুঁজে পেতে সহায়তা করা হয়। পরীক্ষা, যাচাই বাছাইয়ের পরে কর্মীদের এই তালিকা দেয়া হয় দক্ষিণ কোরিয়ার নিয়োগ দাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে। সেখান থেকে তাদের চাহিদা মতো কর্মী বেছে নেন। বাছাইকৃত কর্মীদের মেয়াদ থাকে দুই বছর। এর মধ্যে কোরিয়ান কোম্পানি তাদের বেছে না নিলে পুনরায় পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হয়।

বাছাই হওয়ার পর বিমান ভাড়া, বোয়েসেলের ফিসহ সবমিলিয়ে একজন কর্মীর খরচ হয় ৮০ হাজার টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ২২১৫ জন কর্মী, ২০১৮ অর্থবছরে ২০১২ জন কর্মী দক্ষিণ কোরিয়ায় গিয়েছেন। ২০১৯ সালে তিন হাজার কর্মীর চাহিদার কথা জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। বাংলাদেশের কর্মকর্তারা আশা করছেন, শেষপর্যন্ত কোম্পানির চাহিদা অনুযায়ী অন্তত দুই হাজার কর্মী পাঠানো যাবে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা