kalerkantho

রবিবার। ১৮ আগস্ট ২০১৯। ৩ ভাদ্র ১৪২৬। ১৬ জিলহজ ১৪৪০

গায়ের রং কালো বলে কটূক্তি শুনতে হয়েছে, এখন ভারতের অন্যতম মডেল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ জুলাই, ২০১৯ ২১:৩৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গায়ের রং কালো বলে কটূক্তি শুনতে হয়েছে, এখন ভারতের অন্যতম মডেল

ভারতের ছত্তীসগঢ়ের এক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে পথ চলা শুরু। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এখন তিনি ভারতের নামকরা মডেল। রেনে কুজুরের হাঁটার পথটা যেন সিনেমার গল্পের মতো। তবে সে পথে কাঁটাও ছিল। ‘কালো’, ‘বোঁচা নাক’, এমন নানা কটূক্তি শুনতে হয়েছে তাকে। সেসব বাধা অতিক্রম করে রেনে এখন খ্যাতির শীর্ষে।

ছত্তীসগঢ়ের জশপুর জেলায় পিরাই গ্রামে কুরুখ জনজাতি পরিবারে ১৯৮৪ সালে জন্ম রেনে কুজুরের। গায়ের রং কালো বলে ছোটবেলা থেকে তাকে নানাজনের কটূক্তি সহ্য করতে হয়েছে।

রেনে জানান, স্কুলের ফ্যান্সি ড্রেস অনুষ্ঠানে একবার পরী সেজেছিলাম। বয়স তখন তিন। তবে স্টেজে ওঠামাত্রই দর্শকরা চেঁচাতে শুরু করেন, ‘কালো পরী, কালো পরী’। কাঁদতে কাঁদতে স্টেজ থেকে নেমে পড়েছিলাম।

পেশাদার মডেল হওয়ার আগে টমি হিলফিগারের মতো নামকরা ব্র্যান্ডের সেলস স্টাফ হিসেবে কাজ করতেন রেনে। মডেলিং ক্যারিয়ারের শুরু হয় ২৮ বছর বয়সে। সে ক্যারিয়ায়ের শুরুর দিকেও গায়ের রঙের জন্য বৈষম্যের শিকার হয়েছেন তিনি।

মডেল হিসেবে ক্যারিয়ার শুরুর পর প্রায় এক বছর রেনের কাছে কোনো কাজ ছিল না। নিজের পোর্টফোলিও তৈরি করে নানা অ্যাজেন্সির দরজায় দরজায় ঘুরেছেন। তবে কেউই তাকে তেমন একটা পাত্তা দেয়নি। 

রেনে জানান, বোঁচা নাক আর গায়ের রং কালো বলে অনেকেই আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছেন। এমন কথাও শুনতে হয়েছে যে, কেবলমাত্র ফর্সা মডেলদেরই কাজে নেয়া হবে।

শুধু কি গায়ের রং! মডেল হিসেবে রেনের বয়স ২৮ বছর জানতে পেরে অনেকেই তাকে কাজ দিতে চাননি। ফ্যাশন ইন্ড্রাস্ট্রিতে সাধারণত কমবয়সি মডেলদেরই জন্য কাজ বেশি। এমন কথাও শুনতে হয়েছে। অনেক অ্যাজেন্সির লোকজন তার সঙ্গে দেখা না করেই কেবল বয়সের জন্য তাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন।

বার বার ব্যর্থতার মুখেও হাল ছাড়েননি রেনে। এক সময় আসল বয়স লুকিয়ে কাজ খুঁজতে শুরু করেন তিনি। এক সময় কাস্টিং কাউচের শিকারও হয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন। তার কথায়, ক্লায়েন্টদের খুশি না করতে পারলে আমি মডেল হতে পারব না, এমনটাও শুনতে হয়েছে।

শেষাবধি কাজ জুটেছে রেনের। তবে তাতেও বিপত্তি কমেনি। তাকে এমন ভাবে মেকআপ করানো হত, যাতে তার গায়ের রং ৩-৪ শেডের কম কালো লাগে। এমনকি, ফোটোশপে তার গায়ের রং সাদা করে দেয়া হতো।

এভাবে অপমানিত হতে হয়েছে রেনেকে। হঠাৎ করেই এক দিন তার এক বন্ধু রেনেকে বলেন, তিনি পপ আইকন রিহানার মতো দেখতে। প্রথমটায় হেসে উড়িয়ে দিয়েছিলেন সে কথা। ধীরে ধীরে মডেল হিসেবে রেনের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। এক সময় অনেকেই রেনের মধ্যে রিহানার চেহারার মিল খুঁজে পান।

গায়ের রং কালো বা সাদা, তাতে যে কিছু এসে যায় না, তা আরও অনেকের মতো দেখিয়ে দিয়েছেন রিহানা। রেনে জানান, তার মনে হয়েছিল, পশ্চিমা দেশগুলোতে রিহানাকে নিয়ে তুমুল উন্মাদনা। আর আমি যদি রিহানার মতোই দেখতে হই, তবে নিজেকে কীভাবে অসুন্দর বলব? এটা আসলে আমাদের মনের ভুল ছাড়া কিছুই নয়।

নানা বাধা কাটিয়ে ফ্যাশন মডেল হিসাবে নিজেকে খ্যাতির শীর্ষে নিয়ে গেছেন রেনে। তবে যার সঙ্গে তার চেহারার এত মিল, সেই রিহানার সঙ্গে এখনো পর্যন্ত দেখা হয়নি। এক দিন তার সঙ্গে দেখা করতে চান তিনি। তার কথায়, রিহানার সঙ্গে দেখা করে তাকে ধন্যবাদ দিতে চাই।

গায়ের রং ছাড়াও ইংরেজিতে কথা বলতে পারতেন না বলেও ব্যঙ্গের শিকার হয়েছেন রেনে। এখনো অনেকের থেকেই কম কাজ পান। তা যে তার গায়ের রঙের জন্য, সেটা বুঝতে পেরেছেন। 

রেনে বলেন, খুব কম মানুষই চিরাচরিত ভাবনা-চিন্তা ছেড়ে বের হতে চান। এখনো অনেকে ফর্সা হওয়াকেই সৌন্দর্যের মাপকাঠি বলে মনে করেন। এই মানসিকতা বদলাতে সময় লাগবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা