kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

মাকে খেয়েছে বাঘে, শ্রাদ্ধানুষ্ঠান হলো কুশপুতুল দাহ করে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ জুলাই, ২০১৯ ১৮:১৮ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মাকে খেয়েছে বাঘে, শ্রাদ্ধানুষ্ঠান হলো কুশপুতুল দাহ করে

কাঁকড়া ধরতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি মা। কয়েকদিন খোঁজাখুঁজি করেও দেহের সন্ধান মেলেনি। ধরে নেয়া হয়েছে, বাঘের পেটে গেছেন ওই নারী। 

সে কারণে নিয়ম মেনে মায়ের কুশপুতুল দাহ করলেন ছেলেরা। হিন্দু রীতি অনুযায়ী শ্রাদ্ধানুষ্ঠানও করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনের গোসাবা থানার আমলামেথির পূর্বপাড়ায়। সুন্দরবন লাগোয়া বাসিন্দাদের কাছে এই নিয়ম অবশ্য নতুন নয়।

গত সোমবার সকালে মেজো ছেলেসহ তিন সঙ্গীকে নিয়ে সুন্দরবনের পিরখালির জঙ্গল থেকে কাঁকড়া ধরতে যান দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবার বনলতা তরফদার। হঠাৎ করেই তাদের নৌকায় এক বাঘ আক্রমণ করে। 

প্রাণে বাঁচতে কোনো মতে নৌকা থেকে পানিতে ঝাঁপ দেন বনলতার সঙ্গীরা। কিন্তু আতঙ্কে নৌকা থেকে নামতে পারেননি বনলতা। খবর ছড়িয়ে পড়তেই তার খোঁজে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ ও বনদপ্তর। 

কিন্তু কয়েকদিন কেটে গেলেও তার দেহ মেলেনি। এরপর বৃহস্পতিবার নিয়ম মেনে বনলতা দেবীর কুশপুতুল বানিয়ে দাহ করা হয়। তার একদিন পর অনুষ্ঠিত হয় তার শ্রাদ্ধানুষ্ঠান।

জানা গেছে, নিহত ওই নারীর স্বামী গৌর তরফদার শারীরিক প্রতিবন্ধী। সে কারণে দীর্ঘদিন ধরে সংসারের হাল ধরেছিলেন বনলতা। প্রাণ হাতে নিয়ে কাঁকড়া আর মাছ ধরেই সংসার চালাতেন তিনি। কিন্তু সোমবার ভাগ্য সঙ্গ দেয়নি। মেজো ছেলে স্বপনকে সঙ্গে নিয়ে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে তাকে টেনে নিয়ে যায় বাঘ। 

চোখের সামনে মাকে বাঘের কবলে পড়তে দেখেও কিছুই করতে পারেননি তিনি। সেই ভয়ঙ্কর দৃশ্য যেন এখনো তাড়া করে বেড়াচ্ছে তাকে। তার কথায়, চোখের সামনে বাঘ আমার মাকে নিয়ে গেল। কিন্তু কিছুই করতে পারলাম না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা