kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৩ আগস্ট ২০২০ । ২২ জিলহজ ১৪৪১

জানা-অজানা

রায় দুর্লভ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ জুলাই, ২০১৯ ০৯:০৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রায় দুর্লভ

[পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ে ‘রায় দুর্লভ’-এর কথা উল্লেখ আছে]

পলাশীর যুদ্ধের সময় নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে যে কয়জন বিশ্বাসঘাতকতা করে ইংরেজদের সহযোগিতা করেছিলেন এবং যুদ্ধে অংশগ্রহণ  করেও যুদ্ধ না করে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তাঁদের মধ্যে রায় দুর্লভ অন্যতম। বাংলার ইতিহাসে তিনি একজন বিশ্বাসঘাতক হিসেবে পরিচিত। তিনি ছিলেন নবাব আলীবর্দী খানের বিশ্বস্ত অমাত্য রাজা জানকীরামের ছেলে। তিনি ১৭৪৫ সালে ওড়িশার নায়েব নাজিম হিসাবে নিযুক্ত হন। একই বছর নাগপুর রাজ্যের মারাঠা মহারাজা রঘুজি ভোঁসলে ওড়িশা আক্রমণ করেন। তিনি রায় দুর্লভকে যুদ্ধে পরাজিত করেন এবং বন্দি করেন। মুক্তিপণ দিয়ে রায় দুর্লভ মুর্শিদাবাদে ফিরে এসে রাজা রামনারায়ণের মুত্সুদ্দি পদে নিযুক্ত হন। সেখানে তিনি নবাব আলীবর্দী খানের আনুগত্যে সৈন্য বাহিনীর সেনানায়কের পদমর্যাদা লাভ করেন। ১৭৫০ সালে নবাব আলীবর্দী গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে মীর জাফর ও রায় দুর্লভের ওপর মারাঠাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার ভার ন্যস্ত করেন। নবাব আলীবর্দীর মৃত্যুর পর তাঁর দৌহিত্র সিরাজউদ্দৌলা নবাব হন। কিন্তু সিরাজের সঙ্গে রায় দুর্লভের সম্পর্ক ভালো ছিল না। তাই নবাব তাঁকে পদোন্নতি দেননি। এতে রায় দুর্লভ নবাবের ওপর বিশেষভাবে ক্ষুব্ধ হন এবং নবাবের অন্য বিশ্বাসঘাতকদের সঙ্গে একজোট হয়ে ইংরেজদের সঙ্গে গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। ফলস্বরূপ, ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলা ইংরেজদের কাছে পরাজিত ও বন্দি হন। পরে তাঁকে হত্যা করা হয়।

নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলে রায় দুর্লভকে পদোন্নতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল; কিন্তু মীর জাফর নবাব হওয়ার পর তাঁর পুত্র মিরন রায় দুর্লভের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে তাঁকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। পরে ইংরেজদের সহযোগিতায় তিনি পালিয়ে বাঁচেন।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা