kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ জুলাই ২০১৯। ৩ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৪ জিলকদ ১৪৪০

আমি লেকে সাঁতরাতে থাকলাম যতক্ষণ না ডুবে মরি...

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ জুলাই, ২০১৯ ১৭:৩৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আমি লেকে সাঁতরাতে থাকলাম যতক্ষণ না ডুবে মরি...

'এক পর্যায়ে আমি সাঁতার কাটতে শুরু করলাম, হঠাৎ থেমে গেলাম এবং ভাসতে থাকলাম যতক্ষণ না আমার দেহটা ডুবতে থাকে'

এটা একজনের জীবনে ঘটে যাওয়া সত্য ঘটনা। নিই ইয়র্কের এক সাংবাদিক তুলে এনেছেন। কানাডার টরেন্টো বাসিন্দা সেই নারী। জন্ম তার এতিমখানায়। ধনী একটা দেশেও যার কোনো ঘর ছিল না। নাম না প্রকাশের শর্তে তার জীবনের প্রেম, প্রেমিকের না ফেরার দেশে চলে যাওয়া, আত্মহননের উদ্দেশ্যে যাত্রা এবং আবারো জীবনে ফিরে আসা- এসবই এক জীবনের না বলা কথা হয়েই ছিল, যা এই লেখায় বলা হয়ে গেছে।

"জেমস এর সাথে যখন দেখা হয় আমার বয়স ২৯। আমি বলব না এ প্রথম দেখায় প্রেম ছিল। তবে জেমস বরাবরই বলতো 'ইট লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট'। অনেক কিছুতেই আমাদের মিল ছিল। আমরা দুজন বড়ও হয়েছি অনাথ আশ্রয় কেন্দ্রে। আমরা একসঙ্গে ছয় বছর পথে-ঘাটে জীবন কাটিয়েছি। কারণ আমাদের ঘর ছিল না। এরপরও আমরা ডেটিংয়ে গিয়েছি। আমরা পার্কে ও সৈকতে বেড়াতে গিয়েছি। একসঙ্গে সিনেমা দেখেছি। জেমস এমন একটা মানুষ ছিল যাকে সবাই ভালোবাসতো। সে এতটাই দয়ালু ছিল যে কিনা অনায়াসে নিজের জামা অন্যকে খুলে দিয়ে দিতো। ও খুবই রসিক ছিল যেমনটা ছিলাম আমি। 

গত জানুয়ারি মাসে অতিরিক্ত ড্রাগ নেয়ার ফলে জেমস মারা যায়। আসলে আমাদের দুজনের মধ্যে প্রচণ্ড ঝগড়া হয়েছিল। তখন থেকেই আমরা আলাদা থাকতে শুরু করেছিলাম। জানুয়ারি মাসের সেই রাতে আমি ফোনে দুঃসংবাদটি পাই। তারপর আমি ভীষণ ভেঙে পড়ি, যেন নিজেকে হারিয়ে ফেলি। নিজের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণই আর ছিল না। মাদক নেয়া বাড়িয়ে দিলাম। আরো বেশি বিষণ্ন হয়ে পড়লাম। সপ্তাহ দুয়েক আগে এক রাতে আমি সোজা হেঁটে চলে গেলাম লেক অন্টারিও'র দিকে। এখন আমার মনে হয় আমি সেদিন আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলাম। অবশ্য সেই রাতের অনুভূতিগুলো খুব বেশি মনে নেই। শুধু এটুকু মনে আছে, এক পর্যায়ে আমি সাঁতার কাটতে শুরু করলাম, হঠাৎ থেমে গেলাম এবং ভাসতে থাকলাম যতক্ষণ না আমার দেহটা ডুবতে থাকে। তারপর কি হয়েছিল জানি না। হঠাৎ চোখ মেলতে দেখি আমি লেকপাড়ে শুয়ে আছি। আসলে আমি হাইপোথারমিয়ায় মরতে বসেছিলাম। 

গতকালই আমি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছি। এখন আমি আমার জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবছি। আমি আমার এই দেহকে ছেড়ে যেতে চাই না। মরে যাবো ভাবতেই ভয় লাগছে। নতুন করে বাঁচতে চাই। ভাবছি কোনো একটা কাজ পেলে মন দিয়ে করবো। আর্টস ভালো লাগতো। ভাবছি সে ভালো লাগার জায়গায় ফিরে যাবো। সত্যি করে বলছি, সততার সঙ্গে বলছি, আমি আর মাদকাসক্ত হয়ে বাঁচবো না। যদিও সত্যটি হচ্ছে, আমার সব বন্ধুরা মাদকাসক্ত এবং তারাই আমার একমাত্র পরিবার।"
(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা