kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ জুলাই ২০১৯। ৩ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৪ জিলকদ ১৪৪০

বিয়ের দাবিতে অনড় প্রেমিকা, অবশেষে রাজি প্রেমিকের পরিবার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ জুলাই, ২০১৯ ১৬:২৪ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বিয়ের দাবিতে অনড় প্রেমিকা, অবশেষে রাজি প্রেমিকের পরিবার

নানা নাটকীয়তা শেষে জয় হলো প্রেমিকার। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ভারতের আরামবাগের এসডিপিও অফিসে প্রেমিক প্রীতম চক্রবর্তীর বাবা-মা জানিয়ে দিলেন, ওই তরুণীর সঙ্গে ছেলের বিয়ে দিতে তারা রাজি। 

তবে ছেলের বয়স ২১ বছর হতে এখনো তিন মাস বাকি। তিন মাস পর তারা ওই তরুণীকে ছেলের বউ করে নিয়ে যাবেন। আরামবাগের এসডিপিও নির্মলকুমার দাসের উপস্থিতিতে ওই প্রতিশ্রুতি দেন তারা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রীতমের প্রেমিকা ও তার খালু। 

ওই তরুণী তার ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে ফিরে গেছেন। সেখান থেকে তিনি নিজের বাড়ি মালদার হরিশচন্দ্রপুরে ফিরে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

যদিও ওই তরুণীর এই জয় খুব একটা সহজে আসেনি। ফেসবুকে পরিচয়ের পর বিষ্ণুপুরের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়ার সময় তাদের ঘনিষ্ঠতা হয়। তারপর ওই কলেজে পড়া শেষ হতেই শনিবার হোস্টেল ছেড়ে চলে যান প্রীতম। প্রীতমের ‌মা-বাবাও এই বিয়েতে রাজি নন বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন। 

এরপর ওই তরুণী রবিবার সকালে খানাকুলের পিলখাঁ এলাকায় প্রীতমের বাড়িতে হাজির হন। তরুণীর উপস্তিতি টের পেয়ে প্রীতম ও তার পরিবার ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে সটকে পড়েন। এরপর ওই তরুণী প্রীতমের বাড়ির সামনে অবস্থান নেন। পরে খানাকুল থানায় অভিযোগ জানান তিনি। 

সোমবার সকালে প্রীতমের বাড়ির কাছে প্রতিবাদে পথ অবরোধ করেন ওই তরুণী। দুপুরে আদালতে গিয়ে সমস্ত কিছু জানিয়েছিলেন বিচারকের কাছে। এরপরই বিকেলে তিনি জানতে পারেন প্রীতম ও তার পরিবারের লোকজন বিমানে করে হায়দরাবাদ চলে যাচ্ছে। তখন প্রীতমের গ্রামের লোকদের সঙ্গে নিয়ে ওই তরুণী দমদম বিমানবন্দরে ছুটে যান। 

কিন্তু খোঁজ পাননি তাদের। পুলিশের সহায়তায় বিমানের যাত্রী তালিকায়ও তাদের নাম পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার সকালে ওই তরুণী আবার খানাকুলে ফিরে আসেন। তার পরই আরামবাগ এসডিপিও অফিসে অভিযোগ জানান। 

এদিকে বিষয়টির নিষ্পত্তি চেয়ে তখন সেখানে পৌঁছে যান প্রীতম ও তার বাবা-মা। এরপর এসডিপিও'র সামনেই সিদ্ধান্ত হয় আগামী ৮ অক্টোবর ছেলের বয়স ২১ পূর্ণ হচ্ছে। ওই দিনই একই সঙ্গে দু’‌জনের রেজিস্ট্রি ম্যারেজ এবং সোশ্যাল ম্যারেজ হবে। 

এসডিপিও অফিস থেকে বেরিয়ে ওই তরুণী বলেন, আমি জানতাম আমার এই ভালোবাসার লড়াইয়ে আমি জয়ী হব। তবে প্রীতমের গ্রামের মানুষ যেভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, সাহস জুুগিয়েছেন, সেইজন্য তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা