kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ আগস্ট ২০১৯। ৮ ভাদ্র ১৪২৬। ২১ জিলহজ ১৪৪০

যেখানে শিশুদের কলকাকলীতে প্রকৃতি জেগে উঠে

ফারুক আহম্মদ, চাঁদপুর   

৮ জুলাই, ২০১৯ ১৬:৫১ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



যেখানে শিশুদের কলকাকলীতে প্রকৃতি জেগে উঠে

ছবি : মারুফ রায়হান

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে দেশের বাইরেও আলোচনায় এখন চাঁদপুরের শাহাবুদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজ। জ্ঞানের আলো জ্বলতে শুরু করেছে নিভৃত পল্লীতে গড়ে উঠে শিশু শিক্ষার অনন্য এই প্রতিষ্ঠান। চাঁদপুর সদরের লক্ষ্মীপুর গ্রাম। আর এখানেই শিশুদের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে এমন দৃষ্টিনন্দন নির্মাণ শৈলীর এই স্থাপনা। ভিন্নমাত্রার শিশুবান্ধব এই পরিবেশটি দেখতে ছুটে আসছেন এখন অনেকেই। 

দোতলা শিক্ষা ভবনে প্রবেশ করতেই হাতে ডান পাশে রয়েছে, নানা কারু কাজের সৌন্দর্যমণ্ডিত একটি মসজিদ। এর অন্যপ্রান্তে শিশুদের খেলার মাঠ। তার পূর্বদিকে, লুকোচুরি খেলার বিশেষ কক্ষ। আছে শহীদ মিনারও। আর খেলার মাঠে তো আছেই। মূল ভবনটি ইট কনক্রিটের হলেও কাঠ এবং নানা রঙের ঢেউটিন ব্যবহার করা হয়েছে। শ্রেণিকক্ষ অনেকটা খোলামেলা। তবে দিনের চেয়ে রাতে আরো রঙিন হয়ে উঠে। তখন রঙিন বাতির ঝলকানিতে একটা ভিন্নমাত্রায় ফিরে আসে শাহাবুদ্দিন স্ক্রল এন্ড কলেজ। 

সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে প্রায় দেড় একর জায়গাজুড়ে শাহাবুদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজ। বর্তমানে এর শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় এক শ ৭০ জন। খেলাধুলা ও আনন্দের সঙ্গে শিশুদের মানবিক শিক্ষায় গড়ে তোলার এক অনন্য প্রয়াস। নার্সারি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত এখানে পড়াশোনা চলছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতনও নেওয়া হচ্ছে নামমাত্র। তাই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ব্যবসা নয়। এমন তথ্য জানালেন, প্রতিষ্ঠানের প্রধান শংকর চন্দ্র সাহা। তিনি জানান, এখন নার্সারি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান চলছে। আগামীতে উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতা পেলে প্রতিষ্ঠানটিকে কলেজ পর্যন্ত উন্নীত করার ইচ্ছা রয়েছে। লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম খান জানান, তাদের এলাকায় ভাগ্নে হচ্ছেন শাহাবুদ্দিন অনু। রাজধানী ঢাকার প্রতিষ্ঠিত একজন ব্যবসায়ী। এই ভদ্রলোক তার মামার বাড়ির পাশে এমন একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন দেখেন। মাত্র দুই বছর আগে তার সেই স্বপ্ন আজ বাস্তরে রূপ পেয়েছে বলে জানালেন এই জনপ্রতিনিধি। তবে প্রতিষ্ঠাতা শাহাবুদ্দিন অনু প্রচার বিমুখ। তাই তার স্বপ্ন বুননের এমন গল্পের আদ্যেপান্ত জানা হলো না। 

ভোরের পাখির কিচির মিচিরে যেমনটি মানুষের ঘুম ভাঙে। ঠিক একইভাবে এখানেও শিশুদের কলকাকলীতে প্রকৃতি জেগে উঠে। কবি বন্দে আলী মিয়ার লেখা এই ছড়াটির মতোই শিশুদের নিয়ে একাকার চাঁদপুরের শাহাবুদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজ। প্রতিদিন শরীরচর্চার মধ্য দিয়ে এই স্কুলে শিশুদের পাঠদান শুরু হয়। তখন শ্রেণিকক্ষে বইয়ের সঙ্গে শিশুদের চলে মিতালী। এসময় আনন্দের ভেতর এমন পাঠদানে শিক্ষকরাও খুঁজে পান শিশুদের নানা প্রতিভা। আপাতত বাংলা মাধ্যমে নার্সারি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত এখানে পড়ানো হচ্ছে। 

এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ফাতিমা বেগম জানান, এখানে শ্রেণিকক্ষে শিশুদের আনন্দ ও গল্পের সঙ্গে পাঠদান করা হয়। বিল্লাল হোসেন নামে আরেক শিক্ষক জানান, আমাদের শিক্ষার্থীরা বেশ মেধাবী। শ্রেণিকক্ষে একটু ঝালাই করতেই ওরা জ্বলসে উঠে। এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে আলাদা পরিচিতি পেয়েছে শাহাবুদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজ। তাই দেশের বিভিন্নপ্রান্ত থেকে অনেকেই প্রতিষ্ঠানটি দেখতে এখানে ছুটে আসেন। সুলতান মাহমুদ নামে সরকারি একজন কর্মকর্তা, তার পরিবার পরিজন নিয়ে স্কুলটি ঘুরে দেখেন। তিনি জানান, অসাধারণ একটি পরিবেশ। সরাসরি না আসলে এমন নান্দনিক নিমার্ণ শৈলী দেখা হতো না। সিলেটের যুবক মুশফিক মিয়া জানান, বন্ধুদের নিয়ে ছুটে আসলাম। প্রতিষ্ঠানটিও দেখা হলো। একই সঙ্গে চাঁদপুরের ইলিশও খাওয়া হলো। চাঁদপুরের বিশিষ্ট সংগঠক মাহমুদ হাসান খান জানান, দেশ বিদেশের অনেক জায়গা ঘুরেছি। কিন্তু এতো সুন্দর পরিবেশ আগে কখনো চোখে পড়েনি। আরো জানা গেলো, বেশ কয়েকজন বিদেশিও এখানে এসে ঘুরে গেলেন।     

বিদেশি আদলে গড়ে তোলা নান্দনিক শৈলীর এমন বিদ্যাপীঠ দেখতে এখানে ছুটে আসেন অনেকেই। তাই এমন পরিবেশ দেখে তারা ভূয়সী প্রসংশা করেন। চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা জানান, আমি নিজেও এখন শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেখে সত্যি অভিভ‚ত। কারণ, নিভৃত পল্লীতে এই ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তা সরাসরি না দেখলে কারো বিশ্বাস হবে না। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামমুদ জামান জানান, গুণগত মানের শিক্ষার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ দরকার। সেই ক্ষেত্রে শিশুদের নিয়ে গড়ে উঠা শাহাবুদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজ একটি মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে একদিন দেশ ছাড়িয়ে বিশ্বেও এর পরিচিতি ঘটবে।

যেভাবে যাবেন : চাঁদপুর শহর থেকে হরিণা ফেরিঘাটে যাবার একটু আগেই লক্ষ্মীপুর গ্রাম। যোগাযোগ ব্যবস্থাও বেশ ভালো। তাই দৃষ্টিনন্দন এমন স্থাপনা দেখতে যাদের নিজস্ব পরিবহন নেই তারা সিএনজিচালিত অটোরিক্শা, ইজিবাইকে খুব সহজে সেখানে যেতে পারেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা