kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ জুলাই ২০১৯। ৮ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৯ জিলকদ ১৪৪০

ইলেকট্রিক সিগারেট স্বাস্থ্যের জন্য কতটা নিরাপদ?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৭ জুন, ২০১৯ ১৭:৫৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইলেকট্রিক সিগারেট স্বাস্থ্যের জন্য কতটা নিরাপদ?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম শহর হিসেবে ইলেকট্রিক সিগারেট নিষিদ্ধ করেছে সানফ্রান্সিসকো। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগ ধূমপায়ীদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে, ধূমপান ছাড়ার জন্য ইলেকট্রিক সিগারেট সহায়ক হতে পারে।

সে ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসছে, ইলেকট্রিক সিগারেট আসলে কতটা নিরাপদ সে ব্যাপারে। কারণ, এই সিগারেটের ভেতরে নিকোটিন, প্রোপাইলিন গ্লাইকল অথবা ভেজিটেবল গ্লিসারিন এবং সুগন্ধী মিশ্রিত থাকে।

কিন্তু তামাকের ভেতর থাকা অনেক বিষাক্ত রাসায়নিকের তুলনায় নিকোটিন তুলনামূলক কম ক্ষতি করে। নিকোটিনের কারণে ক্যান্সার হয় না, কিন্তু সাধারণ সিগারেটের ভেতরে থাকা তামাকের কারণে ক্যান্সার হতে পারে, যার কারণে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।

এ কারণে ধূমপান বন্ধ করতে নিকোটিন গ্রহণের মাধ্যম পরিবর্তনের জন্য অনেক বছর ধরে পরামর্শ দিয়ে আসছে যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য বিভাগ। যার মধ্যে রয়েছে গাম, স্কিন প্যাচেস বা মুখে স্প্রে করা।

সেগুলোতে কি কোনো ঝুঁকি আছে?
চিকিৎসক, স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞ, ক্যান্সার নিয়ে কাজ করা দাতব্য সংস্থাগুলো একমত হয়েছে যে, বর্তমানে যেসব তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে, তাতে সাধারণ সিগারেটের তুলনায় ইলেকট্রিক সিগারেট সামান্যই ঝুঁকি বহন করে।

একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, সিগারেট বা ধূমপানের তুলনায় এভাবে ধোঁয়া নেয়া ৯৫ শতাংশ কম ক্ষতির কারণ হতে পারে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, এগুলো পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত।

ইলেকট্রিক সিগারেটের ভেতরে থাকা তরল পদার্থ এবং ধোঁয়া অনেক সময় এমন সব ক্ষতিকর রাসায়নিক বহন করতে পারে, যা সাধারণ সিগারেটের ভেতরেও থাকে। তবে এর মাত্রা অনেক কম।

যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা এর আগে ছোট কয়েকটি পরীক্ষায় দেখেছেন, এ ধরনের ধোঁয়া গ্রহণ শরীরের ফুসফুসের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় পরিবর্তন আনতে পারে।

সুতরাং এভাবে ধোঁয়া গ্রহণে স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি হয় না, এটা এখনি বলা যাবে না। তবে বিশেষজ্ঞরা একমত যে, প্রচলিত সিগারেটের তুলনায় ইলেকট্রিক সিগারেটে ঝুঁকির মাত্রা অনেক কম।

ইলেকট্রিক সিগারেট কি অন্যদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ?
এরকম ধোঁয়া অন্যদের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে, এমন কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। প্রচলিত সিগারেটের ধোঁয়ায় আশেপাশের মানুষ যতটা ক্ষতির শিকার হয়, সে তুলনায় ইলেকট্রিক সিগারেটের ক্ষতি তেমন একটা হিসেবের মধ্যে পড়ে না।

ইলেকট্রিক সিগারেট নিয়ে বিতর্ক
এ নিয়ে দীর্ঘসময় ধরে বিতর্ক চলছে। স্কটল্যান্ডে এক জরিপে দেখা গেছে, তরুণদের অনেকে ইলেকট্রিক সিগারেট ব্যবহার করে পরে ধূমপানে আসক্ত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ মেয়াদে এর প্রভাব কী পড়তে পারে, সে ব্যাপারে গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথাও এখন উঠছে।

ইলেকট্রিক সিগারেটে কী থাকবে, তা নিয়ে কি কোনো আইন আছে?
ইলেকট্রিক সিগারেটের ভেতর কী কী উপাদান থাকবে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় যুক্তরাজ্যের আইন অনেক কড়া। যুক্তরাজ্যের ইলেকট্রিক সিগারেটে কতটুকু নিকোটিন থাকবে, তার সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের আইনে নেই।

১৮ বছরের কারো কাছে এ ধরনের সিগারেট বিক্রি করা যাবে না। ইলেকট্রিক সিগারেটের ক্ষেত্রে অনেকটা একই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে কানাডা ও নিউজিল্যান্ডে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা