kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ জুলাই ২০১৯। ৪ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৫ জিলকদ ১৪৪০

আছাড় মেরেছে বাবা-মা! শতাধিক হাড় ভেঙে, খুলি ফেটে মারা গেছে শিশু

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ জুন, ২০১৯ ১৯:৪৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আছাড় মেরেছে বাবা-মা! শতাধিক হাড় ভেঙে, খুলি ফেটে মারা গেছে শিশু

মাত্র দুই মাসের শিশুর শরীরে শতাধিক হাড় ভাঙা! মাথার খুলিও ফেটে গেছে বিশ্রীভাবে। মৃত শিশুটির অবস্থা দেখে শিউরে ওঠেন চিকিৎসকরাও। পুলিশও কোনো সূত্র খুঁজে পায়নি, কীভাবে এ ধরনের অবস্থা হতে পারে। 

একপর্যায়ে ডাকা হয় গোয়েন্দা বাহিনীকে। প্রায় এক বছর ধরে তদন্ত শেষে উঠে আসে, আরো ভয়ঙ্কর তথ্য। জানা যায়, মাত্র দুই মাসের শিশুকন্যার ওই অবস্থা করেছিল তার মা-বাবাই!

পুলিশ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে হিউস্টন শহরে গত বছরের ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন অভিযুক্ত মা-বাবা। জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের চেয়ে খানিক আগেই জন্ম নিয়েছিল শিশুটি। কিছু অসুস্থতাও ছিল তার। জন্মের পর ১২ দিন হাসপাতালে চলেছিল জীবন-মৃত্যুর লড়াই। তার পর বাড়ি ফিরে এসেছিল সে। তার নাম রাখা হয়, জেসমিন রবিন।

তার বাবা ২৪ বছরের জেসন পল রবিন এবং মা ২১ বছরের ক্যাথরিন উইনধাম হোয়াইটের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা সন্তানকে ন্যূনতম সুরক্ষা তো দিতেই পারেনি, উল্টো মেয়েটির ওপর প্রবল অত্যাচার চালাতেন তারা! 

এক তদন্তকারী বলেন, আমরা তদন্ত চালাতে গিয়ে অবাক হয়ে গেছি! ভাবা যায় না, এত ছোট বাচ্চার উপরে এমন নৃশংস অত্যাচার করতে পারে কোনো বাবা-মা! তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিয়েছি আমরা। অপরাধ প্রমাণও হয়েছে।

ময়না-তদন্ত বলছে, দেয়ালে বা মেঝেতে ভোঁতা কোনো জায়গায় আছড়ে ফেলা হয়েছিল ছোট্ট জেসমিনকে। তার মাথায় প্রচণ্ড আঘাত লেগেছিল, ফেটে যায় খুলি। সেই সঙ্গে পাঁজরের ৭১ টা হাড় ভেঙেছিল তার। ভেঙেছিল শরীরের অন্য আরো ২৩টি হাড়। তবে একবার না, বেশ কয়েকবার আছাড় দেওয়া হয়েছে ওই শিশুকে।

গোয়েন্দাদের তদন্তে জানা গেছে, জেসমিনের একটানা কান্নায় খুবই বিরক্ত ছিল জেসন এবং ক্যাথরিন। তাই রাগের মাথায় প্রায়ই মারধর করে চুপ করানোর চেষ্টা করত। এক দিন সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেলে মেয়েকে আছাড় মেরে বসেন তারা! মারা যায় শিশুটি। 

চিকিৎসকদের কাছে বাচ্চাকে নিয়ে গিয়ে তারা দাবি করেন, দুর্ঘটনা ঘটেছে বাচ্চার সঙ্গে। যদিও সে কথা বিশ্বাস করেননি চিকিৎসকরাও। কোনো দুর্ঘটনায় এমনটা ঘটতে পারে না বলেই মনে হয় তাদের। ফলে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
 
পুলিশ তদন্ত শুরু করার পরে শরণাপন্ন হয় গোয়েন্দা বাহিনীর। বাচ্চাটির দেহ পাঠানো হয় ময়না-তদন্তে। ময়না-তদন্ত করতে অনেক মাস সময় লাগে। কারণ অত ছোট শরীরে অত হাড় ভাঙা ছিল, তা কাটাছেঁড়া করতে অনেক বেশি সময় লাগে। তার পরই নিশ্চিত হওয়া যায়, ঠিক কীভাবে আঘাত লেগে শরীরের হাড়গুলো ভেঙেছে তার।

জিজ্হাসাবাদে জেসন জানিয়েছেন, তিনি খুবই রাগী। অনেক চেষ্টা করতেন নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করার। এজন্য নানা বইও পড়তেন। কিন্তু তার পরেও তার মনে হয়েছিল, ছোট্ট জেসমিন মেরে ফেলা খুবই ভালো! 

অন্যদিকে ক্যাথরিন সব দোষ চাপিয়েছেন হাসপাতালের উপরে। জানিয়েছেন, সেখানেই তার মেয়ের মাথায় চোট লেগেছিল। বুকের হাড়ও ভেঙেছিল কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস চালানোর সময়।

যদিও তাদের যুক্তি মোটেও গৃহীত হয়নি পুলিশ তথা আদালতের কাছে। তাই অপরাধ প্রমাণ হওয়ার পর, যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা হয়েছে জেসন ও ক্যাথরিনের। মঙ্গলবার টেক্সাসের হ্যারিস কাউন্টি কারাগারে পাঠানো হয় তাদের। জানা গেছে, তাদের হয়ে মামলা লড়ার জন্য এখনো কোনো আইনজীবী রাজি হননি।

মন্তব্য