kalerkantho

বুধবার । ২৪ জুলাই ২০১৯। ৯ শ্রাবণ ১৪২৬। ২০ জিলকদ ১৪৪০

তালা খুলতে নিজের শরীরে বসালেন চিপ!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ জুন, ২০১৯ ১০:৩৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তালা খুলতে নিজের শরীরে বসালেন চিপ!

সংগৃহীত ছবি

চাবির গোছা, মানিব্যাগ সঙ্গে করে বয়ে বেড়াতে অনেকেরই মনে বিরক্তি জাগে। শুধু আঙুলের ইঙ্গিতে যদি দরজা খোলা যেত অথবা বকেয়া বিল মিটিয়ে ফেলা যেত তাহলে কেমন হতো? ত্বকের নিচে চিপ বসিয়ে এমনটা করতে চাইছেন এক ব্যক্তি।

রাল্ফ নয়হয়সার নতুন ডিজিটাল যুগের এক পথিকৃৎ। তাঁর ত্বকের নিচে অতি ক্ষুদ্র মাইক্রোচিপ বসানো হয়েছে। দুই হাতের বুড়ো আঙুল ও তর্জনীর মাঝে সব মিলিয়ে তিনটি মাইক্রোচিপ আছে। তিনি নিজেকে এক নতুন প্রজাতি হিসেবে গণ্য করেন। রাল্ফের ভাষায়, ‘আমার এক আপগ্রেডের অভিজ্ঞতা হয়েছে। নতুন করে বেড়ে ওঠার এক অনুভূতি টের পাচ্ছি। নাক উঁচু করে নিজেকে বড় করে দেখাতে এ কথা বলছি না। সত্যি মনে হচ্ছে, যেন কিছু পরিবর্তন ঘটেছে।’

জার্মানির ড্যুসেলডর্ফ শহরে এক বিজ্ঞান সম্মেলনে বায়ো-হ্যাকিং অর্থাৎ ডিজিটাল ইমপ্লান্টের মাধ্যমে শরীরকে আরো নিখুঁত করার বিষয়ে এক বক্তৃতা দিয়ে তিনি নিজে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শরীরে প্রথম চিপ বসিয়েছিলেন। রাল্ফ বলেন, ‘অতীতে অন্য কারো ওপর এমন পরীক্ষা চালানো হতো। সে সময় বাইরে থেকে উঁকি মারার সুযোগ ছিল। এখন সুচ দেখলে মোটেই ভয় লাগবে না, রক্তদানের মতো অভিজ্ঞতা হবে। আগে সেটি একটু বড় ছিল।’

তারপর আরো দুটি চিপ লাগান তিনি। তাঁর মতে, চিকিৎসাবিদ্যার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সেগুলো মোটেই বিপজ্জনক নয়। শেষ চিপটি তিনি নিজেই নিজের শরীরে বসিয়েছিলেন। একটি চিপের মাধ্যমে তিনি অফিসের বন্ধ দরজার তালা খুলতে পারেন। অন্য একটিতে রক্তের গ্রুপ, অঙ্গদানের অঙ্গীকারের মতো কিছু আপৎকালীন তথ্য ভরা আছে।

এখনো দৈনন্দিন জীবনে এমন চিপের ক্ষমতা সীমিত আছে। তবে তাতে তিনি মোটেই উদ্বিগ্ন নয়। রাল্ফ বলেন, “আমি আরো অগ্রসর হতে চাই। পথিকৃৎ হতে চাই। ‘আর্লি অ্যাডাপ্টার’, ‘ফার্স্ট মুভার’ হতে চাই। নিজে বিষয়টি নিয়ে গভীর চর্চা করে বিচার করতে চাই।”

তথ্য সংরক্ষণ নিয়ে ৫৩ বছর বয়সী এই ব্যক্তির কোনো দুশ্চিন্তা নেই। তিনি নিশ্চিত যে ইমপ্লান্ট এটিএম কার্ড বা স্মার্টফোনের মতোই নিরাপদ। সেগুলোও একই রকম প্রযুক্তির ভিত্তিতে চলে। রাল্ফ নয়হয়সার মনে করেন, ‘আমার কাছে আরো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, এর সম্ভাবনা কী?

ঝুঁকির থেকে এই প্রশ্ন অনেক বেশি জরুরি? ঝুঁকির বিশ্লেষণ ও অবশ্যই তা বিচার করা উচিত, কিন্তু আমি সবার আগে সম্ভাবনার বিষয়ে জানতে চাই।’

ড্যুসেলডর্ফ শহরের এই বিজ্ঞানী আসলে নেটওয়ার্ক বিশেষজ্ঞ। অনেক স্টার্ট-আপ কম্পানির সঙ্গে তাঁর ভালো যোগাযোগ আছে। তিনি নিজে ও তাঁর নিয়োগকর্তারা অফিস ভাড়া দিয়ে তরুণ উদ্যোগপতিদের সহায়তা করেন। নতুন ও প্রথাগত ধারার বাইরে চিন্তাভাবনা তাঁর কাছে খুব স্বাভাবিক বিষয়। সেই সঙ্গে একটি লক্ষ্যও আছে। রাল্ফ বলেন, ‘আমি সম্ভবত চাবির গোছা ও মানিব্যাগ বাসায় রেখে আসতে পারি। কোনো একসময় সত্যি হয়তো এ সবের প্রয়োজন হবে না। একে একে প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে।’

ততদিন পর্যন্ত তিনি ডিজিটাল ইমপ্লান্ট নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন, নতুন সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবেন। পরের দুটি চিপ বসানোর পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে। সূত্র : ডয়চে ভেলে।

মন্তব্য