kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭। ৭ আগস্ট  ২০২০। ১৬ জিলহজ ১৪৪১

তৃণমূলকে বাঁচানো উচিত, দেখার কি কেউ নেই?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ জুন, ২০১৯ ০৯:০১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তৃণমূলকে বাঁচানো উচিত, দেখার কি কেউ নেই?

প্রতীকী ছবি

কতিপয় নেতা এবং কোনো কোনো জনপ্রতিনিধির পরিবার পরিজন এবং হাইব্রিডদের হাতে আজ তৃণমূল জিম্মি। তাদের আত্মীয়-পরিজন আর তেলবাজদের চলছে রামরাজত্ব। কোনো কোনো এলাকায় মূল দলের উপজেলা/থানা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে কেবল হাতে গোনা কয়েকজন দলীয় সামান্য সুযোগ-সুবিধা পায়। বাকিদের অবস্থা চরম হতাশাজনক।

আদর্শবান ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা আজ বঞ্চিত, উপেক্ষিত এবং দিশেহারা। বিরোধী দল এখন আর কোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ না। নিজ দলীয় প্রকৃত নেতাকর্মীরাই এখন আসল প্রতিপক্ষ। এদেরকে কূটকৌশলে এবং গৃহবিবাদে ফেলে রাজনীতি থেকে মাইনাস করা হচ্ছে। ফলে পদধারীরাসহ দীর্ঘদিনের পরিক্ষিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীরাও দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে একেবারে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছা সেবকলীগসহ সকল অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের অবস্থা আরো করুণ। হাইব্রিড, 'আত্মীয় লিগ' এবং 'হঠাৎ লিগ'সহ সরকারবিরোধী পক্ষ তেলপানির বিনিময়ে কিছু দায়িত্ববানদের মাধ্যমে কব্জা করে নিয়েছে সরকারি চাকরির বাজারের বড় অংশ। নেত্রীর সদিচ্ছার পরও আওয়ামী পরিবারের সদস্য ও ছাত্রলীগের যোগ্য প্রার্থীদের অনেকেই আজ চাকরিবঞ্চিত। অনেক এলাকাতে প্রশাসন সিনিয়র দলীয় নেতৃবৃন্দকেও পাত্তা দেয় না; উল্টো অপমান অপদস্থ করে। দল পরপর তিনবার ক্ষমতায় থাকার পরেও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আজ ভীষণ অসহায় এবং মূল্যহীন।

আগামী প্রজন্মের উপযোগী একটি সুখী সুন্দর উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে জীবন বাজি রেখে দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। শত বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্ব এবং ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তায় সারা দেশের প্রতিটি সেক্টরে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলছে। দেশের গরীব ও সাধারণ মানুষসহ সকলে এর সুফল ভোগ করছেন। অথচ তৃণমূলের কিছু নেতা ও জনপ্রতিনিধির বিতর্কিত/নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে দল দিন দিন সাংগঠনিক শক্তি হারাচ্ছে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। এছাড়া, গৃহবিবাদ চরম আকার ধারণ করেছে। এ কারণে, সরকারের সফলতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

ভেবেছিলাম এটা নিয়ে কেউ না কেউ লিখবে; কিন্ত তেমনটি এখনো চোখে পড়েনি। তাই বিবেকের তাড়নায় বাধ্য হয়েই এ লিখা। কেননা, দুর্দিনে (খোদা না করুন) ভুলের খেসারত প্রত্যেকটা নেতাকর্মীকেই দিতে হবে। আমিও হয়তো ক্ষমা পাবো না। তৃণমূলের সুখ আমাকে উজ্জীবিত করে; আর তাদের কষ্ট, আমার ব্যথা বাড়িয়ে দেয়।

কাজেই এভাবে আর চলতে পারে না। তৃণমূল বাঁচাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)
 

লেখক: নাজনীন আলম, রাজনীতিবিদ, 

 গৌরীপুর, ময়মনসিংহ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা