kalerkantho

বুধবার । ২৪ জুলাই ২০১৯। ৯ শ্রাবণ ১৪২৬। ২০ জিলকদ ১৪৪০

জাদুকর মৃত্যুর ঘটনায় উপস্থিতরা পুলিশের চোখে দোষী, হয়েছে মামলা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ জুন, ২০১৯ ২০:৫০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাদুকর মৃত্যুর ঘটনায় উপস্থিতরা পুলিশের চোখে দোষী, হয়েছে মামলা

জাদুকর ম্যানড্রেক ওরফে চঞ্চল লাহিড়ীর খেলা দেখাতে গিয়ে গঙ্গায় তলিয়ে মৃত্যুর ঘটনায় এবার স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করল ভারতের কলকাতা পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বরিবার দুপুরে খেলা শুরুর আগে লঞ্চে উপস্থিত সবার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে। 

পুলিশ বলছে, খেলা শুরুর অনুমতি ছিল সাড়ে ১২টায়। তার থেকে ঘণ্টাদেড়েক আগেই খেলার প্রস্তুতি শুরু হয়। যার জেরে গাফিলতির অভিযোগও তোলা হয়েছে কলকাতা পুলিশের তরফে। 

প্রদর্শনীর সময় লঞ্চে উপস্থিত চঞ্চলের দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে গাফিলতিতে মৃত্যু ঘটানোর অভিযোগে মামলা করেছে লালবাজার থানা পুলিশ। 

কোমরে শক্ত করে বাঁধা মোটা দড়ি, চেন। পরনে ফুলহাতা হলুদ জামার উপর হলুদ হ্যাফ জ্যাকেট। লাল-হলুদ রঙের চাপা প্যান্ট। মাথা শক্ত করে এঁটে বসা টুপি। বাঁ পা বাঁধা মোটা দড়ির সঙ্গে। ডান পায়ে বেল্ট। সোমবার বিকেলে হাওড়ার রামকৃষ্ণ ঘাট থেকে এই অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এক ব্যক্তির মরদেহ। 

‘ডেথ ডাইভ’ দেখাতে রবিবার দুপুরে লঞ্চ থেকে ঠিক যে অবতারে জাদুকর ম্যানড্রেক গঙ্গায় নেমেছিলেন, এই দেহের পোশাক অবিকল সে রকম। তাই উদ্ধার হওয়া দেহটি ম্যানড্রেক ওরফে চঞ্চল লাহিড়ীর বলে মোটের উপর নিশ্চিত ছিলেন তদন্তকারীরা। রাতে তার দাদা শ্যামল লাহিড়ী মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে ভাইয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন। 

রবিবার দুপুরে হুডিনি অ্যাক্ট দেখাতে গিয়ে গঙ্গায় উধাও হয়ে গিয়েছিলেন চঞ্চল। ছয়টি তালা লাগানো ৩২ ফুট লম্বা স্টিলের চেন দিয়ে হাত-পা-কোমর বাঁধা হয়েছিল তার। হাতে পায়ে বাঁধা হয় দড়ি। এরপর ক্রেনের সাহায্যে তাকে লঞ্চ থেকে গঙ্গায় ফেলেছিলেন তার দলের সদস্যরা। বন্ধনমুক্ত হয়ে সাঁতরে উঠে আসার কথা ছিল জাদুকর ম্যানড্রেকের। কিন্তু মারণ খেলা দেখাতে গিয়ে তলিয়ে যান তিনি। রবিবার দুপুর থেকে তল্লাশি শুরু হলেও রাত পর্যন্ত দেহ মেলেনি। সোমবার সকাল থেকে তল্লাশির পর বিকেলে রামকৃষ্ণ ঘাটে হদিস মেলে মরদেহের। 

ম্যানড্রেক নিখোঁজ হওয়ার পর তার ভাতিজা রুদ্রপ্রসাদ, সঙ্গী ভবেশ বারিকরা দাবি করেছিলেন, নিজেকে বন্ধনমুক্ত করে হাত নেড়েছিলেন ম্যানড্রেক। আজও দেখা যায় তার দুটি হাত খোলা। দু’পা একসঙ্গে বাঁধা না থাকলেও এক পায়ে মোটা দড়ি, অন্য পায়ে বেল্ট। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, পায়ে মোটা দড়ি, বেল্ট থাকায় সাঁতার কাটার মতো অবস্থায় ছিলেন না তিনি। তাই স্রোতে ভেসে যান।

মন্তব্য