kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৬ জুলাই ২০১৯। ১ শ্রাবণ ১৪২৬। ১২ জিলকদ ১৪৪০

আমার ভাই শহীদ হয়েছে- কাঠগড়ায় মুরসির মৃত্যুতে বললেন এরদোয়ান

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ জুন, ২০১৯ ১৪:০৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আমার ভাই শহীদ হয়েছে- কাঠগড়ায় মুরসির মৃত্যুতে বললেন এরদোয়ান

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মামলা করা হয় মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মুরসির বিরুদ্ধে। ওই মামলায় সোমবার শুনানি চলছিল আদালতে। একপর্যায়ে এজলাসেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন কারাবন্দি সাবেক এই প্রেসিডেন্ট।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর খবরে বলা হয়, আদালতের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর সাবেক এ প্রেসিডেন্ট জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এর কিছুক্ষণ পরই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।

৬৭ বছর বয়সী মোহাম্মদ মুরসির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান। এ সময় মুরসিকে 'শহীদ' আখ্যায়িত করেন তিনি। এরদোয়ান বলেন, 'আল্লাহ আমাদের ভাই, শহীদ মুরসির আত্মার প্রতি রহম করুন। তাকে পরকালে শান্তিতে রাখুন।'

বার্তা সংস্থা এপি জানায়, আদালতে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি পাচার মামলার শুনানি চলছিল। সাবেক প্রেসিডেন্ট বিচারকের কাছে কথা বলার অনুমতি চাইলে সে সুযোগ দেওয়া হয় তাঁকে। ২০ মিনিট বক্তব্য দেন মুরসি। বক্তব্যের মধ্যেই বুকে ব্যথা অনুভব করেন। এক পর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই মারা যান মুরসি।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন মোহাম্মদ মুরসির সঙ্গে। ব্রাদারহুডের বহু নেতাকর্মীসহ মুরসিকে গ্রেপ্তার ও সাজানো মামলায়  বিচারের কড়া সমালোচনা করেছেন এরদোয়ান।

মোহাম্মদ মুরসির মৃত্যুর পর দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ আস-সিসি ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সমালোচনা করে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, মিসরের প্রেসিডেন্ট সিসি জনগণের ভোটে নির্বাচিত মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে জোরপূর্বক ক্ষমতা দখল, গণতন্ত্রকে পদদলিত এবং ক্ষমতায় এসে ৫০ জনকে ফাঁসি দিয়েছেন।

এরদোয়ান বলেন, 'মুরসি গণতান্ত্রিকভাবে ৫২ শতাংশ ভোট পেয়ে মিসরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। কিন্তু দেশটির সামরিক বাহিনী এ বাস্তবতা মেনে নেয়নি। তারা মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার সব ক্ষেত্র সৃষ্টি করেছিল।'

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমালোচনা করে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, সিসি ক্ষমতায় আসার পর মিসরীয়দের ফাঁসি দিলেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ বিষয়ে নীরব থেকেছে। মিসরে যখন ফাঁসির ঘটনা ঘটছিল তখন সেই দেশেই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিয়েছে ইউরোপীয় দেশগুলো।

এরদোয়ান বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তুরস্ককে ফাঁসির আদেশ বাতিলের জন্য বারবার আহ্বান জানাচ্ছে কিন্তু মিসরে তারা আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এমন সময় অংশ নিয়েছে যখন সে দেশের নাগরিকদেরকে ফাঁসি দেওয়া হচ্ছিল। আর এ থেকে প্রমাণিত হয় ইউরোপ মানবাধিকার বিষয়ে দ্বিমুখী আচরণ করছে।

তিনি বলেন, মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি তার হাজার হাজার বিপ্লবী সমর্থককে নিয়ে গত পাঁচ বছর ধরে কারাগারে ছিলেন কিন্তু পাশ্চাত্যের কেউ তাঁর পক্ষে কথা বলেনি।

এরদোয়ান বলেন, আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের শহীদ ভাইদের জন্য দোয়া করছি, আল্লাহ যেন শহীদদের ওপর রহম করেন। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা