kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৬ জুলাই ২০১৯। ১ শ্রাবণ ১৪২৬। ১২ জিলকদ ১৪৪০

স্টিফেন হকিং সম্পর্কে যে তথ্য অনেকের অজানা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ জুন, ২০১৯ ১৯:৩১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্টিফেন হকিং সম্পর্কে যে তথ্য অনেকের অজানা

স্টিফেন হকিংয়ের গবেষণার বিষয় ছিল কৃষ্ণগহ্বর। এই গবেষণাই তাঁকে দিকপাল করেছে। অন্যদিকে এই বিষয়ই তাঁকে এক বারের জন্যেও মনোনীত করেনি নোবেল পুরস্কারের জন্য। তাঁর সম্পর্কে আরও কিছু দুর্লভ তথ্য তুলে ধরা হলো :

হকিং-এর জন্ম ১৯৪২-এর ৮ জানুয়ারি। ঘটনাচক্রে সেটি ছিল গ্যালিলিওর ৩০০তম মৃত্যুবার্ষিকী। আর তিনি চলে গেলেন আলবার্ট আইনস্টাইনের ১৩৯তম জন্মদিনে।

আট বছর বয়স অবধি ঠিকমতো পড়তেই পারতেন না। স্কুলের ফল ছিল বেশ খারাপ। তবু প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বৃত্তি পেয়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান পড়তে শুরু করেন ১৭ বছর বয়সে।

কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, কৃষ্ণ গহ্বর ইত্যাদি বিষয়ে তাঁর লেখা ভারি ভারি তাত্ত্বিক বই ছাড়াও তিনি বই লিখেছেন ছোটদের জন্যও। ছোটদের জন্য লেখা তাঁর উল্লেখযোগ্য বই 'জর্জ'স সিক্রেট কি টু দি ইউনিভার্স'। তাঁর লেখা 'এ ব্রিফ হিসটোরি অব টাইম' বেস্ট সেলার। ২০ বছরে বিক্রি হয়েছে ১০ মিলিয়ন কপি। অনূদিত হয়েছে অন্তত ৩৬টি ভাষায়।

জটিল স্নায়ুরোগে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত  তিনি ছিলেন অক্সফোর্ড রোয়িং টিম-এর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

হকিং দাবি করেছিলেন কোনও কিছুই কৃষ্ণ গহ্বরকে উপেক্ষা করে চলে যেতে পারে না। এমনকী তথ্যও রেহাই পাবে না এর থেকে। পরে এই তত্ত্ব ভুল প্রমাণিত হয়। ২০০৪ সালে ভুল স্বীকার করে নেন হকিং।

তাঁর স্পিচ সিন্থেসিজারে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে আমেরিকান অ্যাকসেন্ট। হকিং জন্মগতভাবে ব্রিটিশ। কিন্তু ওই বাচনভঙ্গি বা উচ্চারণ পাল্টাতে চাননি।  মনে করতেন ওই কণ্ঠই তাঁর নিজস্ব পরিচয় হয়ে গেছে।

বাবা ব্রিটিশ হলেও হকিং-এর মা ছিলেন স্কটিশ।  দুজনই অত্যন্ত মেধাবী। আর্থিক বাধা অতিক্রম করে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাবা ছিলেন চিকিত্‍সা শাস্ত্রের গবেষক। মা দর্শন শাস্ত্রের।

ফিলিপা ও মেরি নামে দুই বোন স্টিফেনের। এ ছাড়া  তাঁর বাবা-মা দত্তক নিয়েছিলেন এডওয়ার্ড নামের এক বালককে। দুই বোন ও এক দত্তক ভাইয়ের সঙ্গেই বড় হন স্টিফেন।

হকিং পরিবারের পরিচিতি ছিল অত্যন্ত মেধাবী বলে। প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিশেষ মেলামেশাও ছিল না।  এমনকী পরিবারের সবাই একটি করে বই হাতে নাকি খেতে বসতেন টেবিলে। বই পড়তে পড়তে নিঃশব্দে খেতেন। কেউ কারও সঙ্গে কোনও কথা না বলে খাওয়া শেষ করে উঠে পড়তেন।

অক্সফোর্ডে পড়ার সময় হকিং প্রেমে পড়েন সহপাঠী জেন ওয়াইল্ডের। তাঁর জটিল অসুখের কথা জেনেও সরে আসেননি জেন। দুজন বিয়ে করেন ১৯৬৫-র ১৪ জুলাই। জন্ম নেয় তিন সন্তান রবার্ট, লুসি ও টিমোথি।

একদিকে ঘরে চিকিত্‍সক নার্স রোগ মিলিয়ে ভারি পরিবেশ। অন্যদিকে বাইরে স্বামীর সেলেব্রিটি সত্ত্বা।  ক্রমে হাফিয়ে উঠলেন জেন। সঙ্ঘাত বাঁধল বিশ্বাসেও। তিনি ছিলেন ধর্মবিশ্বাসে ক্রিশ্চান।  নিয়মিত গির্জায় যেতেন। কয়্যারে গান করতেন।  কিন্তু ঈশ্বর-অবিশ্বাসী স্বামী সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর।

এই অবস্থায় পারিবারিক বন্ধু ও অর্গ্যান বাদক জোনাথন হেলিয়ার জোন্স-এর সঙ্গে সম্পর্ক হয় জেনের। কিন্তু তিনি ঠিক করেছিলেন সংসার ভাঙবেন না। দীর্ঘদিন জেন-জোনাথন সম্পর্ক ছিল প্লেটোনিক।

কিন্তু এভাবে চলল না বেশিদিন। নার্স এলাইনা ম্যাজনের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়লেন হকিং। ১৯৯৫ সালে ভেঙে গেল হকিং-জেন দাম্পত্য। হকিং বিয়ে করলেন এলাইনাকে।

কিন্তু সে বিয়েও বিতর্কিত। অভিযোগ, এলাইনার হাতে নিগৃহীত হতেন হকিং। তিনি নিজে কোনওদিন কোনও অভিযোগ করেননি। ২০০৬ সালে দ্বিতীয়বার বিবাহবিচ্ছেদ হলো হকিং-এর।

জেন কিন্তু আর বিয়ে করেননি। শেষ জীবনে সাবেক  স্ত্রী, সন্তান ও নাতি-নাতনিদের সঙ্গে দূরত্ব অনেক কমে গিয়েছিল হকিং-এর।  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা