kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৬ জুলাই ২০১৯। ১ শ্রাবণ ১৪২৬। ১২ জিলকদ ১৪৪০

ডুব থেকে উঠছেন না জাদুকর, মিলছে না লাশ; অপেক্ষায় পরিবার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ জুন, ২০১৯ ১৯:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডুব থেকে উঠছেন না জাদুকর, মিলছে না লাশ; অপেক্ষায় পরিবার

চোখ বেঁধে গঙ্গা পার হচ্ছিলেন তিনি। রবিবার দুপুর। সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছেন জাদুকর ম্যানড্রেকের কসরত দেখার জন্য। আর তখনই পানির নিচে তলিয়ে যান তিনি। প্রথমে দর্শক ভেবেছিলেন এটাই তার জাদু। খানিকক্ষণ পার হয়ে যাওয়াও পর ভুল ভাঙে সবার। 

খবর দেওয়া হয় পুলিশে। দমকল বাহিনী শুরু করে তল্লাশি। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের হাওড়া ব্রিজের নিচে, রবিবার বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ। জাদুকর ম্যানড্রেকের আসল নাম চঞ্চল লাহিড়ী। বাড়ি সোনারপুর। উত্তর বন্দর থানার পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা তার সন্ধানে নেমেছেন।

জানা গেছে, হাত–পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় ক্রেনের সাহায্যে হাওড়া ব্রিজ থেকে গঙ্গায় নেমেছিলেন তিনি। জাদু দেখানোর সময় নিখোঁজ হয়ে যান। বিকেলে খবর পৌঁছায় তার বাড়িতে। খবর শুনেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। বাড়ির সামনে ভিড় জমতে থাকে প্রতিবেশীদের। 

জানা গেছে, চঞ্চলের বাড়ি রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সুভাষগ্রামের চণ্ডীতলায়। ছোটবেলা থেকেই জাদু দেখানো শুরু করেন তিনি। পাড়ার পুকুরে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় সাঁতার দেওয়া, চোখে কাপড় বেঁধে বাইক ও বাস চালানোর মতো ঝুঁকির ম্যাজিক দেখাতেন। ১৯৯৮ সালে বাক্সবন্দি অবস্থায় গঙ্গায় ডুব দিয়ে পাড়ে ফিরে আসার পর তার নাম ছড়িয়ে পড়ে। 

তার মা উমা লাহিড়ী বলেন, ছোটবেলা থেকেই ম্যাজিক দেখিয়ে ছেলে সবার মন জয় করে নিয়েছিল। ছেলের বউ ঋতা এবং তাদের ছেলে রুদ্রপ্রসাদ সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় ম্যাজিক দেখাতে যেত।

তিনি আরো বলেন, নাতি দুর্জয় হরিনাভী হাইস্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র। বাবার নিখোঁজের ঘটনায় ভেঙে পড়েছে। দুর্জয় জানায়, বাবা তার জন্মদিনে বাড়িতে থাকতে পারতেন না। কিন্তু এবার ১০ জুন তার জন্মদিনে বাবা বাড়িতে ছিলেন। হইচই করে জন্মদিনও পালন করা হয়।

জাদু দেখাতে গিয়ে ভ্যানিশ হয়ে যাওয়ার একদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তার কোনো হদিশ মেলেনি। প্রবল উৎকণ্ঠা নিয়ে ‘ম্যানড্রেকে’র অপেক্ষায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। শোকস্তব্ধ পুরো এলাকা।

হাত-পা বেঁধে পানিতে নেমে নিখোঁজ জাদুকর চঞ্চল, স্ত্রীকে বলেছিলেন হাত নাড়বেন

রবিবার থেকেই থমথমে সোনারপুরের সুভাষগ্রামের চণ্ডীতলা এলাকা। বাড়ির বাইরে প্রতিবেশীদের আনাগোনা চলছেই। সবাই চঞ্চলের অপেক্ষায়। খবর পাওয়ার পর থেকেই বারান্দায় বসে আছেন জাদুকরের মা। কান্না ভেজা গলায় তিনি বলেন, ছোট থেকেই জাদু নেশা ছিল চঞ্চলের। বয়স বাড়তে নেশাকেই পেশা বানিয়ে ফেলেছিল। কখনো হাত-পা বেঁধে সাঁতার কাটা, কখনো আবার চোখ বেঁধে বাস চালানো। জাদুবলে সকলের মন জয় করেছিল চঞ্চল।

রবিবার দুপুরে চঞ্চল লাহিড়ী ফেয়ারলি ঘাট থেকে লঞ্চে ওঠেন। ২৮ নম্বর পিলারের কাছে লঞ্চ থেকে ঝাঁপ দেন। পরিকল্পনা ছিল, তার হাত-পা-মুখ বাঁধা থাকবে। হাওড়া ব্রিজে থাকা ক্রেন দিয়ে তাকে লঞ্চ থেকে প্রথমে তোলা হবে। তারপর ওই ক্রেন থেকেই গঙ্গায় ছুঁড়ে ফেলা হবে। 

সেখান থেকে তিনি নিজেই উঠে আসবেন। কিন্তু গঙ্গায় ঝাঁপ দেওয়ার পর আর উঠতে পারেননি তিনি। এই ঘটনার পর থেকে শান্ত হয়ে গিয়েছে চঞ্চলবাবুর ছেলে দুর্জয়। স্কুলপড়ুয়া ছেলের কথায় আতঙ্ক স্পষ্ট। বাবা না ফিরলে কী হতে পারে তা ভেবেই আঁতকে উঠছে দুর্জয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, উনি খুব মিশুক মানুষ, জাদুকর বলে সবাই তাকে একনামে চেনে। এখন সকলের কামনা, দ্রুত ফিরে আসুন চঞ্চল লাহিড়ী তথা সকলের ‘ম্যানড্রেক’।  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা