kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ জুলাই ২০১৯। ৪ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৫ জিলকদ ১৪৪০

অসহায় এক সন্তানের আকুতি কী প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছাবে?

দেবদাস মজুমদার   

১৬ জুন, ২০১৯ ১৯:১৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অসহায় এক সন্তানের আকুতি কী প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছাবে?

উদীয়মান তরুণ লেখক তিনি। গল্প, উপন্যাস আর প্রবন্ধ নিয়ে এ পর্যন্ত তাঁর ৪টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৮ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রবন্ধের বই 'ছিটমহলের দিনগুলি' পাঠকমহলে আলোড়ন তোলে। আর এই বইটি নিয়ে একটা ডকুমেন্টারি নির্মাণের স্বপ্ন দেখেন তিনি। 

কিন্তু আফরোজা মুন্নীর এখন লড়াই করতে হচ্ছে বেঁচে থাকার জন্য। কারণ মস্তিষ্কে তাঁর ঘাতক টিউমার বাসা বেঁধেছে। ধীরে ধীরে তিনি হেঁটে যাচ্ছেন মৃত্যুর দিকে। দীর্ঘ সাত বছর ধরে এই ঘাতক টিউম,আরের সাথে লড়াই করে এখন তিনি ক্লান্ত। তবুও অদম্য তিনি, লড়ছেন। তবে এই দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই করতে গিয়ে হয়েছেন সর্বস্বান্ত।

তবুও বাঁচতে চান তিনি। স্বপ্ন দেখা আফরোজা পূরণ করে যেতে চান তাঁর সব স্বপ্ন। আর তাই মানবিক সাহায্যের আবেদন করেছেন তিনি। আর্থিক সংগতিহীন এই তরুণী আরো কিছুটা সময় বেঁচে থাকার জন্য সবার সাহায্য প্রার্থনা করেছেন। 

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার শির্ষা গ্রামে ১৯৮২ সালে ২৭ মে এক সাধারণ গৃহস্থ পরিবারে জন্ম তাঁর। স্নাতকোত্তর পড়ছেন। পড়ালেখার পাশাপাশি লেখালেখি আর কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে কাজ করেছেন তিনি। এ ছাড়া বর্তমানে তিনি কেন্দ্রবিন্দু প্রকাশনীর পরিচালক এবং নজরুল-প্রমিলা পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৬ সালে সাহিত্যে স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন মহাত্মা গান্ধী শান্তি পুরস্কার। এ ছাড়াও পেয়েছেন বিভিন্ন সাহিত্য প্রতিষ্ঠান থেকে সম্মাননা পদক। 

স্কুলজীবনে একজন কথাসাহিত্যিক হওয়ার স্বপ্ন দেখা আফরোজা হঠাৎ জানতে পারেন তিনি ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত। ২০১২ সালের মে মাসে তাঁর ব্রেইন টিউমার (পিটিউটারি ম্যাকরোঅ্যাডেনোমা) অপারেশন হয়। ২০১৪ সালে রেডিওথেরাপি। এর পর ভীষণ ব্যয়বহুল চিকিৎসা চলে তাঁর কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষীর সহায়তায়।   

আফরোজা জানান, ২০১৮ সালে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে ভর্তি হয়ে জানতে পারেন নতুন করে টিউমারের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। একটু সুস্থ থাকার জন্য কিছু শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতায় গত ২২/০৪/২০১৯ তারিখ চেন্নাই সিএমসি হসপিটালে ভর্তি হন। ২৪ দিন সবধরনের পরীক্ষা শেষে সেখানকার চিকিৎসকগণ জানান, টিউমার এখন অপারেশন করার মতো নয়। তবে হরমোন ঠিকমতো কাজ করছে না বলে তিনি অসুস্থবোধ করেন। তারা প্রতিমাসে ৪০ হাজার টাকা সমমূল্যের ১টি ইনজেকশন (দীর্ঘ তিন বছরের জন্য) দিতে পরামর্শ দেন। সেই সাথে ধীরে ধীরে আরো অনেক হরমোন রিপ্লেসমেন্ট ওষুধ তাকে নিয়মিত প্রয়োগ করতে হবে। এমনকি হরমোনের ওষুধ জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নিয়মিত প্রয়োগ করে যেতে হবে। যা তার কিংবা তার পরিবারের পক্ষে চালিয়ে নেওয়া আর সম্ভব নয়। মানুষের সহযোগিতায় এই ৭ বছর আফরোজা মুন্নী অনেক কষ্টের মাঝে কোনোমতে চালিয়ে নিয়েছেন। উন্নত চিকিত্সার আশায় গত সাত বছর কোনোমতে চিকিত্সা চালিয়ে এখন নিঃস্ব প্রায়। অসুস্থ জীবনের মাঝে হতাশা, পরিবার এবং সব কিছু উপেক্ষা করেও তিনি লেখালেখি চালিয়ে যাচ্ছেন। এই সুজনশীলতা তাকে আরো কিছুকাল বাঁচার সাহস জোগায়।

আফরোজা মুন্নীর কালের কণ্ঠকে বলেন, আমি শুনেছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনেক বই পড়েন। আমার ভীষণ ইচ্ছে করে আমার 'ছিটমহলের দিনগুলি' বইটিসহ আমার ৪টি বই আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিজ হাতে উপহার দিতে। ছিটমহল সমস্যা, চুক্তি বাস্তবায়ন এবং তাদের স্বাধীনতা, এখন তারা কেমন আছেন? জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর অবদান এ সবকিছু নিয়ে আমার 'ছিটমহলের দিনগুলি' বইটি। শিক্ষামূলক এ বইটি বর্তমান প্রজন্মের জন্যই আমি লিখেছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী মানবতার নেত্রী, অনেক দয়ালু। সেই সাথে তিনিও একজন লেখিকা। জানি না এ লেখাটি তাঁর চোখে পড়বে কি-না! মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে যেতে কেউ আমাকে একটু সাহায্য করবে কি-না! আমিতো তাঁর সন্তানের মতো। অসহায় এক সন্তানের আকুতি তার কাছে কী পৌঁছাবে! আমি আমার বাঁচার আকুতি তাঁর কাছে পৌঁছাতে চাই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা