kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৬ জুলাই ২০১৯। ১ শ্রাবণ ১৪২৬। ১২ জিলকদ ১৪৪০

আরব বসন্তের সেই কিশোরকে মৃত্যুদণ্ড দেবে না সৌদি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ জুন, ২০১৯ ১৭:২৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আরব বসন্তের সেই কিশোরকে মৃত্যুদণ্ড দেবে না সৌদি

আরব বসন্তের জোয়ারে সৌদি রাজতন্ত্রের অবসান চেয়ে রাস্তায় নামে দেশটির সাধারণ মানুষ। ওই আন্দোলনে বড় ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়েন ১০ বছর বয়সী মুর্তাজা কুরেইরিস।

আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী বহু মানুষ আটক হন। তাদের সঙ্গে আটক হন মুর্তাজাও। র‍্যালিতে নেতৃত্ব দেওয়ায় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় মুর্তাজার মৃত্যদণ্ড হয়। তবে সেই মৃত্যুদণ্ড বাতিল করেছে সৌদি সরকার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সৌদি শীর্ষ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। ২০২২ সালেই তাকে মুক্তি দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

২০১১ সালে আরব বসন্তের সময় উত্তাল ছিল কয়েকটি দেশ। সৌদি রাজতন্ত্রের নিপীড়ন-নির্যাতনের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্রের দাবিতে ওই সময় দেশজুড়ে বিক্ষোভ হয়। এর অংশ হিসেবে বন্ধুদের নিয়ে সাইকেল নিয়ে রাজপথে নামেন মুর্তাজা কুরেইরিস। ৩০ জন বন্ধুর দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন মুর্তাজা। তাঁর ওই দুঃসাহসী কর্মকাণ্ড  নজর এড়ায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষের।

ওই ঘটনার তিন বছর পর ২০১৪ সালে গ্রেপ্তার করা হয় মাত্র ১৩ বছর বয়সী কিশোর মুর্তাজাকে। বাহরাইন সীমান্তে তাকে গ্রেপ্তার করে সৌদি আরব। ওই দিন পরিবারের সঙ্গে সৌদি ছেড়ে প্রতিবেশী বাহরাইনে পালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। গ্রেপ্তারের পর মুর্তজাকে সৌদির দাম্মাম শহরের পূর্বে অবস্থিত একটি কিশোর কারাগারে রাখা হয়। আটকের পর চার বছরের মধ্যে তাঁর সঙ্গে কোনও আইনজীবীর দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

অ্যামনেস্টি জানায়, আটকের পর কুরেইরিসের ওপর চরম নির্যাতন চালানো হয়। তাঁকে মিথ্যা প্রলোভন দেখানো হয় যে, যদি তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেন, তবে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হবে।

সৌদিতে রাজতন্ত্র বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে জড়িত ছিল মুর্তাজার পুরো পরিবার। ১৭ বছর বয়সী তাঁর বড় ভাই আলি কুরেইরিস আন্দোলনে নেতৃত্বে ছিলেন। রাতের অন্ধকারে পোস্টার মারেন সৌদি আরবের প্রশাসনিক ভবনগুলোতে। ঘরে বসে পোস্টার লিখতে সাহায্য করেন তাঁর ১০ বছর বয়সী ভাই মুর্তাজা।

একদিন, মুর্তাজার দাদা আলিকে বিক্ষোভরত অবস্থায় গুলি করে হত্যা করে সৌদি পুলিশ। আলির দাফন কাজ শেষ হতেই, ক্ষোভে প্রতিবাদে নেমে পড়েছিলেন ১০ বছরের বালক মুর্তাজা। ৩০ জন বালকের একটি সাইকেল বাহিনী নিয়ে অংশ নেন বিক্ষোভে। মুর্তাজার তোলা 'রাজতন্ত্র নিপাত যাক' স্লোগানে মুখরিত হয়েছিল এলাকা।

সেদিন থেকেই সৌদি প্রশাসনের দুই চোখের বিষ হয়ে উঠেছিল বালক মুর্তাজা। ওই বয়সেই তিনি সঙ্গীদের বোঝাতেন যতদিন রাজতন্ত্র থাকবে ততদিন সৌদি আরবের জনসাধারণের ভবিষ্যৎ বলতে কিছু নেই। তাঁর কথায় অনুপ্রাণিত হতে থাকেন সমবয়সীরা, তাঁদের কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হতে থাকেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। বিষয়টির ওপর নজর রেখেছিল সৌদি গোয়েন্দারা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন সম্প্রতি তাদের এক বিশেষ অনুসন্ধানের মাধ্যমে জানতে সক্ষম হয়, দীর্ঘ সময় ধরে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে তার মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করে। সবশেষে শান্তিপূর্ণ সরকার বিরোধিতার শাস্তি হিসেবে ওই কিশোরে মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষিত হয়। যদি তাঁর ফাঁসি কার্যকর হতো তাহলে সৌদি আরবের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী কারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতো এটি।

তবে সর্বশেষ সৌদি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে না মুর্তজাকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা