kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ জুলাই ২০১৯। ৩ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৪ জিলকদ ১৪৪০

ইন্দোনেশিয়ায় মসজিদের নকশা নিয়ে বিতর্ক

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ জুন, ২০১৯ ১৬:২০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইন্দোনেশিয়ায় মসজিদের নকশা নিয়ে বিতর্ক

ইন্দোনেশিয়ায় মসজিদের নকশা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। পশ্চিম জাভা প্রদেশের শহর বান্দুংয়ে আল-সাফার মসজিদের ভেতরে মূল বেদীর নকশাটি প্রাচীন এলিট ও গোপন সংগঠন ইলুমিনাটির অনুকরণে করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে এমন অভিযোগটি জোরালোভাবে উঠেছে। কিন্তু মসজিদের নকশাকারীরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অনেকে শুধু ‘ইলুমিনাটি’র সঙ্গে নয়, ত্রিভুজের ওপর চোখকে ইসলামে বর্ণিত একচোখা ‘দাজ্জাল’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। মসজিদটির নকশাকারী ও পশ্চিম জাভার গভর্নর রিদওয়ান কামিল এসব অভিযোগকে নাকচ করে দিয়েছেন। 

এই বিষয়ে স্থপতি ও গভর্নর কামিল ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে কিছু ঐতিহাসিক প্রমাণাদি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মসজিদ নির্মাণে যুগে যুগে জ্যামিতিক আকার ব্যবহার করা হয়েছে। এই নকশাটি মূলত জাপানিজ আর্ট ফর্ম ‘ওরিগামি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি করা হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার আরও অনেক মসজিদে ত্রিকোণাকৃতি ব্যবহার করা হয়েছে। দেশটির আরেক স্থপতি আভিয়ান্তি আরমান্দ বলেন, এই মসজিদে যে জ্যামিতিক আকৃতিগুলো ব্যবহার করা হয়েছে, তা খুবই সাধারণ ও নিরপেক্ষ। ‘লিমাসান’ বা পিরামিড আকৃতির ছাদ এই দ্বীপপুঞ্জে ঘর তৈরির খুব সাধারণ একটি বিষয়। মূলত বিরূপ আবহাওয়া থেকে রক্ষার জন্য এটি ব্যবহৃত হয়। তিনি বলেন, জাকার্তার পন্দোক ইনদাহ মসজিদটিও একই আকৃতির।

আরমান্দের মতে, ভারী বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে এই ত্রিকোণ নকশা করা হয়েছে।

এই বিতর্ক শুরু হওয়ার পর এমন ত্রিকোণ নকশা ব্যবহার করা হয়েছে, এমন অনেক মসজিদের চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরপাক খাচ্ছে। তার একটি দেশটির উত্তর মালুকুর পুরোনো এই মসজিদ। ইন্দোনেশিয়ার অসংখ্য মসজিদে কোনো মিনার নেই। 

যে মসজিদ নিয়ে এতো বিতর্ক তা এবছর বিশ্বের ২৬টি মসজিদের নকশার সঙ্গে যুদ্ধ করে ২০১৯ সালে আবদুললতিফ আল ফোজান পুরস্কার জিতে নিয়েছে। ২০১৩ সালে মূল ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয় এবং ২০১৭ সালে এটি চালু হয়। এখানে বারোশ’ মুসুল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। 

ব্রিটানিকা ও লাইভ সায়েন্সের তথ্যমতে, জার্মানির বাভেরিয়া অঞ্চলে ১৭৭৬ সালে ‘ইলুমিনাটি’ সংগঠনটি গড়ে তুলেন একজন খ্রিস্টান অধ্যাপক আডাম ভাইসহাউপ্ট। মূলত দর্শন ও বিজ্ঞানে ধর্মের (রোমান ক্যাথলিক চার্চের প্রভাবের) বিরোধিতা করেই এর ব্যুৎপত্তি। সবরকমের কুসংস্কার থেকে মানুষকে আলোকিত করবার উদ্দেশ্যেই এর যাত্রা। একটি ত্রিকোণ পিরামিডের ওপরের দিকে একটি চোখের প্রতীক। আর এই চোখের মতো নকশা হওয়ায় অভিযোগ উঠেছে।

সূত্র: ডিডব্লিও

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা