kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ জুলাই ২০১৯। ৩ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৪ জিলকদ ১৪৪০

নড়েচড়ে উঠল মোনালিসা...এবং আরো অনেকে!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ জুন, ২০১৯ ১১:৪৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নড়েচড়ে উঠল মোনালিসা...এবং আরো অনেকে!

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে প্রাণ দেওয়া হলো বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘মোনালিসা’কে। প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান স্যামসাংয়ের এক এআই সেন্টারে মোনালিসার স্থিরচিত্রকে দেখা গেল নড়তেচড়তে। জানাচ্ছেন কাজী ফারহান হোসেন পূর্ব

হ্যারি পটার চলচ্চিত্রে হগওয়ার্টসের কথা বলা ছবিগুলোর কথা মনে আছে? ক্যানভাসের ভেতরের সেই মানুষগুলো নড়াচড়া ও কথা বলতে পারত। সেটা ছিল এক জাদুর দুনিয়া। আধুনিক প্রযুক্তি কিন্তু জাদুকেও হার মানিয়ে দিচ্ছে! রাশিয়ায় স্যামসাংয়ের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণাগারে বিখ্যাত শিল্পী লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির আঁকা ‘মোনালিসা’কে দেখা গেল মাথা ও মুখ নাড়ানোর পাশাপাশি চোখের পলকও ফেলতে।

প্রাণ পেল মোনালিসা!

ভিঞ্চির মোনালিসার সেই মুচকি হাসি নিয়ে মানুষের মনে কৌতূহলের যেমন শেষ নেই, তেমনি তাকে ঘিরে আছে হাজারো রহস্য। সেই নিশ্চল অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা রমণী যদি একটু কথা বলত! সেটাও বাস্তবে রূপ দিল স্যামসাং। সদ্যঃপ্রকাশিত এক গবেষণাপত্র থেকে জানা যায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে স্থির ছবিকে নড়াচড়া ও কথা বলানো যাবে! যে স্থির ছবিকে প্রাণ (!) দেওয়া হয়, সেটিকে বলে ‘টার্গেট ফেইস’; আর যে ভিডিওর সাহায্যে ওই টার্গেট ফেইসকে নড়াচড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, সেটিকে বলে ‘সোর্স ভিডিও’। তাদের সদ্য আবিষ্কৃত এ পদ্ধতিতে মোনালিসাকে নিয়ে বানানো ভিডিওতে টার্গেট ফেইসকে মাথা ও মুখ নাড়তে এবং চোখের পলক ফেলতে দেখা গেছে! অর্থাৎ প্রথমবারের মতো কথা বলার ভঙ্গিতে নড়েচড়ে উঠল ভিঞ্চির বিখ্যাত মোনালিসা! নতুন আবিষ্কৃত পদ্ধতির বিশেষত্ব হলো, এর মাধ্যমে একটা মাত্র স্থির ছবি নিয়ে ওই ছবির মানুষটাকে নাড়িয়ে এবং কথা বলিয়ে ভিডিও বানানো যাবে! তবে যে টার্গেট ফেইসকে কথা বলানো হবে, তার একাধিক মুখভঙ্গির ছবি থাকলে ভিডিওটি আরো বেশি প্রাঞ্জল মনে হবে। এই প্রযুক্তিটিতে সোর্স ভিডিও থেকে একজন মানুষের মুখভঙ্গিকে ম্যাপিং করার মাধ্যমে কোনো স্থিরচিত্র বা পেইন্টিংয়ে মানুষের চোখ-মুখ নাড়ানো যাবে! ব্যাপারটা ঠিক যেন পাপেট পরিচালনার মতো! তাই এ ব্যবস্থাকে ‘পাপেটিয়ারিং’ বলে। পকেট-লিন্ট.কম থেকে জানা যায়, মোনালিসার ছবিতে জীবন দেওয়ার জন্য তিনটি ভিন্ন ভিন্ন সোর্স ভিডিও ব্যবহার করা হয়েছে।

আরো যাঁরা প্রাণ পেলেন
এ প্রযুক্তি শুধু যে মোনালিসাকেই প্রাণ দিয়েছে তা কিন্তু নয়। বিবিসি জানিয়েছে, বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন, অভিনেত্রী মেরিলিন মনরো, স্পেনের চিত্রকর সালভাদর দালি এবং রুশ লেখক ফিওদর দস্তয়েভস্কির ছবিকেও দেওয়া হয়েছে চোখ-মুখ নাড়ার ক্ষমতা।

ডিপফেইকের হুমকি
তবে ব্যাপারটা মজার হলেও বিগত বছরগুলোতে এ ধরনের প্রযুক্তির অপব্যবহারও হয়েছে। ডিপফেইক ভিডিওতে একজনের মুখ অন্যের শরীরে বসিয়ে দেওয়া হয়। সহজভাবে দেখলে কোনো অসামঞ্জস্য একেবারেই চোখে পড়ে না। এই যেমন ২০১৭ সালে থাইল্যান্ডে অবস্থিত রিসার্চ ইনস্টিটিউট ভিস্টেকের প্রভাষক ড. সুপাসর্ন সুয়াজানাকর্ন ডিপফেইক প্রযুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার একটা ভুয়া ভিডিও বানিয়ে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন। ডিপফেইক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন তারকার মানহানির ঘটনাও কম নয়। তবে ড. সুপাসর্ন কিন্তু স্যামসাংয়ের নতুন প্রযুক্তিটির ইতিবাচক দিকই বেশি দেখছেন। তিনি বিবিসিকে বলেন, এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিবারের মৃত সদস্যদের স্মৃতি অক্ষত রাখা যাবে। ফলে স্বজন হারানোর শোক অনেকাংশেই কমে যাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা