kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ জুলাই ২০১৯। ৪ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৫ জিলকদ ১৪৪০

দুই পা হারানো মিটি, হাঁটাচ্ছেন পঙ্গু শিশুদের

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ জুন, ২০১৯ ২২:১১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুই পা হারানো মিটি, হাঁটাচ্ছেন পঙ্গু শিশুদের

ডেভিড মিটি, সম্প্রতি নকল পা দিয়ে তারও হাঁটার ব্যবস্থা হয়েছে

ন্যাশনাল জিওগ্রাফির হয়ে অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে জাম্বিয়াতে গিয়েছিলেন অস্টিন মেয়ার। অভিজ্ঞতা জানাতে লিখেছেন, জাম্বিয়ার এক শিশু হাসপাতালে আমার দেখা হয় ডেভিড মিটির সাথে। তার দুটো পা-ই নেই। দেখলাম, একটা বেঞ্চিতে বসে ক্রাচ বানাচ্ছেন। অন্য পা-হীন এবং খোঁড়াদের জন্যে ক্রাচ বানাচ্ছেন তিনি। একজন পা-হীন মানুষ তারই মতো অন্যদের হাঁটার ব্যবস্থা করছেন- এই দৃশ্যটা আমাকে দারুণ নাড়া দিলো। আমি তাকে অনুরোধ করলাম তার গল্পটা বলার জন্যে। তিনি রাজি হলেন। মিটি ট্রাকচালক ও কাঠমিস্ত্রি হিসেবে তার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। কিন্তু বয়স যখন ৩৪, তখন তার জীবনটা পুরোপুরি বদলে গেলো। 

মিটির মনে আছে, ওই দিনটির শুরু হয়েছিল জ্বর দিয়ে। আমি হাসপাতালে গেলাম এবং ওষুধ খেলাম। চিকিৎসা শেষে যখন বাড়ি ফিরলাম তখন দেখলাম আমার বাঁ পায়ে ফোস্কা উঠেছে। কয়েক ঘণ্টা বাদে আরেকটা ফোস্কা ডান পায়ে। এর পর আমার পা দুটো কালচে হয়ে গেলো। 

আবারো ডাক্তারের কাছে যাওয়া। মিটির গ্যাংগ্রিন বা পচন রোগ হয়েছে। এটা এমন এক অবস্থা যখন রক্তপ্রবাহের অভাবে দেহের টিস্যু মারা যেতে থাকে। পচন ঠেকানোর উপায় পচন ধরা অংশ ফেলে দেয়া। চিকিৎসকরা বাধ্য হলে মিটির দুটো পা ফেলে দিতে। 

এটা আমার জন্যে খুবই যন্ত্রণাদায়ক হয়ে উঠল। আমি প্রায় আত্মহত্যা করে বসেছিলাম। আমি অনুভব করছিলাম যে আমার জীবনটার ইতি ঘটেছে, বললেন মিটি। 

কিন্তু তা ঘটেনি। তিনি তার জীবনের একটা লক্ষ্য খুঁজে পেলেন। যে বৈকল্যতা তার মধ্যে দেখা দিয়েছে, একই সমস্যায় জর্জরিতদের সে অবস্থা থেকে যতটুকু পারা যায় পরিত্রাণ দেয়ার কাজ শুরু করলেন মিটি। তিনি কাজ শুরু করলেন জাম্বিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর চিলড্রেন উইথ ডিসঅ্যাবিলিটিস এর সঙ্গে। কাঠমিস্ত্রি হিসেবে যে প্রশিক্ষণ আছে তার ব্যবহারে বৈকল্যতার শিকার শিশুদের জন্যে যন্ত্রপাতি বানানো শুরু করলেন। 

এখন মিটি ঘুম থেকে ওঠেন ভোর ৬টায়। এক ঘণ্টা ধরে হুইলচেয়ার চালিয়ে কর্মস্থলে পৌঁছান। পুরো দিন ভর দিয়ে হাঁটার ক্রাচ তৈরি করেন। যেসব শিশুর পায়ে সমস্যা এবং হাঁটতে পারে না, তাদের হাঁটার ব্যবস্থা করেন মিটি। 

বলেন, যখন শিশুদের দেখি আমার মতো অবস্থায় আছে, তখন খুব খারাপ লাগে। তাই আমি এখনো এখানে কাজ করে যাচ্ছি। হাঁটার জন্যে ক্রাচ পেলে তারা বেশ আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। 

একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে আমি সেই মানুষগুলোর প্রতি আকৃষ্ট হই যারা জীবনের কঠিন সময় মনের শক্তি আর মর্যাদার সাথে অতিবাহিত করেন। তারা ধৈর্য্যশীলতার সাথে এমন কিছু করে যান যা প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই বিরাজ করতে থাকে। দূর থেকে ডেভিড মিটিকে কেবলই এক অসহায় শিকার বলেই মনে হবে। কিন্তু তিনি মোটেও তা নন। তিনি স্বাধীন এবং শক্তিমান এক স্বত্ত্বা, যিনি তার বৈকল্যতা নিয়ে অন্যের বৈকল্যতা লাঘব করছেন। দুই পা হারানোর ঘটনা তাকে অকর্মন্য করে দিতে পারেনি। প্রশিক্ষণে শেখা অভিজ্ঞতা দিয়ে তিনি অন্যদের মুক্ত করছেন। 
সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফি 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা