kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

বাগানের রহস্য, মাটি খুঁড়ে মিলল ...

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ জুন, ২০১৯ ১৮:৪৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাগানের রহস্য, মাটি খুঁড়ে মিলল ...

নিজের একটা বাড়ির স্বপ্ন দঅর্ঘদিন ধরে দেখছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার জন সিমসেরের। সেই ইচ্ছা থেকেই টাকসনে এক বন্ধুর কাছ থেকে একটা বাড়ি কিনে নেন তিনি। কেনার পরই শুনতে পান তার বাড়ির বাগানে নাকি কিছু একটা আছে! কিন্তু সেটা কী, তা কেউ জানে না।

অতি সাধারণ দেখতে এই বাড়িতে কী আছে? বহুবার স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন করলেও মেলেনি কোনো উত্তর। তাই জন সিদ্ধান্ত নেন, নিজেই খুঁজে দেখবেন এই রহস্য।

যেমন ভাবা তেমন কাজ। জন পর দিন থেকেই তার নতুন বাড়ির বাগান খোঁড়া শুরু করেন। কিন্ত পাওয়া যাচ্ছিল না কিছুই। হতাশ হয়ে এক রকম আশা ছেড়েই দেন তিনি।

মাটি খোঁড়া থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে পৌরসভায় বাড়ির রেকর্ড খতিয়ে দেখতে যান রহস্য উদ্ধারে মরিয়া জন। সেখানেই তিনি খুঁজে পান তার বাড়ির নকশা, যা তার অভিযানকে নতুন পথের দিশা দেয়।

বাড়ির নকশাতেই দেখতে পান আঁকা রয়েছে আরো কিছু ঘর, যার অবস্থান জনের বাগানে। রেকর্ড অনুযায়ী ‘উইটেকার পুলস’ নামে এক সংস্থা ১৯৬১ সালে সেখানে কাজ করার জন্য অনুমতি নিয়েছিল। কিন্ত জনের বাড়িতে তো কোনো সুইমিং পুল নেই! পুরনো রেকর্ডগুলো দেখার পর জনের মনে উৎসাহ ও সন্দেহ দুই-ই বেড়ে যায়।

রহস্য সমাধানে জন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেন। বিশেষজ্ঞরা মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে সারা বাগান খোঁজা শুরু করলেও প্রথমে কিছুই মেলেনি। অবশ্য পরদিন আওয়াজ করে ওঠে মেটাল ডিটেক্টর। তবে এক জায়গায় নয়, দুই জায়গায়।

উত্তেজনা ও আনন্দে আত্মহারা জন এবং তার সাহায্যকারীরা দ্বিগুণ উৎসাহে খোঁড়া শুরু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই বুঝতে পারেন ধাতব কিছুর উপস্থিতি। প্রায় তিন ফুট খুঁড়ে তারা একটি বড় ঢাকনা দেখতে পান।

জন একপ্রকার হতাশ হয়ে যান। তিনি ভেবেছিলেন, এটা হয়ত কোনো সেপটিক ট্যাঙ্কের ঢাকনা। এত দিনের পরিশ্রম কি তবে বিফল হলো? কিন্তু খোঁড়া না থামিয়ে আরো সাবধান হয়ে কাজ চালিয়ে যান তারা।

আরো বেশ কিছুটা খোঁড়ার পর জন বুঝতে পারেন, এটা কোনো সেপটিক ট্যাঙ্ক নয়, বরং একটা গুপ্ত রাস্তা! ঢাকনার নীচেই রয়েছে সুড়ঙ্গ, যা কোথায় গিয়েছে কেউ জানে না।

দমকলকর্মী জন সুড়ঙ্গের ভিতরে কী আছে তা জানার জন্য ব্যাকুল ছিলেন। কিন্তু ভিতরে যদি থাকে বিষাক্ত গ্যাস! ঢাকনা খুলে অপেক্ষা করলেন এক দিন।

পরের দিন গিয়ে সুড়ঙ্গে খোঁজ পান একটি স্পাইরাল সিঁড়ির। কিন্তু সিঁড়ির অবস্থা দেখে কেউ নীচে নামার সাহস দেখাননি। তাই নামার আগে প্রথমে সিঁড়ি সারানোর সিদ্ধান্ত নেন।

কিছুটা সারানোর পর জন ও তার বন্ধুরা একটি বড়ো পাইপ সুড়ঙ্গের মধ্যে নামান, যা বাতাস চলাচলে সাহায্য করবে। তবে স্পাইরাল সিঁড়িটি পুরোটা সারানো সম্ভব না হওয়ায় তারা মইয়ের সাহায্যে নীচে নামেন।

সুড়ঙ্গে নেমে অবাক হন তারা। দেখেন, এটি কোনো সুড়ঙ্গ পথ নয়, বরং এক বিশাল ঘর। তবে কি সবাই এই রহস্যের কথাই বলছিলেন? কী ছিল এই ঘরে? কেনই বা তৈরি করা হয়েছিল এই ঘর?

এত বড়ো ঘর কিন্ত কোনো আসবাবপত্র নেই! আস্তে আস্তে তারা বুঝতে পারেন, এই ঘরটি অন্য কিছু নয়, একটি বাঙ্কার। ঠান্ডা যুদ্ধ চলাকালীন এই বাঙ্কারটি তৈরি করা হয় বলে মনে করা হচ্ছে।

জানা যায়, শুধু উইটেকার পুল নয়, লস অ্যাঞ্জেলসের ক্যরোলিনা পুলস নামক এক সংস্থা ১৯৬১ সালের মধ্যে প্রায় পাঁচশ নিউক্লিয়ার শেল্টার বানায়। জন ঠিক করেন, এই বাঙ্কারকে তিনি মিউজিয়ামে পরিবর্তিত করবেন। সে অনুসারে তিনি একটি ওয়েবসাইট খোলেন যেখানে সাধারণ মানুষের অনুদানে তিনি বাকি সংস্কারের কাজে নামেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও ঠান্ডা যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত নানা সরঞ্জাম যেমন হ্যাম রেডিও, গেগার কাউন্টার, পানির ব্যারেল দিয়ে তিনি সাজাচ্ছেন এই বাঙ্কার।

মন্তব্য