kalerkantho

শুক্রবার । ২১ জুন ২০১৯। ৭ আষাঢ় ১৪২৬। ১৭ শাওয়াল ১৪৪০

খাবারের আশায় লাইনে পথশিশুরা, রাস্তায় বসে বাচ্চাদের খাওয়ালেন মা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ জুন, ২০১৯ ২১:৩৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খাবারের আশায় লাইনে পথশিশুরা, রাস্তায় বসে বাচ্চাদের খাওয়ালেন মা

আয়ারল্যান্ডের রাস্তায় তোলা কয়েকটি ছবি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ওইসব ছবিতে উঠে এসেছে হৃদয় বিদারক কিছু দৃশ্য। এক ছবিতে দেখা যাচ্ছে, খাবারের জন্য লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে পথশিশুরা। আর তাদের পাশেই তোলা আরেক ছবিতে এক মাকে দেখা যাচ্ছে, সন্তানদের নিয়ে রাস্তায় বসেই খাবার খেতে। 

ওই মা তার তিন থেকে ছয় বছর বয়সী ছেলে-মেয়েদের নিয়ে পাস্তা আর সস খাচ্ছেন। আরেক ছবিতে দেখা যাচ্ছে, খাবার নিতে পথশিশুদের লাইনের পাশেই হুইল চেয়ারে বসে আছে আরেক শিশু।

জানা গেছে, চার হাজারের বেশি গৃহহীন শিশু রয়েছে আয়ারল্যান্ডে। ছবিগুলো এসব পথশিশুদের পরিস্থিতিরই প্রতিনিধিত্ব করে। গত সোমবার পথশিশুদের মাঝে খাবার বিতরণের সময় ছবিগুলো তোলা হয়।

ফিড আওয়ার হোমলেস নামের একটি সংস্থা এসব শিশুদের খাওয়ানোর চেষ্টা করে। সংস্থাটির প্রধান টনি ওয়ালেস বলেন, আমি এই প্রশাসনকে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বলেছি এর আগেই। কারণ তারা এসব শিশুদের মুখে আহার তুলে দিতে পারেনি। চার হাজারের বেশি শিশু গৃহহীন এবং ১০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুহারা।

তিনি আরো বলেন, এটা হতাশার, নিন্দার এবং অপমানজনক। তারা বছরের পর বছর ক্ষমতায় থাকছে, অথচ এসব শিশুদের কোনো সুব্যবস্থা হচ্ছে না। রাজনৈতিক কোনো সদিচ্ছা চোখে পড়ছে না যে, এসব শিশুদের একটা ব্যবস্থা করার ব্যাপারে। অথচ পথশিশুদের পরিস্থিতি খারাপ থেকে আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, সরকার এসে দেখুক, পথশিশুরা কীভাবে দিন পার করছে। না, তারা এখানে আসবেন না, অথচ আমরা দিনের পর দিন এসব শিশুদের খাবার ব্যবস্থা করছি। প্রেসিডেন্ট এসে এসব শিশুদের সঙ্গে রাত কাটালেই বুঝতে পারবে, এরা কী ধরনের পরিস্থিতিতে দিনাতিপাত করছে।

জানা গেছে, টনি ওয়ালেস নিজেও পথশিশু ছিলেন। পরে পড়াশোনা শেষে পথশিশুদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। নিজের উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন ফিড আওয়ার হোমলেস সংস্থা।

শুরুর দিকে একশ জনকে খাওয়াতো সংস্থাটি। এরপর দু'শ থেকে আড়াইশ জনের খাবারের ব্যবস্থা করতো। তবে বর্তমানে অধিক সংখ্যক পথশিশুর আহারের জোগান দিচ্ছে সংস্থাটি।

টনি ওয়ালেস বলেন, রবিবার আমাদের দেওয়া খাবারের মান বেশি ভালো থাকে। ওইদিন পিজ্জাসহ সাত রকমের খাবার থাকে। তবে এক ঘণ্টার মধ্যেই খাবারগুলো শেষ হয়ে যায়। গত ১০ বছরে পথশিশুদের অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যাচ্ছে। এখানে ঘরভাড়া অনেক বেশি। সে কারণে নিম্ন আয়ের মানুষরাও ঘরভাড়া নিতে হিমশিম খাচ্ছে।

মন্তব্য