kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

জানা গেল প্রাগৈতিহাসিক শিল্পীরা কীভাবে এত সুন্দর ছবি আঁকতো

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ জুন, ২০১৯ ২০:২২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জানা গেল প্রাগৈতিহাসিক শিল্পীরা কীভাবে এত সুন্দর ছবি আঁকতো

কিরগিজস্তানের কারাকোল শহরের প্রাচীন সমাধিক্ষেত্রে আবিষ্কার করা হয় দেয়ালচিত্র। এসব অসাধারণ চিত্রকর্ম পাঁচ হাজার বছর আগের। এসব ছবির পেছনে শিল্পীদের কৌশলের গোপন রহস্য উদঘাটন করেছেন বিজ্ঞানীরা।

দেশটির আলতাই পর্বতমালায় পাওয়া এই চমৎকার চিত্রকর্মগুলোতে উপজীব্য হিসেবে রয়েছে প্রাগৈতিহাসিক যুগের মানুষের শরীরী কাঠামো। কাঠামোগুলোর মাথায় পালকের বৃত্তাকার শিং। কিছু কাঠামো রয়েছে স্বর্গীয় বা পরাবাস্তববাদী। সেখানে প্রাণী ও পাখিদের প্রতীকী চিত্রনও রয়েছে।

আলতাই পর্বতমালার কারাকোল গ্রামের প্রাচীন সমাধিক্ষেত্রে এসব চিত্রকর্ম পাওয়া যায়। ১৯৮৫ সালে চিত্রকর্মগুলো আবিষ্কৃত হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে বিশেষজ্ঞদের কাছে এসব ছবি আঁকার কৌশল ছিল রহস্যঘেরা। সমাধিক্ষেত্রের দেয়ালে ব্যবহৃত পাথরের স্ল্যাবগুলোতে থাকা ছবিগুলোতে রয়েছে উজ্জ্বল রঙের উপস্থিতি।

বিশেষজ্ঞরা অবাক হয়ে দেখেছেন, সাইবেরিয়া অঞ্চলে অবস্থিত সমাধিক্ষেত্রের ছবিগুলো আঁকা হয় সাদা, লাল আর কালো রঙে। এই কৌশল সাইবেরিয়া অঞ্চলে পাওয়া রক পেইন্টিংয়ে প্রথম ধরা পড়ে।

পাথরের কবরগুলোর ভেতরে যেখানে মানুষকে  দাফন করা হয়েছে, সেখানকার দেয়ালেও রয়েছে একই রং দিয়ে আঁকা ছবি। ছবিতে থাকা মানব শরীরের চোখের চারাপাশে লাল ওচারের দাগ। এ ছাড়া কালো ও রূপালি খনিজ দিয়ে হাতে তৈরি করা হয় এসব রং। আর সেই রং দিয়ে মুখের ইন্দ্রিয়গুলো কেন্দ্র করে রয়েছে ত্রিভুজ এবং অন্যন্যা জ্যামিতিক ক্ষেত্র। ক্ষেত্রগুলোর ধরন দেখে মনে হয় তা অর্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ। প্রাচীন এই পেইন্টিংগুলো সত্যিই মনোমুগ্ধকর।

পাথরে চিত্রকর্মগুলো আঁকা হয় বিভিন্ন সময়। যে কৌশলগুলো ছবিগুলো অংকনে প্রয়োগ করা হয়েছে তা যথেষ্ট বিজ্ঞানসম্মত। ছবিতে স্থান পেয়েছে হরিণ, ছাগলরূপী মানুষও। সব ফিগারের মাথায় শিং। কোনও কোনও ফিগার রয়েছে গতিশীল ফর্মে। এতে কিছু ড্রয়িং করা মানব ফিগারও রয়েছে। 

ছবিগুলোর ওপর গবেষণা চালিয়ে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সেই যুগেও শিল্পীরা বিজ্ঞানসম্মত কৌশলগুলো আয়ত্ব করেছিলেন যা প্রয়োগ করা হয় এসব চিত্রকর্মে। কৌশলগুলো যথেষ্ট জটিল। ছবিগুলো এখন থেকে পাঁচ বছর আগের বলে মনে করছেন তাঁরা।

কেরচাতোভ ইন্সটিটিউটের গবেষণা বিভাগের প্রধান রোমান সেনিন বলেন, 'আমরা রঞ্জক পদার্থের গঠন, ধরন ও কৌশল নির্ধারণ করেছি।' তিনি বলেন, 'আদিম শিল্পীরা তাঁদের প্রয়োজনীয় রং পেতে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় খনিজকে উত্তপ্ত করে তৈরি করতেন তা।' 

২০২০ সালের মে মাসে লিসবনে অনুষ্ঠিতব্য পুরাতাত্ত্বিক ছবির বৈজ্ঞানিক করণকৌশলের ওপর  ৪৩তম আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়ামে নতুন গবেষণার ফল উপস্থাপন করা হবে। 

সূত্র : সাইবেরিয়ান টাইমস 

মন্তব্য