kalerkantho

রবিবার । ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৭ রবিউস সানি                    

সমকামিতা, প্রকাশ্যে চুমু, হাত ধরা নিষিদ্ধ যেসব দেশে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ জুন, ২০১৯ ১৮:৪১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সমকামিতা, প্রকাশ্যে চুমু, হাত ধরা নিষিদ্ধ যেসব দেশে

বিশ্বের ৯টি দেশে সমকামিতার জন্য রয়েছে মৃত্যুদণ্ডের বিধান

২০০১ সালে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে নেদারল্যান্ডসে সমকামী বিয়েকে বৈধ ঘোষণা করা হয়। এরপর একে একে বেলজিয়াম, স্পেন, নরওয়ে ফ্রান্স, ব্রিটেনসহ বেশ কয়েকটি দেশে বৈধতা পায় সমকামী বিয়ে।

কিন্তু এখনও অনেক দেশে এ ধরনের যৌন সম্পর্ক নিষিদ্ধ। কোনও কোনও দেশে সমকামিতায় মৃত্যুদণ্ডেরও বিধান রয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বের ৭১টি দেশে এখনও সমকামিতা নিষিদ্ধ। আফ্রিকার কোনও কোনও দেশ, এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে সমকামিতাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আফগানিস্তান, ব্রুনেই, মৌরিতানিয়া, ইয়েমেন, নাইজেরিয়া, সুদান, সোমালিয়া, সৌদি আরব এবং ইরানে এ ধরনের যৌন সম্পর্ক শীর্ষ অপরাধের একটি। এ ঘটনায় জড়িতকে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে হয় এসব দেশে।

কাতারে সমকামিতায় মৃত্যুদণ্ড কেবল মুসলমানদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এ ছাড়া দেশটিতে বিবাহ বহির্ভুত যৌন সম্পর্কে জড়িতকেও এই শাস্তি প্রদান করা হয়।

পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ শরিয়া আইন কার্যকর রয়েছে এমন দেশে সমকামিতার জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে এসব দেশে এমন শাস্তি কার্যকর করার কথা এখন পর্যন্ত শোনা যায়নি।

গত ১১ জুন দক্ষিণাঞ্চলীয় আফ্রিকার রাষ্ট্র  বোতসওয়ানায় সমকামিতার ওপর ঔপনিবেশিক যুগের নিষেধাজ্ঞা বাতিল হয়েছে। অর্থাৎ সমকামিতা বৈধতা পেয়েছে দেশটিতে। 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সবচেয়ে বেশি মিছিল হয়েছে সমকামিতার দাবিতে। তবু এখনো অনেক দেশে এ ধরনের সম্পর্ক অবৈধ। 

সমকামিতায় অন্যান্য শাস্তি 
যেসব দেশে সমকামিতা নিষিদ্ধ কিন্তু মৃত্যুদণ্ডের বিধান নেই, সেসব দেশে 'অপরাধীদের' প্রহার কিংবা কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হয়। এ ছাড়া এসব 'অপরাধীরা' তৃতীয় শ্রেণির নাগরিকের মতো মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। 

সমকামিতার জন্য বর্তমানে বিশ্বের ৯টি দেশে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড চালু রয়েছে। আর ভিয়েতনাম, মাদাগাস্কার ও ভেনিজুয়েলার মতো কিছু দেশে  সমকামিতার বিরুদ্ধে কোনও আইন নেই। তবে এসব দেশে সমকামী, উভকামী এবং হিজড়া (এলজিবিটি) সম্প্রদায়ের মানুষের ভেতর যৌনকর্মকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখে সেখানকার সাধারণ মানুষ।

অন্যদিকে, ক্যারিবীয় দেশ, চীন এবং তুরস্কে সমকামিতা বৈধ হলেও বিদ্যমান আইনে পুরোপুরি সুরক্ষিত নয় সমকামীরা।

চীনে ১৯৯৭ সালে বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি পায়  সমকামিতা। কিন্তু ২০০১ সালে এটিকে কেবল  মানসিক অসুস্থতার সরকারি তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। ব্যক্তিগত সম্মতির ভিত্তিতে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সমকামিতা তুরস্কে কোনও অপরাধ নয়। দেশটিতে  সমকামিতা এবং বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গে যৌনকর্ম - উভয়ের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন বয়স হতে হবে ১৮।

একইসঙ্গে দেশটিতে প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া এমনকি  পরস্পরের হাত ধরাও নিষিদ্ধ। এসব ঘটনাকে 'নৈতিকতার বিরুদ্ধে অপরাধ' হিসেবে গণ্য করা হয় সেখানে। এ ক্ষেত্রে নিগৃহীত হতে হয় প্রধানত এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের লোকদের।

মঙ্গোলিয়া ও ফিলিপাইনের মতো দেশে একই যৌন সম্পর্ক বৈধ। সমকামীদের জন্য সেখানে কিছু আইনি সুরক্ষা রয়েছে। তবু বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গে যৌনকর্মের মতো বিবেচনা করা হয় না সমকামিতাকে।

ইতালি, পোল্যান্ড, গ্রিস এবং চিলিতে সমকামিতা বৈধ। এ ক্ষেত্রে সমকামীরা সেখানে আইনি প্রক্রিয়ায় যথেষ্ট সুরক্ষিত। তবে সমকামী বিয়ে বৈধ নয় এসব দেশে। যুক্তরাজ্য, ফিনল্যান্ড এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমকামিতা এবং সমকামী বিয়ে বৈধ এবং দেশগুলোতে বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গে যৌনকর্মের মতোই সুরক্ষিত সমকামিতা।

রাশিয়ায় সমকামিতা বৈধ হলেও সমকামীদের নিগৃহীত হওয়ার হাত থেকে রক্ষার জন্য কোনও আইন নেই।

ভারতে সমকামিতাকে বৈধতা দেওয়ায় দেশটিতে সমকামীদের আনন্দ মিছিল। 

এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট এগিয়ে রয়েছে ভারত। সমকামীদের যৌনকর্মকে আইনি বৈধতা দেওয়া হয়েছে দেশটিতে। ২০১৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ভারতে সমকামীদের যৌনকর্মকে আইনি বৈধতা প্রদান করা হয়। এর আগে ১৮৬০ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে সমকামিতাকে প্রথম অবৈধ ঘোষণা করা হয় ভারতে। 

সূত্র : দ্য সান 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা