kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

অসময়ের অন্নদাতা যারা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ জুন, ২০১৯ ১৬:৫৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



অসময়ের অন্নদাতা যারা

পার্থ চৌধুরী।

ভারতের দক্ষিণ কলকাতার পার্থ চৌধুরী পেশায় একজন গাড়ি চালক। প্রতিদিন নিয়ম করে স্কুলপড়ুয়া বাচ্চাদের স্কুলে পৌঁছে দেন এবং নিয়ে আসেন তিনি। কিন্তু সূর্য ডোবার পর পাল্টে যান পার্থ। নিজের গাড়ি চালিয়ে পৌঁছে যান একের পর এক সরকারি হাসপাতালে। সেখানে অপেক্ষারত রোগীর আত্মীয়স্বজনদের হাতে তুলে দেন খাবারের প্যাকেট। 

প্রতিদিন নিয়ম করেই তিনি এই কাজ করেন। ঝড়, বৃষ্টি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উৎসব- যাই হোক না কেন, তিনি বসে নেই। তিনি এই কাজ না করলে রোগীর আত্মীয়স্বজন খাবার পাবেন না। তবে এই কাজ তিনি একাই করেন না। তার পাশে থাকেন কয়েকজন ডাক্তারি পড়ুয়াও।

কেন এমন উদ্যোগ? দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দা পার্থ জানান, তিনি একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। ওই সংস্থা শহরের বিভিন্ন রেস্তোরাঁর বেঁচে যাওয়া খাবার সংগ্রহ করে তা কলকাতার বিভিন্ন এলাকার ফুটপাথবাসীদের মধ্যে বিলি করতো।

পার্থ আরও বলেন, আমরা সাধারণত দরিদ্র মানুষদের মধ্যেই খাবার বিলি করতাম। তারপর একদিন মনে হল, সরকারি হাসপাতালগুলোতে রাতভর এমন অনেক মানুষ থাকেন, যাদের খাওয়া জোটে না। তাদের মধ্যে কেউ নিজেই রোগী। একটা সিট পাওয়ার আশায় মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছেন। কেউ আবার রোগীর আত্মীয়। কোনোরকমে প্রিয়জনকে হয়তো ভর্তি করতে পেরেছেন। কিন্তু প্রতিদিন রাত জাগতে হচ্ছে হাসপাতাল চত্বরে। তাদের অধিকাংশই কলকাতার বাসিন্দা নন। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মানুষ। বেশিরভাগেরই আর্থিক সঙ্গতিও নেই। চিকিৎসার যাবতীয় খরচ সামলে অনেকেই ঠিক মতো খাবার খেতে পারেন না। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম আর কিছু না পারি, প্রতিদিন রাতে তাদের মুখে কিছুটা খাবার তুলে দেব।

প্রতিদিন সন্ধ্যা হতেই শহরের বিভিন্ন রেস্তোরাঁ থেকে খাবার সংগ্রহ করেন পার্থ। তারপর গাড়ি চালিয়ে পৌঁছে যান শহরের চারটি সরকারি হাসপাতালে। ডাক্তারি পড়ুয়াদের সঙ্গে নিয়ে তাদের হাতে খাবার তুলে দেন পার্থ। তার কথায়, প্রতিদিন গড়ে ১৭৫ জন মানুষের কাছে আমরা পৌঁছতে পারছি। আগামী কয়েক মাসে এই সংখ্যা আরও কিছুটা বাড়াতে পারব বলে আশাবাদী।

পার্থদের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন বিভিন্ন স্তরের মানুষ। স্বাস্থ্য আন্দোলনের সংগঠক রেজাউল করিম বলেন, অত্যন্ত সাধুবাদযোগ্য উদ্যোগ। চিকিৎসার খরচ হাতে থাকলেই সব সমস্যার সমাধান হয় না, এই ধরনের নাগরিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা