kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

ঘাস দিয়ে প্রাকৃতিক স্ট্র, বর্জ্যহীন বিশ্ব গড়তে চায় ভিয়েতনামি তরুণ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ জুন, ২০১৯ ১৬:৩৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘাস দিয়ে প্রাকৃতিক স্ট্র, বর্জ্যহীন বিশ্ব গড়তে চায় ভিয়েতনামি তরুণ

ধ্বংসের মুখোমুখি অবস্থানে বিশ্বের প্রকৃতি। দূষণ রুখতে না পারলে, রক্ষা করা যাবে না প্রাকৃতিক পরিবেশ। এ নিয়ে নানা পরিবেশ আন্দোলন চলেছে, এবং এখনও চলছে। আন্দোলনে যেসব বিষয় বন্ধের দাবি উঠেছে তার মধ্যে অন্যতম হলো, প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করা। 

কিন্তু প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করা উচিত এ কথা জানলেও, এটিও প্রায় সবাই জানেন, এ কাজটি চাইলেই করা কঠিন। বেশ কিছু ক্ষেত্রে সফল হলেও, অনেক ক্ষেত্রে প্রায় অসম্ভব।

এ রকমই একটি অসম্ভব ক্ষেত্র হলো, প্লাস্টিকের স্ট্র-এর ব্যবহার। পানীয় পানের জন্য বা অন্য নানা কাজে প্লাস্টিকের এই স্ট্র-এর ব্যবহার যেন অপরিহার্য। এই ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ নিয়েছেন ত্রান মিন তিয়েন। ভিয়েতনামের এই যুবক প্রচলন শুরু করেছেন প্রাকৃতিক স্ট্র-এর। প্রকৃতির বুক থেকে খুঁজে পাওয়া এই স্ট্র-এর মাধ্যমে কোনও পানীয় পানেও কোনও অসুবিধা হবে না, আবার হবে না কোনও রকম পরিবেশ দূষণও। 

নিজের আবিষ্কারকে বহুল প্রচারিত করতে একটি সংস্থাও খুলেছেন ত্রান মিন তিয়েন। অং হাট কো নামের ওই সংস্থায় ঘাস দিয়ে দুই ধরনের স্ট্র তৈরি করছেন তিনি। ভিয়েতনামে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় যে লেপিরোনিয়া আর্টিকুলাটা ঘাস, তাই দিয়েই তৈরি হচ্ছে এই স্ট্র। ঘাসটির স্থানীয় নাম কো ব্যাং। দক্ষিণ-পশ্চিম ভিয়েতনামের মেকং ডেলটা এলাকায় এই ঘাসের ফলন অফুরন্ত।

খড়ের মতো ফাঁপা, অথচ আর একটু শক্ত এই ঘাসটি প্লাস্টিকের স্ট্র-এর উপযুক্ত বিকল্প হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে ভিয়েতনাম সরকারও। তিয়েনের এই কাজকে আরও বেশি করে ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগ নিয়েছেন তাঁরা। আপাতত ঘাসটি দুই রকমভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে স্ট্র-এর বিকল্প হিসেবে। কাঁচা ঘাসটি দিয়েই পান করা হচ্ছে পানীয়, অথবা শুকিয়ে নিয়ে শক্ত করে নেওয়া হচ্ছে। 

একটি ভিডিও-তে দেখা যাচ্ছে, ঘাসটি বড় হওয়ার পর সেটি সংগ্রহ করে ভালো করে ধোয়া হচ্ছে। তারপর  সেটি আট ইঞ্চির টুকরোয় কাটা হচ্ছে। একটি লোহার তারের সাহায্যে স্ট্র-টির ভেতর পরিষ্কার করা হচ্ছে। এরপর আরও একবার ভালো কর ধোয়া হচ্ছে সেটি। এরপর হয় ওই অবস্থায় বিক্রি হচ্ছে, নয়তো আরও খানিক প্রসেস করার পরে আঁটি বেঁধে বিক্রি করা হচ্ছে। বান্ডিলটি অবশ্যই বাঁধা হচ্ছে কলাপাতা দিয়ে। 

তিয়েন বলেন, এই ঘাস দিয়ে বানানো স্ট্র-গুলো  রেফ্রিজারেটরে বা কোনও এয়ারটাইট জায়গায় রাখলে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত তাজা থাকবে। কিন্তু আরও বেশিদিন এই ঘাসের স্ট্র ব্যবহার করতে চাইলে, ঘাসগুলো লবণ জলে খানিকক্ষণ ফুটিয়ে, তারপর  শুকনো করে, শুকনো ঠাণ্ডা জায়গায় রাখতে হবে। এভাবে ছয় মাস পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে একটি স্ট্র।

শুধু তা-ই নয়। কাঁচা হোক বা শুকনো, যেমন স্ট্র-ই ব্যবহার করুন না কেন, ব্যবহার হয়ে গেলে ঘাসটি চিবোলে, দাঁত ও মাড়ি পরিষ্কার হয়। 

এখন তিয়েনের সংস্থায় ১০০টি শুকনো ঘাসের স্ট্র-এর বান্ডিল বিক্রি হচ্ছে হাজার ভিয়েতনামি ডং-এর বিনিময়ে। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় চার টাকা। 

চিকিৎসকরা জানান, প্লাস্টিকের স্ট্র ব্যবহার মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। পুষ্টিবিদদের মতে, বেশি পরিমাণে স্ট্র ব্যবহার করলে মোটা হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। কারণ স্ট্র-এর মধ্যে পেট্রোলিয়াম জাতীয় পলিথিন থাকে। এই উপাদান শরীরে মেদ জমায়। গরম পানীয়ের সংস্পর্শে প্লাস্টিকের স্ট্র এলে, সেই স্ট্র-এর অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিকের কণা মিশে যেতে পারে রক্তপ্রবাহের সঙ্গেও। 

সূত্র : দি ওয়াল 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা