kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

শিক্ষিকাদের টাকায় চলে ছাত্রীদের মধ্যাহ্নভোজ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ জুন, ২০১৯ ১৬:২৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শিক্ষিকাদের টাকায় চলে ছাত্রীদের মধ্যাহ্নভোজ

শিক্ষিকাদের নিজস্ব উদ্যোগে দুপুরের খাবার খাচ্ছে ছাত্রীরা

দুঃস্থ পরিবারের কলেজ পড়ুয়াদের অনেকই সারাদিন কিছু না খেয়েই ক্লাস করে। সর্বত্রই এমনই ব্যবস্থা। কিন্তু ভারতের বেহালা নামক একটি অঞ্চলে ভিন্ন চিত্র। অঞ্চলটির একটি কলেজে শিক্ষিকাদের বেতনের কিছু টাকা দিয়ে চলে দুপুরের খাবার। ওই কলেজের শিক্ষিকারা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া ছাত্রীদের জন্য ভাত-ডাল-তরকারি-ডিম-মাংসের দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করেন।

ভারতের সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, বেহালা চৌরাস্তার কাছে ডায়মন্ড হারবার রোডের একদম উপরেই বিবেকানন্দ কলেজ ফর উইমেন। কলেজের অধ্যক্ষা সোমা ভট্টাচার্য প্রথমে এই উদ্দ্যোগ নিয়েছিলেন। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি ২০১৬ সাল থেকে প্রতিদিন কলেজের একঝাঁক দুঃস্থ পড়ুয়ার মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা করতেন। এর জন্য যে অর্থ খরচ হত, তা সম্পূর্ণটাই নিজের পকেট থেকেই দিতেন তিনি। বেশ কয়েক বছর এমন চলার পর গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি অন্য শিক্ষিকাদের এই কাজে এগিয়ে আসতে অনুরোধ করেন। অধ্যক্ষার ডাকে সাড়া দেন আরও সাত অধ্যাপিকা। পরে বলা হয়, প্রতি মাসে এই আটজন অধ্যাপিকা মধ্যাহ্নভোজের তহবিলে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দেবেন। সেই ব্যবস্থাই এখনো চলছে। 

বার্ষিক এক লক্ষ টাকার কম আয়ের পরিবার থেকে যে মেয়েরা আসে, তাদের খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। ছাত্রীরা প্রথমে কাগজে লিখে মধ্যাহ্নভোজের জন্য আবেদন করে। সেই আবেদনের ভিত্তিতে ওদের নির্দিষ্ট কুপন দেওয়া হয়। ওই কুপন দেখিয়ে মেয়েরা খাবার সংগ্রহ করে।

মধ্যাহ্নভোজে চেষ্টা করা হয় প্রোটিন জাতীয় খাবারের ব্যবস্থা করতে। তাই ডাল-ভাতের সঙ্গে সয়াবিন বা ডিম বেশি দেওয়া হয়। তবে মাঝেমধ্যে মাংসের ব্যবস্থাও করা হয়। রান্না করার জন্য কলেজের একটি অব্যবহৃত ঘরকে পরিষ্কার করে নেওয়া হয়েছে। সেখানেই রান্না হয়।

এক শিক্ষিকার কথায়, ওরা তো আমাদের মেয়ের মতো। তাই সাধ্যের মতো যতটুকু ভালো চাল, ভালো তেল দিতে পারি, তাই দিয়েই রান্না হয়।

শিক্ষিকাদের এমন প্রচেষ্টায় মুগ্ধ শিক্ষামহলের একাংশও। প্রেসিডেন্সি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ অমল মুখোপাধ্যায়ের মন্তব্য, তারাই প্রকৃত শিক্ষিকা। এমন মানুষরা আছেন বলেই এখন শিক্ষা ব্যবস্থাটা টিকে আছে।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা