kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

একের পর এক নারী হত্যার পর রং-তুলিতে ‌শিকারের ছবি আঁকতেন এই ভয়ঙ্কর সিরিয়াল কিলার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ জুন, ২০১৯ ১৪:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একের পর এক নারী হত্যার পর রং-তুলিতে ‌শিকারের ছবি আঁকতেন এই ভয়ঙ্কর সিরিয়াল কিলার

আদিম যুগে গুহাবাসী শিকারীরা শিকারযোগ্য প্রাণীর ছবি আঁকতেন দেয়ালে। শিকারে যাওয়ার আগে ছবিকে লক্ষ্য করে তীর ছুড়তেন। এর সঙ্গে যুক্ত ছিল ধর্মীয় বিশ্বাসও।

এইসব বিশ্বাস না থাকলেও এই যুগে মানুষ হত্যার পর নিহতের ছবি আঁকতেন এমন খুনীর সন্ধান মিলেছে যুক্তরাষ্ট্রে। হত্যার পর রং তুলিতে শিকারের ছবি আঁকতেন তিনি। ভয়ঙ্কর এই সিরিয়াল খুনির নাম স্যামুয়েল লিটল।

মাত্র তিনটি খুনের দায়ে তিনটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে তাকে দণ্ডিত করেছিলেন আদালত। ক্যালিফোর্নিয়ার কারাগারে বন্দি ৭৯ বছরের এই খুনির বিরুদ্ধে এবার ৬০টিরও বেশি হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

টেক্সাসের একাধিক নারী হত্যায় লিটল জড়িত যার কোনও রহস্য উৎঘাটন করা সম্ভব হয়নি। এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে টেক্সাসের রেঞ্জার জেমস  হল্যান্ড কারাগারে গিয়ে বারবার লিটল–এর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছিলেন। অবশেষে টেক্সাস এবং সংলগ্ন অঞ্চলে ৬০ জনেরও বেশি নারীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন লিটল। স্থানীয় সময় শুক্রবার একথা জানিয়েছেন ওহাইওর আইনজীবীরা। এতদিন পর্যন্ত গ্যারি রিজওয়ে ওরফে গ্রিন রিভার কিলারকেই আমেরিকার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সিরিয়াল কিলারের অ্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল। লিটলের স্বীকারোক্তির পর আপাতত তাকেই আমেরিকার সবচেয়ে নৃশংস সিরিয়াল কিলার বলছে পুলিশ।

হল্যান্ডের কাছে স্বীকারোক্তিতে লিটল বলেন, গত চার দশক ধরে ৬০ জনেরও বেশি নারীকে শ্বাসরোধ করে বা বেধড়ক মারধর করে খুন করেছেন তিনি। নিহত প্রত্যেকের ছবি রং-তুলিতে এঁকে তাঁদের মুখে পেনসিল দিয়ে অজস্র দাগ কেটেছিলেন। খুন হওয়া প্রত্যেকের চোখের রং, চুলের স্টাইল এবং কোথায় তাদের সে খুন করেছিলেন তাও পুঙ্খানুপুঙ্খ জানিয়েছেন লিটল।

টেক্সাসের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ববি ব্ল্যান্ড বলেন, শিকার হিসেবে লম্বা গলার নারীদের প্রতিই আকৃষ্ট হতেন লিটল।

খুন হওয়া বেশিরভাগ নারীই ছিলেন যৌনকর্মী বা মাদকাসক্ত। তাই তাঁদের হত্যা নিয়ে বেশি নাড়াচাড়া হয়নি। এসব হত্যাকাণ্ডের বেশিরভাগই সড়ক  দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা অতিরিক্ত মাদক সেবনের তালিকায় গুঁজে দিয়ে পুলিশও সেসময় তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যায়নি। ওহাইও-এর বাসিন্দা লিটল–এর বিরুদ্ধে প্রথমে ১৯৭০–২০০৫ সালের মধ্যে পাঁচজন নারীকে হত্যার অভিযোগ ওঠে। ২০১২ সালে কেন্টাকির ভবঘুরে আবাস থেকে তাকে গ্রেপ্তারের পর ক্যালিফোর্নিয়ায় আনা হয়।

এফবিআই জানায়, লিটল–এর বিরুদ্ধে প্রথমে নার্কোটিক্স আইনে অভিযোগ আনা হয়েছিল। কিন্তু ডিএনএ পরীক্ষায় তার ডিএনএ–এর সঙ্গে মৃত তিন নারীর ডিএনএ প্রতিবেদন মিলে যাওয়ার পরই তার সাজা হয়। যদিও বরাবরই নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করে আসছিলেন লিটল।

ব্ল্যান্ডের ধারণা, ৬০ নয় অন্তত ৯৪টি খুন করেছেন লিটল। তার কাছ থেকে সন্ধান পেয়ে এফবিআই সম্প্রতি লিটল–এর আঁকা সব ছবি প্রকাশ করেছে। এফবিআই–এর আশা, ছবি দেখে স্বজনরা নিহত  নারীদের শনাক্ত করলে অমীমাংসিত মামলাগুলো নতুন করে তদন্তের মাধ্যমে রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব।

সূত্র : আজকাল 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা