kalerkantho

বুধবার। ১৯ জুন ২০১৯। ৫ আষাঢ় ১৪২৬। ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

সৌদি জেল থেকে বেরিয়ে অভিজ্ঞতা জানালেন দুই নাইজেরীয়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৭ মে, ২০১৯ ১৮:৪৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সৌদি জেল থেকে বেরিয়ে অভিজ্ঞতা জানালেন দুই নাইজেরীয়

পবিত্র ভূমি মক্কায় হজ করতে সৌদিতে আসেন নাইজেরিয়ান নাগরিক মালাম আবুবকর ইব্রাহিম। বিমান থেকে নামার পর ইমিগ্রেশনে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয় মাদকদ্রব্য বহনের। বলা হয় তার ব্যাগে এক হাজার মাদক ট্যাবলেট আছে। তাকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়।

একই অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় আরেক নাইজেরিয়ান তরুণী জয়নাব আলিওকে (২২)। মাকে নিয়ে হজ করতে সৌদিতে আসেন এই শিক্ষার্থী। তার কাছ থেকেও উদ্ধার করা হয় বেশ কিছু নিষিদ্ধ ট্যাবলেট।

কারাগারে নেওয়ার পর ইব্রাহিমকে মুক্তি দেওয়া হয় ৯৩ দিন পর। আর জয়নাব মুক্তি পান ১২২ দিন পর। 

সম্প্রতি এ নিয়ে মুখ খুলেছেন ইব্রাহিম এবং জয়নাব। নাইজেরিয়ান গণমাধ্যম ডেইলি ট্রাস্টকে ইব্রাহিম বলেন, পবিত্র হজ্বের জন্য সৌদিতে পৌঁছান তিনি। এর আগে নাইজেরিয়ার আমিনু কানো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। তার ব্যাগে কেবল তিন সেট কাপড় এবং এক কপি কোরান শরিফ ছিল। তার ব্যাগে সামান্য জিনিস দেখে তিনি আরও কিছু জিনিস এর মধ্যে ঢুকিয়ে দেন। ফলে সৌদিতে পৌঁছেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয় তার ব্যাগে এক হাজার মাদক ট্যাবলেট আছে। এ সময় গ্রেপ্তারের পর বুঝতে পারেন আব্দুল কাদির নামের ওই ব্যক্তি তার অজান্তে আসলে মাদক ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। 

ইব্রাহিম জানান, জীবনে কখনও জেল খাটেননি তিনি। এটি ছিল তাঁর কাছে দুঃস্বপ্ন। কারাগারে তাঁর সঙ্গে আরও ছিল সৌদি, পাকিস্তানি, ইয়েমেন, বাংলাদেশি এবং অন্যান্য দেশের কয়েদি। কেননা, এসব দেশের নাগরিকরা তার ভাষা বোঝে না, আর তিনিও বোঝেন না তাদের ভাষা।

ইব্রাহিম বলেন, 'আমি ছিলাম তাদের মধ্যে একমাত্র নাইজেরিয়ান। অন্যরা ছিল সৌদি, পাকিস্তানি, ইয়েমেনি, বাঙালি এবং অন্যান্য দেশের নাগরিক। তারা সবাই আরবি বলতে পারেন। আমিই একমাত্র যে সেই ভাষা বুঝতাম না। সুতরাং আমাদের মধ্যে ভাষা একটি প্রধান বাধা ছিল।'

কারাগারের ভেতরের অবস্থা প্রসঙ্গে ইব্রাহিম বলেন, 'সেখানে সৃষ্টিকর্তাই আমাদের রক্ষা করেছেন। নইলে অন্য কিছু ঘটতে পারতো। কারাগারে আমি পেট ভরে খাবার খেতে পারতাম না। কারণ সেখানে খাবার পর্যাপ্ত নয়। তাছাড়া, আমি সেসব খাবার খেতে অভ্যস্ত নই।' তিনি দেশটির কারাগারে কয়েদিদের নিরাপত্তায় প্রয়োজন ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। কেননা, তাঁর দাবি, এরকম খারাপ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল না তার।

একই ঘটনার শিকার হতে হয়েছিল জয়নাবকে। তাকেও কারাগারে যেতে হয়। অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে জয়নাব বলেন, নিজেকে সান্ত্বনা দেওয়ার কোনও ভাষা নেই। সৌদি কর্মকর্তারা যখন তাদের হোটেল কক্ষে ঢোকেন তিনি তখন তার মায়ের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। এ সময় মাদক রাখার অভিযোগ নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

সূত্র : লেজিট 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা