kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

গর্ভধারণ পরীক্ষক ব্যাঙ!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৭ মে, ২০১৯ ০৯:২৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গর্ভধারণ পরীক্ষক ব্যাঙ!

আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির আশপাশের দেশগুলোতে (সাব-সাহারান এলাকা) ছিল বিশেষ এক জাতের নখওয়ালা ব্যাঙ। এর নাম জেনোপস। এ প্রাণী নিখুঁতভাবে গর্ভধারণ পরীক্ষা করতে পারে।

সাব-সাহারার পানিতে লাখ লাখ বছর ধরে শান্তিতেই বাস করছিল এই ব্যাঙ। কিন্তু হঠাৎ ১৯৩০-এর দশকে ব্রিটিশ এক বিজ্ঞানী তাঁর জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটিয়ে দিলেন। জেনোপস নামের এই ব্যাঙের শরীরে তিনি ইনজেকশনের মাধ্যমে মানুষের মূত্র ঢুকিয়ে দিলেন।

ল্যান্সলট হগবেন নামের এ প্রাণিবিজ্ঞানীর কাজই যেন ছিল বিভিন্ন প্রাণীর শরীরে নানা রকমের জিনিস, বিশেষ করে হরমোন ঢুকিয়ে দেওয়া। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল, এর ফলে ওই প্রাণীর শরীরে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া ঘটে, সেটি লক্ষ্য করা। ঠিক একই ধরনের আরেকটি পরীক্ষার পর তিনি আবিষ্কার করে ফেললেন যে এই ব্যাঙের ভেতরে প্রেগন্যান্সি হরমোন ঢুকিয়ে দিলে সেটি ডিম পাড়তে শুরু করে। শুধু তা-ই নয়, আজকের দিনে ভাবলে খুব অবাক হতে হয় যে ওই জেনোপস ব্যাঙ নির্ভুলভাবে ফলাফল বলে দিতে পারত।

পরীক্ষাটি ছিল এ রকম, নারী জেনোপস ব্যাঙের চামড়ার নিচে ইনজেকশনের মাধ্যমে নারীর মূত্র ঢুকিয়ে দেওয়া হতো। পাঁচ থেকে ১২ ঘণ্টা পর দেখা হতো ব্যাঙটি ডিম পেড়েছে কি না। ডিম পাড়লে নিশ্চিত হওয়া যেত যে ওই নারী গর্ভবতী।

প্রেগন্যান্সি টেস্ট এখন খুব সহজ ও সাধারণ একটি বিষয়। একজন নারী ঘরে বসে একটি স্টিক দিয়েই জেনে নিতে পারেন তিনি গর্ভধারণ করেছেন কি না। কিন্তু কয়েক দশক আগেও এই কাজটা এতটা সহজ ছিল না।

মরেন সাইমন্স নামের এক নারী বলছিলেন, ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি এই ব্যাঙের সাহায্যে কিভাবে তাঁর প্রেগন্যান্সি টেস্ট করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “আমার মাথায় এ দৃশ্য এখনো পরিষ্কার গেঁথে আছে। একজন ডাক্তার আমার কাছে এসে বললেন, ‘আপনি গর্ভবতী হয়েছেন, ব্যাঙটা ডিম পেড়েছে।’”

সাধারণ লোকজনের জন্য এই জেনোপস টেস্ট ব্যবহার করা হতো না। শুধু জরুরি চিকিৎসাতেই এই পরীক্ষাটা করা হতো। যেমন আসলেই ভ্রূণের মতো কোনো কিছুর জন্ম হচ্ছে নাকি তৈরি হচ্ছে টিউমার, সেটা নির্ণয় করতে জেনোপস টেস্ট করা হতো। ব্রিটেনের অল্প কিছু হাসপাতালের ল্যাবে এই জেনোপস পরীক্ষা করা হতো।

চিকিৎসা-ইতিহাসবিদ জেসে ওলসজিংকো-গ্রিন বলেন, আধুনিককালে এই টেস্টকে খুব অদ্ভুত মনে হতে পারে, কিন্তু ১৯৩০-এর দশকে এটা ছিল খুব বড় ধরনের ঘটনা। আজ যেমন বাড়িতে পরীক্ষা করেই বোঝা যায় কেউ সন্তানসম্ভাবনা কি না, তখনো এই টেস্ট অনেকটা সে রকমই ছিল।

১৯৭০-এর দশকেই বাড়িতে বসে প্রেগন্যান্সি টেস্টের উপায় বের হয়। এর পর থেকেই জেনোপস ব্যাঙ ফিরে গেল তার শান্তিপূর্ণ জীবনে। সূত্র : বিবিসি।


খবরটি ইউনিকোড থেকে বাংলা বিজয় ফন্টে কনভার্ট করা যাবে কালের কণ্ঠ Bangla Converter দিয়ে

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা