kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

আজব রীতি! বর থাকে বাড়িতে, বিয়ের অনুষ্ঠানে পাত্রের ভূমিকায় বোন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ মে, ২০১৯ ১৮:৩৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আজব রীতি! বর থাকে বাড়িতে, বিয়ের অনুষ্ঠানে পাত্রের ভূমিকায় বোন

বাংলায় প্রবাদ রয়েছে, যার বিয়ে তার খবর নাই, পাড়াপড়শির ঘুম নাই। সেই প্রবাদই যেন সত্যি হয়ে গেছে ভারতের গুজরাটের ছোট উদয়পুর জেলার তিনটি গ্রামে। তবে ‘পাড়াপড়শি’র জায়গায় সেখানে ঘুম ছুটে যায় পাত্রের বোনের। 

জানা গেছে, ওই গ্রামে বিয়ের আসরে বর নিজেই হাজির থাকে না। তার প্রতিনিধি হিসেবে পুরো বিয়ের আচার-অনুষ্ঠান পালন করেন বোন। যদি কারো বোন না থাকে, সে ক্ষেত্রে গ্রামের অবিবাহিত কোনো তরুণীর কাঁধে সেই দায়িত্ব চাপে। 

বহু বছর ধরে সেই রীতি পালন করে আসছেন গ্রামের লোকেরা। তাদের ধারণা, এই রীতি না মানলে সংসার জীবনে নানা অশান্তি এবং বিপদের মুখে পড়তে হয়।

সুরকেধা, সানন্দা, অম্বলের মতো আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামে বিয়ে মানেই এমন ‘বরহীন’ অনুষ্ঠান। বিয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বরের কোনো ভূমিকা থাকে না। ওই সময় শেরওয়ানি-পাগড়ি পরে বরের বেশে মায়ের সঙ্গে বসে থাকেন বাড়িতে। তবে সে সময় তার হাতে তলোয়ারও থাকে।

অন্যদিকে বরযাত্রীদের সঙ্গে করে নিয়ে গিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানে কনেকে সিঁদুর পরানোর কাজও করেন বরের বোন। সাত পাক ঘোরা-সহ যাবতীয় বিয়ের আচারও সারেন তিনি।

দাম্পত্য জীবন সুখের করতে এবং সংসারে নানা বিপদ, অশান্তি যেন না আসে, সেজ্যন এ ধরনের আয়োজন ওই সব গ্রামে হয়ে থাকে। কয়েকজন এই রীতি ভাঙার চেষ্টা করেছিলেন; গ্রামবাসীদের দাবি, তাদের সংসারে নিত্য কলহ লেগে থাকার পর বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। সে কারণে আর ঝুঁকি নেন না অন্যরা।

গ্রামের মাতব্বররাও সেই রীতিও পক্ষে। সেখানকার একজন মতব্বর সুরকেধার ‘মুখিয়া’ রামসিংহভাই রাঠোয়া বলেন, বেশ কয়েকবার কিছু লোক এই নিয়ম ভঙের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তাদের জীবনে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে বা সংসার সুখের হয়নি অথবা অযাচিতভাবে কোনো বিপদ নেমে এসেছে।

পুরোহিতদের বক্তব্য, ব্যতিক্রমী এই প্রথা আদিবাসীদের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। স্মরণাতীত কাল থেকেই এই রীতি চলে আসছে। তবে একটা গল্পগাঁথা প্রচলিত আছে এই এলাকায়। এলাকার আদিবাসীদের বিশ্বাস, তাদের আরাধ্য দেবতা চিরকুমার ছিলেন। তাই পাত্রকে বিয়ের আসরে হাজির না করে এবং বাড়িতে রেখে দিয়ে এলে বিয়ে সুখের হয়। সেই আরাধ্য দেবতাকেই তারা সম্মান জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা