kalerkantho

সোমবার । ২৪ জুন ২০১৯। ১০ আষাঢ় ১৪২৬। ২০ শাওয়াল ১৪৪০

প্রেগনেন্সি পরীক্ষা করতে পারে যে ব্যাঙ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৫ মে, ২০১৯ ২১:৩৫ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



প্রেগনেন্সি পরীক্ষা করতে পারে যে ব্যাঙ

আফ্রিকার সাব-সাহারান এলাকাগুলোতে জেনোপস নামে বিশেষ এক জাতের নখওয়ালা ব্যাঙ ছিলো। ওই এলাকার পানিতে লাখ লাখ বছর ধরে শান্তিতেই বাস করছিল ব্যাঙটি। কিন্তু হঠাৎ করেই, ১৯৩০ এর দশকে, ব্রিটিশ এক বিজ্ঞানী তার জীবনে বড়ো ধরনের এক পরিবর্তন ঘটিয়ে দিলেন।

ল্যান্সলট হগবেন নামের এক প্রাণীবিজ্ঞানী জেনোপস নামের এই ব্যাঙটির শরীরে ইনজেকশন দিয়ে মানুষের মূত্র ঢুকিয়ে দিলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল এর ফলে ওই প্রাণীর শরীরে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া ঘটে সেটা লক্ষ্য করা।

ঠিক এই একই ধরনের আরেকটি পরীক্ষার পর, অনেকটা দুর্ঘটনাবশতই, তিনি আবিষ্কার করে ফেললেন যে এই ব্যাঙের ভেতরে প্রেগনেন্সি হরমোন ঢুকিয়ে দিলে সেটি ডিম পাড়তে শুরু করে দেয়। শুধু তাই নয়, ওই জেনোপস ব্যাঙ নির্ভুলভাবে ফলাফল বলে দিতে পারতো।

পরীক্ষাটির পদ্ধতি ছিল এরকম যে, নারী জেনোপস ব্যাঙের চামড়ার নিচে ইনজেকশনের মাধ্যমে নারীর মূত্র ‍ঢুকিয়ে দেওয়া হতো। ৫ থেকে ১২ ঘন্টা পর দেখা হতো ব্যাঙটি ডিম পেড়েছে কিনা। ডিম পাড়লে নিশ্চিত হওয়া যেত যে ওই নারী গর্ভবতী।

মরেন সাইমন্স নামের এক নারী জানান, ১৯৬০ এর দশকের মাঝামাঝি এই ব্যাঙয়ের সাহায্যে কীভাবে তাঁর প্রেগনেন্সি টেস্ট করা হয়েছিল।

বিবিসিকে তিনি বলেন, আমার মাথায় এই দৃশ্যটা এখনও পরিষ্কার গেঁথে আছে। অন্তত দুবার, একজন ডাক্তার আমার কাছে এসে বললেন, আপনি গর্ভবতী হয়েছেন। কারণ হিসেবে তাঁরা জানান ব্যাঙটা ডিম পেড়েছে।

চিকিৎসা-ইতিহাসবিদ জেসে ওলসজিঙ্কো-গ্রিন বলেন, আধুনিক কালে এই টেস্টটিকে খুব অদ্ভুত মনে হতে পারে, কিন্তু ১৯৩০-এর দশকে এটা ছিল খুব বড় ধরনের ঘটনা। আজকে যেমন বাড়িতে পরীক্ষা করেই বোঝা যায় কেউ সন্তানসম্ভবা কিনা, তখনও এই টেস্ট অনেকটা সেরকমই ছিল।

গ্রিন আরো বলেন, আপনি নিজেকে ১৯৩০ এর দশকে নিয়ে যান, তখন বুঝতে পারবেন, কারণ সেসময় কেউ গর্ভধারণ করেছেন কিনা সেটা বোঝার উপায় ছিল না। এ নিয়ে কথাও বলা যেত না। সংবাদপত্রে প্রেগনেন্সি শব্দটাই লেখা যেত না। এটা এতোটাই জীববিজ্ঞানের বিষয় ছিল। ছিল অভদ্রতাও।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

মন্তব্য