kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

ধর্ষণ-খুন থেকে মেয়েদের রক্ষায় 'গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল' বনে গেলেন ময়লার গাড়ির চালক

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৫ মে, ২০১৯ ১৭:২৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধর্ষণ-খুন থেকে মেয়েদের রক্ষায় 'গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল' বনে গেলেন ময়লার গাড়ির চালক

মাইকেল মাকরিদিস এবং ধর্ষণের পর খুন হওয়া ইসরায়েলি শিক্ষার্থী আইয়া মাসারুই

জানুয়ারিতে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর খুন হন ইসরায়েলি শিক্ষার্থী আইয়া মাসারুই। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে এ ঘটনার পর স্ত্রী-কন্যাদের জন্যে রাস্তাটাকে নিরাপদ করতে এগিয়ে এলেন একজন ময়লা টানা ট্রাকের চালক। তিনি হয়ে উঠলেন 'গার্ডেন অ্যাঞ্জেল'। নিউ ইয়র্ক শহরের রাস্তায় রাস্তায় গ্যাং কালচারের অপকর্ম ঠেকাতে 'গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেলস'  নামের গ্রুপটি ১৯৭৯ সালে গড়ে ওঠে। এবার মেলবোর্ন অধ্যায় শুরু করলো সেই গ্রুপ। ৫৩ বছর বয়সী ময়লার গাড়ির চালক মাইকেল মাকরিদিস নিশ্চিত করতে চান, যেন মানুষ বাড়িতে ফেরার আগে খুন না হয়ে যান। 

মেলবোর্নের উত্তরের শহরতলী অংশে গত দুই মাস ধরে প্রতিদিন এবং প্রায় প্রতিটি রাত তিনি রাস্তা পাহাড়া দিয়ে চলেছেন। এমন টহলের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো রাস্তাগুলোকে অপরাধমুক্ত করা এবং সমাজের মানুষগুলোকে নিরাপত্তা দেয়া। 

গত জানুয়ারির ১৬ তারিখে আইয়া একটা কমেডি শো দেখে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। পরদিন সকালে তার অর্ধউলঙ্গ দেহ একটা শপিং সেন্টারের কাছেই মেলে। জানা যায়, এই শিক্ষার্থীর শেষ চলাফেরা ঘটেছিল বান্দুরার ট্রামলাইনে দিয়ে রুট ৪৬-এ। বর্তমানে মাকরিদিস এই অংশে নিয়মিত টহল দিয়ে থাকেন। 

তিনি বলেন, সিসি ক্যামেরা থাকার পরও মেলবোর্নের ট্রামে নারীরা যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। প্রত্যেকের বাড়ি ফেরা বা যেখানে খুশি যাওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পাওয়াটা অধিকার। এর মাঝে যৌন হয়রানির শিকার হওয়া কিংবা খুন হয়ে যাওয়া কোনো স্বাভাবিক বিষয় হতে পারে না। 

গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেলস এর সদস্যরা কোনো অস্ত্র ছাড়াই রাস্তা পাহাড়া দেন। তাদের মাথায় বিশেষ লাল বেরেট, গ্রুপের নাম লেখা ছাপা সাদা টি-শার্ট পরা থাকে। অপরাধ দমনের এই দলটি ব্রিসবেনের লোগানেও পৌঁছে গেছে। সেখানে এড হর্নেরি মাদকাসক্তদের নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছেন। মাদক গ্রহণের কাজে ব্যবহৃত জিনিসপত্র ময়লার ব্যাগে পোড়েন। 

অপরাধের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট কর্মকাণ্ড থাকা সত্ত্বেও মাকরিদিস মনে করেন, তারা আসলে অপরাধ দমন বা নজরদারি বিষয়ক কোনো টিম নন। বলেন, আমরা তেমন গ্রুপের সদস্য নই। আমরা কোনো ঝামেলায় যাই না। অপরাধীদের পিছু নেই না। আমরা কাউকে গ্রেপ্তার করতে অপারেশন চালাই না। 

তাদের কর্মকাণ্ড পুলিশের মতো নয়, তবে অপরাধ সংঘটন ঠেকানো তাদের উদ্দেশ্য। 

একটা সময় নিউ ইয়র্কের রাস্তায় ব্যাপক সক্রিয় ছিল নানা অপরাধী গ্যাং। তাদের দৌরাত্ম্য কমাতেই ১৯৭০ এর দিকে গড়ে তোলা হয় গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেলস। এর প্রতিষ্ঠাতা কার্টিস স্লিওয়া। 

এই গ্রুপের সদস্যরা যখন বিশেষ পোশাকে ঘোরাফেরা করেন, তখন মানুষ অন্তত সাহস পাবে। শহরের মানুষগুলো আশ্বস্ত হবে যে তাদের ঘিরে কোনো অপরাধ ঘটবে না। তারা সাবওয়েতে টহল দেন। তবে এই দলটিকে গ্রেপ্তার করার প্রশিক্ষণ দিয়েই মাঠে নামানো হয়েছিল। 

বর্তমানে তারা তরুণ ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে এগিয়ে যায়। তাদের ইন্টারনেট সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা প্রগ্রামও রয়েছে যার নাম সাইবারঅ্যাঞ্জেলস। 

বিশ্বে গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেলস এর চাহিদা ও জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এখন ১৩টি দেশের ১৩০টি শহরে তাদের নজরদারি করতে দেখা যায়। 
ডেইলি মেইল 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা