kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

প্লাস্টিকের বদলে কাগজের থলে ব্যবহার!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৫ মে, ২০১৯ ০৯:৩০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



প্লাস্টিকের বদলে কাগজের থলে ব্যবহার!

প্লাস্টিকের লাগামহীন ব্যবহার যে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এর ব্যবহার রোধে সারা বিশ্বেই নানা উদ্যোগের কথা শোনা যাচ্ছে। তেমনই এক কর্মসূচির কথা জানাল উগান্ডা। দেশটি কেনাকাটার জন্য প্লাস্টিকের থলের বদলে পরিবেশবান্ধব কাগজের থলে ব্যবহারের উদ্যোগ নিচ্ছে।

দৈনন্দিন কাজে উগান্ডার লোকজন ব্যাপক হারে প্লাস্টিকের থলের ব্যবহার করে থাকে। তবে রাজধানী কাম্পালার একটি রেস্তোরাঁয় ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয় ভাষায় ‘কাভিরা’ নামের প্লাস্টিক থলের বদলে এ রেস্তোরাঁয় কাগজের থলে ব্যবহার করা হয়।

রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপক ফিলিপ ডিসুজা বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত পরিবেশবান্ধব। আমরা কাভিরা ব্যবহার করে পরিবেশের ক্ষতি করতে চাই না। এটি শুধু আমাদের জন্য নয়, আমাদের সন্তান-সন্ততিদের জন্যও অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য।’

চলতি বছর উগান্ডায় কেনাকাটার জন্য প্লাস্টিকের থলে নিষিদ্ধ করার কথা চলছে। এর পরিবর্তে বায়োডিগ্রেডেবেল কাগজের থলে চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ উদ্যোগের কথা শুনে স্থানীয় নারীদের এক গোষ্ঠী কাগজের থলে বানানোর কাজে আরো উৎসাহ পাচ্ছে। স্থানীয় কলাগাছের তন্তু দিয়েই সেগুলো তৈরি করা হচ্ছে।

দেশটির অনেক খামারে কলার তন্তুকে বর্জ্য হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু নারীদের একটি অংশ তা দিয়ে কাগজ তৈরি করছে। পেপার ক্রাফট আফ্রিকা লিমিটেড কম্পানির হ্যারিয়েট নানটালে বলেন, ‘আমরা কাঁচি দিয়ে এগুলো কাটি। তারপর পানিতে ফোটাই। তারপর প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে মিশ্রণ তৈরি করা হয়। আমরা তা মণ্ডে পরিণত করি, বিশাল আধারে পানির সঙ্গে তা ঢেলে দেই। পাতলা ছাঁকনিতে সেগুলো তুলে নিয়ে পানি ঝরিয়ে ফেলি। ফলে তন্তু ওপরে থেকে যায়। তারপর র‌্যাকে ঝুলিয়ে সেগুলো শুকানো হয়।’

কমপক্ষে ছয় ঘণ্টা রোদে শুকানোর পর সেটি শক্ত কাগজে পরিণত হয়। নারীরা সাবধানে সেই কাগজ কাজে লাগিয়ে একাধিক পণ্য তৈরি করে। সাধারণ কাগজ থেকে শুরু করে কেনাকাটার থলে, বই ও গ্রিটিং কার্ড ইত্যাদি তৈরি হয়। হ্যারিয়েট নানটালে বলেন, ‘গত বছর কানাডায় রপ্তানির জন্য আমরা প্রায় পাঁচ হাজার কার্ড তৈরি করেছিলাম। তারপর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রায় দুই হাজার কার্ড তৈরি করা হয়। নানা রকম মানুষ এখানে এসে পণ্য দেখে কিছু অর্ডার দেয়। আমরা উৎপাদন করে তা পাঠিয়ে দিই।’ 
সূত্র : ডয়চে ভেলে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা