kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

বিশেষজ্ঞ মত

নীতির ধারাবাহিকতা থাকবে, গতি আসবে সম্পর্কে

ড. দেলোয়ার হোসেন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ মে, ২০১৯ ০৮:৩৮ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নীতির ধারাবাহিকতা থাকবে, গতি আসবে সম্পর্কে

নরেন্দ্র মোদির বিজেপি আবারও সরকার গঠন করলে নীতির ধারাবাহিকতা থাকবে। বড় কোনো পরিবর্তন হয়তো আমরা লক্ষ করব না। বিশেষ করে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে তো নয়ই। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ গত জানুয়ারি মাসে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করেছে। এবার ভারতেও মোদির বিজেপিই আবার ক্ষমতায় আসছে। তাদের মধ্যে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার রাজনৈতিক সদিচ্ছা আছে। এটি কাজে লাগাতে পারলে সম্পর্কে আরো গতিশীলতা আসবে।

এই অঞ্চলে চীনের ভূমিকা ক্রমেই বাড়ছে। ভারতে শক্তিশালী সরকার ও স্থিতিশীলতা দরকার ছিল। সেদিক থেকে মোদির বিজেপির আবারও শক্তিশালী সরকার গঠন করা ভালো। তবে বিজেপি ও তার জোটের সাম্প্রদায়িকতা বা উগ্র জাতীয়তাবাদী কিছু এজেন্ডা আছে। যেমন—তারা কথিত অবৈধ অভিবাসীদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার কথা বলেছে। ভারতের জনগণের অনেকে যে এসব এজেন্ডাকে সমর্থন করেছে, তা-ও স্পষ্ট। নয়তো পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস এবং সারা দেশে রাহুল গান্ধীর কংগ্রেস এত বাজে ফলাফল করত না।

অনেক সময় দেখা যায়, রাজনৈতিক স্বার্থে অভ্যন্তরীণ কিছু এজেন্ডা থাকলেও পররাষ্ট্রনীতিতে সেগুলো তেমন গুরুত্ব পায় না বা দৃশ্যমান হয় না। কথিত অবৈধ অভিবাসীদের বিষয়টিও এখনো সে পর্যায়ে আছে। ভারত এখনো এ বিষয়কে দেশের ভেতরেই রেখেছে। কিন্তু আগামী দিনে এটি দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় নিয়ে আসার চেষ্টা করা হলে উদ্বেগের কারণ হবে।

তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়েও মোদির প্রতিশ্রুতি ছিল। এটি বাস্তবায়নে এবার তাঁর সরকার ভূমিকা রাখতে পারে। রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশ ভারতের যতটা ভূমিকা চেয়েছিল বাস্তবে ততটা পায়নি। মোদি সরকার এবার এ বিষয়েও দৃষ্টি দিতে পারে। বাণিজ্য ঘাটতি দূর করারও উদ্যোগ নিতে পারে তারা।

ভারতে বহু বছর ধরে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও শক্তিশালী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। নতুন বাস্তবতায় ভারতের জন্য বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ যেভাবে আগ্রহ দেখাচ্ছে, সেখানে ভারত এককভাবে ভূমিকা রাখার অবস্থায় নেই। শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও নেপালেও আমরা এমনটি দেখছি। আঞ্চলিক আধিপত্যবাদী হওয়ার চেষ্টা করলে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

ড. দেলোয়ার হোসেন : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক

শ্রুতলিখন : মেহেদী হাসান

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা