kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

প্রায় এক বোতল হুইস্কি গেলার পর...

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ মে, ২০১৯ ১২:৩৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রায় এক বোতল হুইস্কি গেলার পর...

জর্ডান ম্যাকগ্রাথ এখনো অনুশোচনায় ভোগেন (বামে), ডানে তার বন্ধু জুড

মাতাল অবস্থায় উচ্চগতিতে গাড়ি চালিয়েছিলেন তিনি। এ অবস্থায় সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে তারই সবচেয়ে কাছের বন্ধুর। এর জন্যে তিনিই দায়ী। দোষী সাব্যস্ত হয়ে জেল হয়েছে চালকের। তবে সেই সময়ের হৃদয়ভাঙা স্মৃতির কথা বললেন সেই মাতাল চালক। জানালেন, কিছুই মনে নেই। তবে হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পর যখন জানলাম আমি আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধুকে খুন করেছি, তখন আমার হৃদয় ভেঙে যায়। 

স্মৃতিচারণ করলেন জর্ডান ম্যাকগ্রাথ। জানালেন, তিনি আসলে ওই রাতে নিজের অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তের শিকার হয়েছিলেন। ২০১৪ সালের কথা। নিউ জিল্যান্ডের সাউথ আইল্যান্ডের কুমারাতে এক পার্টি ছিল। সেখানে হুইস্কির বোতলের এক-তৃতীয়াংশ গলায় ঢালেন জর্ডান। আর সে অবস্থাতেই গাড়ি চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। 

গাড়িতে সঙ্গী হয় দুই বন্ধু। তাদেরই একজন সেদিনের নিহত জুড হল (২৬)। ওই পার্টি থেকে ফেরার সময় উচ্চগতিতে গাড়ি ছোটান জর্ডান। গ্রেমাউথের ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫০ কিলোমিটার গতিতে গাড়ি চালনার এলাকায় তিনি ১০০ কিলোমিটারে যাচ্ছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই পিছু নেয় পুলিশ। তখন জর্ডানের বয়স ২৮। পুলিশ দেখে গতি বাড়ান। নিয়ন্ত্রণ হারানোর আগমুহূর্তে তার গাড়ি ঘণ্টায় ১৪২ কিলোমিটার বেগে চলছিল। গাড়িটা সিনেমায় দেখানো মারাত্মক দুর্ঘটনার মতোই ঘুরতে ঘুরতে আছড়ে পড়ে। রাস্তায় পর পর ৬ বার আছাড় খায় গাড়িটি। পেছনের সিটে বসে থাকা জুড ওই দুর্ঘটনায় মারা যায়। 

জর্ডানের যখন হাসপাতালে জ্ঞান ফেরে তখন তার চারপাশে বন্ধুদের দেখলেন। তারা জুডের জন্যে কাঁদছে আর জর্ডানকে বলছে 'তুমি জানো কী ঘটিয়েছো?' 

আমি আমার বন্ধুকে মেরে ফেলেছি...আমি এর জন্যে শতভাগ দায়ী...এটা খুবই ভয়ংকর। এভাবেই মনের ভাব প্রকাশ করলেন ম্যাকগ্রাথ। এর প্রভাব কেবল আপনার ওপরই পড়বে না, আপনার চারপাশের মানুষের ওপর পড়বে। আপনি তাদের ভেঙে পড়তে দেখবেন। আর তার জন্যে আপনিই দায়ী। এমন পরিস্থিতি যেন আমার শত্রুরও না হয়, তাই প্রার্থনা করি। সংবাদমাধ্যমকে এমনটাই জানালেন জর্ডান। 

সেই দুর্ঘটনার পর কয়েক সপ্তাহ হাতপাতালেই ছিলেন জর্ডান। অন্য বন্ধুটাও মারাত্মক আহত হয়েছিলেন। 

পুলিশ জানায়, ম্যাকগ্রাথের রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল ০.১৬। নিউ জিল্যান্ডের বৈধ মাত্রার প্রায় দ্বিগুন ছিল জর্ডানের রক্তে। 

যা করেছেন তা ভুলতে পারেন না জর্ডান। তিনি তার বন্ধুর ছবির দিকেও তাকাতে পারেন না। 

আমি সবসময় সবচেয়ে শক্তমনের মানুষ ছিলাম না। তবে এ ঘটনার ক্ষেত্রে আমার মাথা চিরকাল হেঁট হয়ে থাকবে। আমি এর দায়ভার নিয়েছি। আমি আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পন করেছি, জানান অনুশোচনায় ভোগা মানুষটি। 

বিচারে দোষী সাব্যস্ত হন জর্ডান। তাকে ৫ বছরের জেল দেয়া হয়। যেখানে দুই বছর কোনো জামিন মেলেনি। ম্যাজিস্ট্রেট তাকে জানান, জর্ডানকে আরো বেশি সময় জেল খাটতে হতো। তবে জুডের বাবা-মা এ বিষয়ে এগিয়ে এসেছেন। তারা জর্ডানকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। নিজ সন্তানের খুনীকে জেলে পাঠাতে নারাজ তারা। 

জুডের মা জো হল (৬২) বলেন, আমাকে যদি খুব তিক্ত বয়স্ক নারী হিসেবে মনে করেন, তবে তার পেছনে অনেক কারণ আছে। কিন্তু জর্ডানের ক্ষেত্রে আমি তেমনটা হতে চাই না। ছেলেটা আমাদের যেভাবে সম্মান দিয়েছে তা বলে বোঝানোর মতো না। সে আমার সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। বুঝতে পেরেছি সে আসলেও আমার ছেলের বন্ধু ছিল। 

২০১৬ এর শেষের দিকে জেল থেকে বের হয়ে আসেন জর্ডান। এর পর থেকে নিজেকে নতুন করে গুছিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। নিজের গল্প বলে তিনি অন্যদেরও সাবধান করতে চান। 
সূত্র: ডেইলি মেইল 

মন্তব্য