kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

৫০ শিশুর আশ্রয় ভার্জিনিয়া-ওয়ালশ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ মে, ২০১৯ ১৩:৪৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৫০ শিশুর আশ্রয় ভার্জিনিয়া-ওয়ালশ

ভার্জিনিয়া ও গ্যারি দম্পতি

কয়েক দিনের গল্প নয়, এটা চলছে গত ১৩ বছর ধরে। ভার্জিনিয়া এবং গ্যারি ওয়ালশের গল্প এটা। ইতোমধ্যে কোলের বাচ্চার শত শত নোংরা তোয়ালে বদলেছেন, ওদের নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্যে ২০টি প্রাম আর ১৫টি বিছানা কিনেছেন। তাদের ছায়ায় পিতা-মাতার মায়া-মমতায় বেড়ে উঠছে ৫০টি শিশু! 

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির পশ্চিমে এই দম্পতির বাস। একসঙ্গে সংসার জীবন কাটাচ্ছেন ৪৪ বছর ধরে। তারা যেকোনো অসহায় শিশুদের দেখভালের দায়িত্ব নেন অবলীলায়। তাদের মতে, অসহায় শিশুদের ভালোবাসা দেয়া, সহায়তা করা এবং তাদের থাকার জন্যে জায়গা দেয়াটা 'পৃথিবীর সেরা অনুভূতি'। 

ওয়ালশ হাসিমুখে বললেন, আপনার চোখের সামনে শিশুগুলো বড় হবে, তাদের দৈহিক-মানসিক বৃদ্ধি ঘটবে এবং তাদের জীবনটা সুন্দর করে শুরুর জন্যে যাবতীয় আয়োজন করে দেয়া এক অনন্য বিষয়। 

এই দম্পতির তিনটা সন্তানও রয়েছে, নিজের সন্তান। তারা একসময় বড় হলো এবং যার যার কর্মব্যস্ততা নিয়ে বাইরে চলে গেলো। এর পরই স্বামী-স্ত্রী ঠিক করলেন তারা অসহায় শিশুদের দায়িত্ব নেবেন। 

এই শিশুরা ঠিক অনাথ নয়। তবে বেড়ে ওঠার জন্যে একটা সুন্দর পরিবেশে তাদের দিতে চান অনেক বাবা-মা। আবার পেশাগত বা অন্য কোনো কারণে বাবা-মায়ের হয়তো সন্তান পালন করার পরিস্থিতি থাকে না। আবার দুজন অবকাশে গেলেও বাচ্চাকে দায়িত্বশীল কারো হাতে রেখে যেতে চান। আর এসব শিশুদের দেখভাল থেকে শুরু করে বড় করার দায়িত্বও নিতে প্রস্তুত থাকেন অনেকে। ভার্জিনিয়া আর ওয়ালশ তেমনই এক জুটি। মূলত শিশুরা তাদের পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার বা স্থায়ী অভিভাবকের কাছে যাওয়ার আগ পর্যন্ত জরুরি অবস্থা, অবকাশকালীন এবং স্বল্পমেয়াদে তারা দুজন শিশুদের দায়িত্ব নিয়ে থাকেন। 

ভার্জিনিয়ার বয়স ৬৩ বছর। জানান, শিশুরা কত সময়ের জন্যে তাদের সঙ্গে আছেন তা কোনো বিষয় নয়। কিন্তু এদের আদর-যত্ন দেয়ার কাজটি তারা দারুণ উপভোগ করেন। 

তারা যখন চলে যায়, আমরা তখন কান্নাকাটি করি। এ কাজটি করতে আমাদের খুবই ভালো লাগে। শিশুদের সহায়ক হয় এমন যেকোনো কাজ করতে ভালোবাসি আমরা, বলেন ভার্জিনিয়া।  

শিশুদের এমন ছায়া দিতে তারা শত বছর বাঁচতে চান। তাদের মতে, এই কাজটি মানুষকে ফিট রাখে, তারুণ্য ফুরোতে দেয় না। এ কাজ আপনার মুখে সবসময় হাসি ফুটিয়ে রাখবে। 

অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় পরিবার সপ্তাহ চলবে ২১ মে পর্যন্ত। সেখানে এই দম্পতির মতো অনেক মানুষের প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে। মূলত শিশুদের দেখভালের জন্যে ফস্টার কেয়ার এজেন্সি থাকে। তাদের মাধ্যমে আগ্রহীরা শিশুদের দায়িত্ব পেয়ে থাকেন। 

অস্ট্রেলিয়ার ওয়েলথ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার জানায়, ২০১৮ সালের জুনে দেশটিতে ৪৫ হাজার ৭৫৬টি শিশু বাড়ির বাইরে অন্যের যত্নআত্তিতে ছিল। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৩৮৭ জন শিশুই ছিল নিউ সাউথ ওয়েলসে। কারণ, সেখানে শিশুর সংখ্যা একেবারে কম। তাই সেখানকার দম্পতিদের ফস্টার কেয়ারে আগ্রহী করে তোলা হয়। বিপদগ্রস্ত শিশুদের জন্যে সবসময়ই কোথাও না কোথাও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা থাকা উচিত। 

অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডপ্ট চেঞ্জের প্রদান নির্বাহী রিনি কার্টার বলেন, পরিবারের নানা আকার ও আকৃতি হয়। যদি কারো পক্ষে তার পরিবারে আরো এক-দুজনকে জুড়ে নেয়া সমস্যা না হয়ে থাকে, তবে এতে দুনিয়ার চিত্রটাই বদলে যেতে পারে। তবে ইচ্ছে থাকলেও অনেকের পক্ষে তা সম্ভব হয়ে ওঠে না। কারণ, জীবনযাপনের ব্যয় অনেকটা বেড়েছে। আবার অনেকের বাড়িতে নতুন সদস্যের জন্যে আরেকটা কক্ষ তৈরি করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।    

আসলে কোথাও পরিপূর্ণ পরিবার নেই। শিশুরা পুরোপুরি একা হয়ে গেছে। কিন্তু আমরা সবাই জানি যে শিশুদের যত্ন দরকার, বলেন রিনি। 

অনেক সমস্যার মাঝেও ফস্টার কেয়ার ব্যবস্থা টিকে রয়েছে। আর সেখানে আছেন ভার্জিনিয়া-ওয়ালশের মতকো দম্পতি। 
সূত্র: দ্য এজ 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা